সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সালাহউদ্দিনের দেশে ফেরা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছে পরিবার

ছয় বছরের বেশি সময় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে আটকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। সেখানে পরিবার-পরিজনহীন নিঃসঙ্গ জীবন তার। ব্যবসা কিংবা রাজনীতির ব্যস্ততাও নেই। সরকারবিরোধী আন্দোলনে দলের সংকটকালে অজ্ঞাত স্থান থেকে বিবৃতি দিয়ে আলোচিত এই নেতাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দলের পক্ষ থেকে নেই কোনো জোরালো উদ্যোগ। তাকে ফেরাতে উদ্যোগ নেই সরকারেরও। এমন অবস্থায় বিএনপির এই নেতার দেশে ফেরা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছে পরিবার।

প্রচার আছে, বিএনপির এই নেতার বিরুদ্ধে ডজন দুয়েক মামলা থাকায় দেশে ফেরার পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। বিভিন্ন মামলায় ইতিমধ্যে তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে। তবে তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পুলিশ নয়, দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে সালাউদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে তারা হতাশ, অসহায়। কারও সাহায্য পাচ্ছেন না। ভারতের আদালতে করা আপিল পড়ে আছে। শারীরিকভাবে অসুস্থ সালাহউদ্দিন শিলংয়ে ইবাদত-বন্দেগি আর বই পড়ে সময় কাটান বলে জানায় তার পরিবার।

অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের মামলায় শিলং আদালত থেকে বেকসুর খালাস পান সালাহউদ্দিন। এরপর দেশে ফিরে আসতে সেই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন; কিন্তু অজ্ঞাত কারণে দেশে ফেরার অনুমতি পাচ্ছেন না তিনি।

আবার ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফেরানোর মতো আসামি নন বিএনপির এই নেতা। তাই দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচনা ও সম্মতির মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরতে হবে বলে জানান পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও কোনো অগ্রগতি নেই বললেই চলে।

সব আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি

ঘরের অভিভাবককে দেশে ফিরিয়ে আনতে না পেরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে সালাহউদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের। বিশেষ করে তার শারীরিক অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় বেশি উদ্বিগ্ন তারা।

ব্যক্তিজীবনে চার সন্তানের জনক সালাহউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে হার্ট ও কিডনি সমস্যায় ভুগছেন। শিলংয়ে অবস্থানকালে তার কিডনি ও মূত্রথলিতে অপারেশন হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদবলেন, আসলে নতুন কোনো তথ্য নেই। ও (সালাউদ্দিন) দেশে ফেরার জন্য আপিল করেছিল। সেটা ওভাবেই পড়ে আছে। আমাদের তো কোনো ক্ষমতা নেই। অগ্রগতি না হলে আমরা কী করব! আমরা তো অসহায়। এখন আর কোনো কিছু আশা করি না। সব আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।

সালাহউদ্দিনের অনুপস্থিতিতে তাদের জীবনযাপন নানা দিক দিয়ে ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে হাসিনা আহমেদ বলেন, কোনোভাবে আল্লাহ চালায় নিচ্ছেন। গ্রামে কিছু জমি-জমা আছে সেগুলো দিয়ে চলতেছি।

তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হয় কি না জানতে চাইলে হাসিনা আহমেদ বলেন, যখন ভালো লাগে যোগাযোগ করে। ইদানীং বেশি অসুস্থ হয়ে গেছে। এখন সব আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছে। কাউকে কিছু বলার নেই… আল্লাহ যদি সহায় হন তাহলে ইনশাল্লাহ উনি দেশে আসবেন। সালাহউদ্দিন আগে যেখানে ছিলেন, জামিনের পর সেখানেই আছেন বলে জানান তিনি।

সালাহউদ্দিনকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছেন কি না জানতে চাইলে হাসিনা আহমেদ বলেন, যোগাযোগ করে লাভ নেই। শুধু শুধু কোথায় কার কাছে যাব?

ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিয়াজোঁ

পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিদেশ থেকে আসামি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশ ইন্টারপোলের সহায়তা নিয়ে থাকে। বিদেশে লুকিয়ে থাকা কোনো আসামির অবস্থান শনাক্ত করতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়। এক্ষেত্রে এনসিবি (ইন্টারপোল), ঢাকা সংশ্লিষ্ট দেশের ইন্টারপোলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে।

কিন্তু সালাহউদ্দিন আহমেদকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি ভিন্ন বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। বলেন, এখানে কাজ করছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা লিয়াজোঁর মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ পুলিশ এখানে সম্পৃক্ত নয়।

সালাউদ্দিনের নামে ২৭ মামলা

বিএনপির এই নেতার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ২৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালে অবরোধের সময় বেশ কয়েকটি মামলা হয়। বিস্ফোরক দ্রব্য, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও হত্যার অভিযোগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় তিনটি, বিস্ফোরক আইন ও হত্যার ঘটনায় রামপুরা থানায় দুটি, বিস্ফোরক আইন ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার ঘটনায় ভাটারা থানায় দুটি এবং হত্যা ও বিস্ফোরক আইন ও হত্যার ঘটনায় কুমিল্লায় আরও দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

যেভাবে শিলংয়ে সালাহউদ্দিন

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালের শেষের দিকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন উত্তাল, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনেকে জেলে, কেউ কেউ আত্মগোপনে, তখন দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন তখনকার যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

পরের বছর ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি সামনে রেখে আবার সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামে বিএনপি ও ২০ দল। টানা অবরোধ কর্মসূচির সময় গ্রেপ্তার এড়াতে সালাহউদ্দিন অজ্ঞাত স্থান থেকে গণমাধ্যমে পাঠাতেন দলের বিবৃতি ও ভিডিও বার্তা। বেশ কিছুদিন এভাবে চলার পর ওই বছরের ১০ মার্চ রাতে ঢাকার উত্তরা এলাকার একটি ভবন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে একদল অস্ত্রধারী তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। নানাভাবে বিএনপি ও তার পরিবারের সদস্যরা চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার সন্ধান দিতে পারেনি।

নিখোঁজের দুই মাস পর ১২ মে মেঘালয়ের রাাজধানী শিলংয়ের একটি রাস্তা থেকে মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। তখন তিনি দাবি করেছিলেন, কে বা কারা সীমান্ত পার করে তাকে শিলংয়ে রেখে গেছে। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা হয়। সাড়ে তিন বছর পর ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর মামলার রায়ে বেকসুর খালাস পান তিনি। তবে পাসপোর্ট ও ভিসা না থাকায় তাকে ভারতেই অবস্থান করতে হয়।

নিখোঁজ হওয়ার সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ পরে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মেয়াদে চারদলীয় জোট সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি। সূত্র : ঢাকাটাইমস

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: