সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

কবে ও কীভাবে থামবে করোনা?

নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা এখনো পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত নন সামনে কী অপেক্ষা করছে কিংবা মানুষের জীবনযাত্রা কবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে, গোটা দুনিয়া এখন স্তব্ধ। একের পর এক দেশ ক্রমান্বয়ে লকডাউন হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে আছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কোটি কোটি মানুষ গৃহবন্দি অবস্থায় দিন পার করছে। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত, ভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে হলে মানুষকে শারীরিকভাবে একে অন্যের দূরে রাখতে হবে। সেটা হতে পারে কয়েক মাস কিংবা বছরের বেশি সময়ের জন্য।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অর্জনই আসল

যখন বিশ্বের যথেষ্ট পরিমাণ জনগোষ্ঠীর শরীর এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিকভাবে প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করবে, তখনই সার্স-কভিড-১৯ তার ক্ষমতা হারানো শুরু করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ভাইরাসের প্রতিরোধে বিশ্বের সমস্ত জনসংখ্যার ২ দশমিক ৫ থেকে ৫ বিলিয়ন কিংবা দুই-তৃতীয়াংশের শরীরে এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হতে হবে। এখন সেটি হতে পারে দুটি উপায়ে। প্রথমত যারা এরই মধ্যে কভিড-১৯ থেকে সেরে উঠেছে তাদের প্রতিরোধক্ষমতা ভাইরাসকে রুখে দিতে পারে এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে ভ্যাকসিন নেয়ার মাধ্যমে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করা।

নতুন সংক্রমণ কমিয়ে আনা

কভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে। ৩৫টির মতো কোম্পানি ও একাডেমিক ইনস্টিটিউশন এরই মধ্যে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও এটি পুরোপুরিভাবে তৈরি হতে বেশ কয়েক মাস, এমনকি বছরের বেশি সময়ও লাগতে পারে। এ সময়ের মধ্যে সংক্রমণের হার কমিয়ে রাখাটাই মূল বিষয়। বিশেষ করে নতুন সংক্রমণ বাড়তে না দেয়া, যাতে করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে না পারে।

তবে সংক্রমণের মাত্রা একবার কমে আসা মানেই সেটি একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়াও নয়। জন হপকিনস সেন্টারের এপিডেমিওলজিস্ট কেইলিটন রিভার্স বলেন, আমরা যদি এখন আগের অবস্থায় ফিরে যাই, তবে সংক্রমণ পুরোদমে ফের শুরু হবে। যে কারণে ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ কৌশলকে বাঁচার সর্বোত্তম উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পরীক্ষার গুরুত্ব

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে শুরু করে করোনা নিয়ে গবেষণারত প্রতিষ্ঠানগুলো বারবার পরীক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ শুরু থেকেই পরীক্ষা চালিয়েছে। যার ফলে তারা আক্রান্তদের শনাক্ত করে আলাদা করে ফেলতে পেরেছে।

এছাড়া অনেক বেশি পরীক্ষার ফলে জানা যাবে কারা কভিড-১৯ থেকে সেরে উঠেছে। তারা যদি নিরাপদ হয়, তবে চাইলে কাজেও ফিরতে পারে।

শেষটা কি দৃশ্যমান?

পরিসংখ্যান বলছে, কয়েক সপ্তাহ কঠোরভাবে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার পর চীনের হুবেই প্রদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কভিড-১৯-এর প্রকোপ বিদায় নিতে শুরু করেছে। এসব অঞ্চলে নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে সংক্রমণের মাত্রা। মূলত পুরোপুরিভাবে শহরকে লকডাউন করে লোকজনকে ঘরবন্দি করে ফেলা, এক শহর থেকে অন্য শহরে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ফলে এটি সম্ভব হয়েছে। এমনকি এ সময় রাস্তায় বের হওয়াও বন্ধ করে দেয়া হয়।

উহান বাদে (যেখানে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল) হুবেই প্রদেশের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারীরা এখন চাইলে শহর ত্যাগ করতে পারে। সবকিছু ঠিকঠাকমতো এগোতে এবং রোগীর সংখ্যা আরো কমতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে আরো অনেক নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতে থাকবে। যদিও কর্মকর্তারা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছেন।

যদিও হুবেই থেকে পাওয়া এ আশার আলো সবার জন্য প্রযোজ্য না-ও হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ গতিতে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা এখনো বলতে পারছেন না কবে এটি কমতে শুরু করবে। আপাতত কোনো কোনো দেশের সফলতা এবং ওয়াশিংটনের মতো শহর কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। যেখানে আক্রান্তের ঘটনা ঘটতে থাকলেও আগের চেয়ে বেশ শ্লথ হয়ে এসেছে। যার জন্য দূরত্ব বজায় রাখার নীতি মেনে চলাকে সাধুবাদ দেয়া হচ্ছে।

মহামারীর এ ঊর্ধ্বগতিতে রাশ টেনে আনা খুব একটা সহজ নয়। এটি নির্ভর করছে হাজারো মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর। দূরত্ব বজায় রেখে চলার এ নিয়ম সারাজীবনের জন্য আরোপ করে রাখা সম্ভব নয়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ লাভ করতে হলে শারীরিক ও মানসিক দুই স্বাস্থ্যের ওপর মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন।

তবে অতি দ্রুত গা-ছাড়া দেয়া মনোভাব দেখালে তার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। বলেছেন ইউনিভার্সিটি অব ইডাহোর সেন্টার ফর রেজিলিয়েন্ট কমিউনিটিসের ডিরেক্টর লিলিয়ান এলিসা। তিনি সুনিশ্চিতভাবে সম্মত না হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: