fbpx

সর্বশেষ আপডেট : ৪০ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৩১ মে ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

নিউ ইয়র্কবাসীরা ভালো নেই

ভালো নেই নিউইয়র্কের লোকজন। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে যে নগরের লোক পুষ্পের হাসি হেসেছে, তাদের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশার বাণী এখন উপহাস হতে পারে। নিউইয়র্ক নগরের মানুষের মনের আকুতি প্রকাশ পাচ্ছে মেয়র বিল ডি ব্লাজিওর কথায়। স্পন্দনহীন নগরের বিমর্ষ মেয়রের আকুতি, প্রতিটি দিন এখন গণনার, কথা নয়, অ্যাকশনের সময় এখন।

মেয়র বলেছেন, অঙ্গরাজ্যে নয়, নগরেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ২৩ মার্চ সোমবার সকালে ১২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

মৃত্যুর মিছিল রাজ্যে এক দিনে বেড়ে গিয়ে ১৫২ জনে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি এতই নাজুক যে কারাবন্দীদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য কুখ্যাত রাইকার্স আইল্যান্ড কারাগারে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি। দ্রুত ৭৫ জন কারাবন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আরও ২০০ জনকে দ্রুতই ছেড়ে দেওয়া হবে বলে মেয়র জানিয়েছেন।

এ সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়বে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেল আগাম আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, পরিস্থিতি নাজুক হবে ঠিকই। তবে কম নাজুক করার আমরা চেষ্টা করছি। মাস, দুই মাস নয়, এর আগেই আমেরিকার এ বদ্ধ অবস্থা খুলে যাবে। দ্রুতই অর্থনীতির চাকা সচল হবে বলে আশাবাদের কথা নাগরিকদের শুনিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথার সুরও পাল্টে গেছে। আগে চায়না ভাইরাস বললেও সোমবার বলেছেন করোনাভাইরাসে ছড়ানোর জন্য এশিয়ানরা দায়ী নয়। এশিয়ান লোকজন ভালো এবং তাদের তিনি ভালোবাসেন।

লকডাউনে নিউইয়র্কে অবরুদ্ধ লোকজন ঘরে বসে বেশি করে খারাপ সংবাদই পাচ্ছেন। সোমবার বিকেলেই অন্তত দুজন বাংলাদেশির মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা এলাকায়। জ্যামাইকা থেকে আমাদের প্রতিনিধি হেলিম আহমেদ জানান, একজন নারী আইনজীবীর ৬৯ বছর বয়সী বাবা দুই সপ্তাহ হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে থাকার পর সোমবার সকালে মারা যান। প্রথমে তাঁর মেয়ে নারী আইনজীবী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্য বাবাকে সংক্রমিত করে। নারী আইনজীবী সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

মারা যাওয়া এ বাংলাদেশির দেশের বাড়ি মৌলভীবাজারে। জ্যামাইকা থেকে আমাদের প্রতিনিধি জাহিদা আলম নিশ্চিত করেছেন, সোমবার সন্ধ্যায় জ্যামাইকা হিল এলাকায় এক বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু হয়েছে। ১৪ থেকে ৪ বছর বয়সের তিন সন্তানের জননী ৩৫ বছর বয়সের এ নারী জ্যামাইকা এলাকায় গ্রোসারি এবং অন্যান্য শপিং ছাড়া কোথাও ভ্রমণ করেননি বলে পরিবার জানিয়েছে। তাঁর বাড়ি মুন্সিগঞ্জে।

নগরীর উডহ্যাভেন এলাকা থেকে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার রহমান মাহবুবই একমাত্র ভালো সংবাদ দিতে পেরেছেন সোমবার সন্ধ্যায়। মাহবুব জানান, কুইন্সের হাওয়ার্ড বিচ এলাকার ৪২ বছর বয়স্ক জন গিয়ারাটানো। তাঁর জ্বর বেড়ে ১০৩ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে উঠে যায়। এর পরদিন সকালে তিনি হাওয়ার্ড বিচের আর্জেন্ট কেয়ারে যান। সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীরা তার ফ্লু বা নিউমোনিয়া হয়েছে বলে জানান।

গত বৃহস্পতিবার রাতে দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস ঘন হতে থাকে গিয়ারাটানোর। কাশি শুরু হয়। ১৫ মার্চ গিয়ারাটানোর শ্বাসনালি দিয়ে পাইপ ঢোকানো হয়। তাঁর শ্বাস নিতে সাহায্যের প্রয়োজন হয়। ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে তা করা হয়। তাঁর শ্বাসযন্ত্রে ইনফেকশন হয়েছিল। ভেন্টিলেটর ব্যবহারের পর থেকে ইনফেকশন আরও বাড়তে থাকে। দ্রুত অবস্থার অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকেরা তখন তাঁকে অ্যান্টিভাইরাস ওষুধ দেন। গিয়ারাটানোর টেস্ট যে ল্যাবে হচ্ছিল, তা নিউজার্সিভিত্তিক। গিয়ারাটানোর নমুনা পাঠানো হয় নর্থ ক্যারোলাইনার একটি ল্যাবে।

১৯ মার্চ বিকেলে জানানো হয়, গিয়ারাটানো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। সেদিন গিয়ারাটানোকে রিমডেসিভির নামের ওষুধ দেওয়া হয়। ওষুধটি গিলয়াড সায়েন্সেস উদ্ভাবন করেছে। ইবোলা ভাইরাসের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় এ ওষুধ। গিয়ারাটানোর অবস্থা গত বৃহস্পতিবারে সংকটপূর্ণ ছিল। তবে অবনতি আর হয়নি। গিয়ারাটানোর ডোমেস্টিক পার্টনার জোপেনিক জানান, তাঁর অবস্থা এখন আশাব্যঞ্জক। ভালো হয়ে উঠছেন।

কোলাহলের নগর নিউইয়র্কে জননিরাপত্তায় নিযুক্ত এনওয়াইপিডির ১০০ জনের বেশি কর্মকর্তা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি কর্মকর্তা রয়েছেন। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা অন্তত তিনজন বাংলাদেশি এনওয়াইপিডি সদস্যের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে। সবাই হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। কারও অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন বলে জানা যায়নি। এর মধ্যে ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত একজনের কাছে থেকে নাজুক সব পরিস্থিতির সংবাদ পাওয়া গেছে। সোমবারে ম্যানহাটনের হাসপাতালে তাঁর শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেলে রোগী হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁকে বাসায় সেলফ কোয়ারেন্টিনে, চলে যেতে বলা হয়।

হাসপাতাল থেকে নিয়মিত তাঁর অবস্থা মনিটর করা হবে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেই কেবল হাসপাতালে ভর্তি করা হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। তাঁকে বাস, ট্রেনের মতো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আক্রান্ত ট্রাফিক সদস্য উবার, ট্যাক্সি নিয়ে কুইন্সে তাঁর বাসায় ফিরতে চেয়েও ব্যর্থ হন। কেউ তাঁকে রাইড দেয়নি। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকে যোগাযোগ করেও বাসায় ফেরার জন্য কেউ তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। সবাই আতঙ্কিত। পরিস্থিতি এতই নাজুক যে হাসপাতালের অপেক্ষমাণ কক্ষে পাঁচ ঘণ্টা বসে থাকতে হয়েছে তাঁকে।

২২ মার্চ রবিবার অ্যাস্টোরিয়া এলাকায় একজন প্রবাসী হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। মৃতদেহ গোসল করানোর জন্য পরিবারের কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। নিউইয়র্কে বাফেলো থেকে আমাদের প্রতিনিধি আসিফ মোক্তাদির জানান, নগরীর দুজন পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে ভাইরাসে সংক্রমণ পাওয়া গেছে। বাফেলোতে বসবাসরত স্বদেশিরা উদ্বেগউৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।

মিশিগান থেকে ফারজানা চৌধুরী জানান, এ অঙ্গরাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যু ঘটেছে। রাজ্যের গভর্নর ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত নাগরিকদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

নিউইয়র্ক নগরেসোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কুইন্সে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৬২১, ব্রুকলিনে ৩ হাজার ৪৯৪, ম্যানহাটনে ২ হাজার ৩৭২, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে ৮১৭ জন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রায় দুই হাজারের মধ্যে ৫০০ জনের বেশি আক্রান্তের অবস্থা নাজুক বলে জানানো হয়েছে। এদের ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। পুরো আমেরিকার ৬০ শতাংশ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এখন নিউইয়র্কে। গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো জানিয়েছেন, রাজ্যের ৭৮ হাজারের বেশি লোকজনকে এর মধ্যেই পরীক্ষা করা হয়েছে। এক রাতেই করা হয়েছে ১৬ হাজারের বেশি লোকজনকে।

নিউইয়র্ক নগরের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও জানান, তাঁর হাতে আর মাত্র এক সপ্তাহের চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত আছে। মেয়র মরিয়া হয়ে উঠেছেন সাহায্যের জন্য। ফেডারেলকে সহযোগিতা ত্বরান্বিত করার আকুতি জানিয়েছেন। এর মধ্যেই ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা ম্যানহাটনের জ্যাকব জাভিট সেন্টারে হাসপাতাল নির্মাণ শুরু করেছেন। সোমবার রাতেই নির্মাণ সরঞ্জাম এসে পৌঁছেছে। হাসপাতালটি চালু হতে এক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে বলে রাজ্য গভর্নর কুমো জানিয়েছেন। এখানে ২৫০ বেডের ব্যবস্থা নিয়েই চালু হবে, যা দ্রুততার সঙ্গে এক হাজার বেডে পরিণত করা হবে। রাজ্য গভর্নর বলেছেন, আমরা চেষ্টা করছি এ ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালকে দুই হাজার বেডে পরিণত করার। ফেডারেল সরকারকে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

মার্চ মাস থেকে এপ্রিল মাসে পরিস্থিতি আরও নাজুক হবে বলে অঙ্গরাজ্য ও নগর নেতারা নাগরিকদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। এর মধ্যে জরুরি শনাক্তকরণ কিট দ্রুততার সঙ্গেই বাজারে আসছে বলে জানানো হয়েছে, যা ৪৫ মিনিটের মধ্যে ফলাফল দিতে পারবে। যদিও ভাইরাসটির প্রতিষেধক নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো কিছু নেই। কলেরা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ইবোলা ভাইরাসের ওষুধ দিয়ে নানা ধরনের পরীক্ষামূলক চিকিৎসা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমতি নিয়েই এসব ওষুধের ব্যবহারে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে বলেও সংবাদমাধ্যম প্রচার করছে।

লকডাউন নিউইয়র্কে বাংলাদেশিরা কেমন আছেন, কতটা উৎকণ্ঠায় আছেনএসব জানিতে গিয়ে এ প্রতিবেদককে পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় কয়েকজন প্রবাসীদের সঙ্গে। ব্রংকসে বসবাস করা সৈয়দ উতবা জানালেন, তিনি নগরীর একটি জরুরি বিভাগে কাজ করেন। স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলেও নিজে কাজের জন্য বাইরে যাচ্ছেন। ঘরে ফিরে নিজেকে পৃথক রাখছেন। ব্রংকস থেকে মনীষা দত্ত জানালেন, তিনি সেনসাসে কাজ করছেন। ঘর থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে টিভি দেখে দুঃসংবাদ দেখছেন। বাংলাদেশে পরিবার, স্বজনকে নিয়ে উদ্বিগ্ন এ স্বদেশি বললেন, ইচ্ছে হচ্ছে দেশে চলে যাই। কবে হবে এ অবস্থার অবসান? নিজেও জানেন এর কোনো উত্তর কারও কাছে জানা নেই।

জামাইকায় বসবাস করেন একটি মেডিসিন কোম্পানিতে কর্মরত রওশন হক। তিনি বলেন, উদ্বেগউৎকণ্ঠা নিয়েও কাজে যেতে হচ্ছে। ঘরে থাকা স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে উদ্বেগে রয়েছি। অ্যাস্টোরিয়া থেকে মনিজা রহমান জানালেন, নগরীর স্কুল সিস্টেমে তাঁকে ঘরে বসেই কাজ করতে হচ্ছে। সন্তানদের নিয়ে নিউইয়র্কের ঘরের বন্দিজীবন বেশ কঠিন বলেই জানালেন তিনি। কুইন্সে বসবাসরত এডুকেটর এইচ বি রিতা জানালেন, তিনিও ঘরে বসে নগরীর বিশেষায়িত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন। নগরী থেকে শিক্ষার্থীদের আইপ্যাড দেওয়া হয়েছে, অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম চালানো হচ্ছে। জ্যামাইকা থেকে লেখিকা সেলিনা আখতার জানালেন, তিনি এয়ারলাইনসে কাজ করেন। এয়ারপোর্ট বন্ধ, ঘরে থাকার নির্দেশ। একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ঘরে আছেন, শান্ত থাকার জন্য মেডিটেশন করছেন এবং অন্যদের যতটা সম্ভব এ সংকটে শান্ত থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলার পরামর্শ দিচ্ছেন। সব সময় বাইরের কাজে ব্যস্ত থাকা গীতিকার ইশতিয়াক রূপু জানালেন, গৃহবন্দিত্বের যন্ত্রণা সহজ নয়। নিজে স্থির থাকার চেষ্টা করছেন। এ সংকটে নতুন কোনো গান রচনা করতে পারছেন না বলে জানালেন।

অ্যাস্টোরিয়া থেকে মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস জানালেন, দেশে পঁচাত্তর সালের ১৫ আগস্টের পর সরকার উৎখাতের হুলিয়া নিয়ে আত্মগোপনের চেয়েও কঠিন মনে হচ্ছে এ স্বেচ্ছাঅবরোধের জীবন। কুইন্স থেকে ভাইলা সালিনা জানালেন, সবার জন্য কঠিন এ সময়ে নিজের অসুস্থ বাবার দেখভাল করাসহ নিজের ও স্বজনদের নিয়ে তাঁর দুশ্চিন্তা বেড়েছে। সবার জন্য, নিজের জন্য দোয়া করছেন বলে জানালেন। জামাইকায় বসবাসরত আবদুশ শহীদ জানালেন, ১৫ দিন ধরে তিনি ঘরের বাইরে যাননি। তাঁর শরীরে অন্য জটিলতা থাকার কারণে ডাক্তারের পরামর্শে তাঁকে জীবনের কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে বলে জানালেন।

২৪ মার্চ সোমবার মধ্যরাত থেকে নিউইয়র্ক নগরীতে দেখা যাচ্ছে শুধু পুলিশের গাড়ি। সাইরেন বাজিয়ে অ্যাম্বুলেন্স যাচ্ছে। ভয়ার্ত নাগরিকেরা অ্যাম্বুলেন্সের বাতি দেখে জানালার ফাঁক দিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন, গাড়িটি কোনো তল্লাটে থামছে। কোনো বিল্ডিং থেকে আতঙ্কের ভাইরাস করোনা আক্রান্ত কয়েকজনকে উঠিয়ে নিচ্ছে। এখন সড়ক, জনপদ খাঁ খাঁ। মাঝেমধ্যে গাড়ির যান্ত্রিক আওয়াজ, সাইরেনের শব্দযেন এক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে শান্তির নগরী নিউইয়র্কের লোকজন। কেউ জানে না, এ যুদ্ধের পরিণতি কী?

লং আইল্যান্ড এলাকায় একজনকে খাবার সরবরাহ করতে গেছেন শাহ আহমদ। সোমবার রাতে জানালেন, ভুতুড়ে নগরী মনে হচ্ছে কোলাহলের নগরীকে। উজ্জ্বল আলো বড় ফিকে লাগছে, মন্তব্য করলেন। এর শেষ হবে কবে? কবে কাজে ফিরে যাবএমন প্রশ্ন করলেন এ রিপোর্ট ফাইল করার মুহূর্তে নতুন আসা অভিবাসী সিরিল হাসান। জানালেন, জ্যাকসন হাইটসে তাঁর সামনেই রাত সাড়ে নয়টার সময় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বন্দুক ধরে তিন যুবক গাড়ি থামিয়ে এক নারীর সবকিছু নিয়ে গেছে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। দুর্যোগ মহামারি, লকডাউন, কর্মহীনতা, দোকানপাট, হোটেল রেস্টুরেন্ট, ব্যবসা-বাণিজ্যের ধসে পড়ার এ সময়ে সারা বিশ্বের মতো নিউইয়র্কের নাগরিকদেরও বিমর্ষ প্রার্থনা চলছে।

সবাই বলছে, দিন ফিরবেই। এ কথা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তবে শুধু স্বস্তি পাচ্ছেন না প্রশ্নকারীরা।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: