সর্বশেষ আপডেট : ৮ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

করোনায় সরকারের ৫ ভুল

বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪ জন এবং এদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে সবথেকে নেতিবাচক দিক হচ্ছে, করোনা পরীক্ষার হার অত্যন্ত কম। এখন পর্যন্ত পাঁচশর বেশি মানুষের পরীক্ষা করা হয়নি। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সন্দেহভাজন প্রত্যেক নাগরিককে যত শীঘ্রই সম্ভব পরীক্ষার উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আর মনে করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশ কিছু ভুলের কারণে করোনা সংকটের আষ্ঠেপৃষ্ঠে নিজেদেরকে জড়িয়ে ফেলছে এবং করোনা সঙ্কট বাংলাদেশের সামনে একটি গভীর সঙ্কট হিসেবে উপস্থিত হচ্ছে। করোনা মোকেবেলায় বাংলাদেশ সরকার অনেকগুলো ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু যে পাঁচটি ভুল করেছে, সেই ভুলের কারণে এখন বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ বিস্তৃতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই ভুলগুলো হলো-

১. বিদেশ ফেরতদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন না করা

বিদেশ থেকে যারা বাংলাদেশে ফিরেছে, তাঁদের ব্যাপারে সরকার যথেষ্ট নমনীয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং এটা করা উচিৎ হয়নি বলেই মনে করছেন চিকিৎসক আর বিশেষজ্ঞরা। যেমনভাবে উহান ফেরত প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছিল, তেমনিভাবে প্রত্যেক বিদেশ ফেরতদেরকে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন করা উচিৎ ছিল বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে যে হোম কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছিল, তা অধিকাংশ বিদেশ ফেরতরা না মানার ফলে বাংলাদেশে এই করোনার ঝুঁকি বেড়েছে। এই ভুলটির মাশুল সরকারকে দিতে হতে পারে অনেকে মনে করছেন।

২. হোম কোয়ারেন্টাইন কার্যকরের ব্যর্থতা

বিদেশ ফেরতদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, কিন্তু এটা শুধুমাত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একার কাজ না। এর সাথে অন্যান্য মন্ত্রণালয় যেমন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আরো কিছু মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ সংশ্লিষ্ট। আর এখানে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল এবং সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে হোম কোয়ারেন্টাইন বাস্তবিকে কার্যকর হয়নি। এই ব্যর্থতার কারণেই আমরা করোনার বড় ঝুঁকিতে পড়েছি। এই হোম কোয়ারেন্টাইন কার্যকর করতে ব্যর্থতা সরকারের একটি বড় ভুল বলে মনে করছেন চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা।

৩. ঢাকার বাইরে পরীক্ষার ব্যবস্থা না করা

এখনো করোনার যে পরীক্ষা, সেই পরীক্ষা শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক। ঢাকার বাইরে করোনা শনাক্তের কোন পরীক্ষার ব্যবস্থা এখনো করা হয়নি। এটিও একটি বড় ভুল বলে মনে করছেন চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা। কারণ যারা ইতালিসহ ইউরোপ থেকে ফিরেছেন, তাঁরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছেন। এই কারণে অবিলম্বে তাঁরা এবং তাঁরা যাদের সংস্পর্শে এসেছে, তাঁদের পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী।

৪. আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের অভাব

আমরা দেখছি যে, করোনা আতঙ্কের শুরু থেকে এটিকে মনে করা হচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একক বিষয়। শুধুমাত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একার উপর ছেড়ে না দিয়ে এ ব্যাপারে আন্তমন্ত্রণালয়ের সমন্বয় প্রয়োজন ছিল এবং এখন পর্যন্ত এই সমন্বয়ের অভাব দৃশ্যমান হচ্ছে।

৫. চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের আগাম প্রশিক্ষণ না দেয়া

করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে, কিন্তু করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে হবে কিভাবে, তাঁদের পরীক্ষা করতে হবে এবং নিজের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা কিভাবে রক্ষা করতে হবে ইত্যাদি বিষয়গুলো যদি ঠিকঠাকভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হতো তাহলে এখন এই জটিলতাগুলো তৈরি হতো না। আর এই প্রশক্ষিণের অভাব সরকারের আরেকটি অন্যতম ভুল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সকলেই মনে করছে যে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা অনেক তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত। বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবায় বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক দেশ থেকেই এগিয়ে। আর এই কারণে করোনা মোকাবেলায় এই ভুলগুলো কাটিয়ে উঠে করোনা প্রতিরোধে সফল হবে সরকার।সুত্র : বাংলা ইনসাইডার




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: