সর্বশেষ আপডেট : ৪০ মিনিট ৯ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

আমলারা গিলে ফেলছে সরকারকে?

একটি মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রী আছেন। কিন্তু সেই মন্ত্রণালয়ের সচিব সব ক্ষমতার উৎস। সচিবের নির্দেশ ছাড়া মন্ত্রণালয়ে কোনো কার্যক্রমই পরিচালিত হতে পারে না। সব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সচিবকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। ঐ মন্ত্রণালয় চালাচ্ছেন মূলত সচিব।

আরেকটি মন্ত্রণালয়ের দৃশ্য। সেই মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রী আছেন। কিন্তু সেখানে সচিব অত্যন্ত ক্ষমতাবান। নীতিনির্ধারনী বিষয়গুলোতে সচিবের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত কথা। মন্ত্রীও সচিবের পরামর্শ ছাড়া কোনো কাজ করেন না। এগুলো দুটি মন্ত্রণালয়ের দৃশ্য। কিন্তু তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর আমলারা যেন আরও ক্ষমতাশালী হয়ে উঠছেন। আমলানির্ভর একটি সরকার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মন্ত্রণালয়ের সচিবরা মন্ত্রীদের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতাবান। সচিবরাই সব সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।

শুধু চাকরিতে থাকা নয়, অবসর গ্রহণের পরেও সচিবরা রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ পদবি বাগিয়ে নিচ্ছেন। কয়েকদিন আগেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন এস এম গোলাম ফারুক। তিনি সিনিয়র সচিব হিসেবে অবসরে যান। অবসরে যাওয়ার পরপরই তিনি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্যপদে যোগ দিয়েছেন। অথচ এটি একটি সচিব পর্যায়ের পদ। নিজের পদাবনতি ঘটিয়েও তিনি আরেকটি চাকরি বাগিয়ে নিয়েছেন। জনপ্রশাসনের সিনিয়র সচিবও একই পথে হেঁটেছেন। অবসর গ্রহণের পরপরই তিনি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অবসরে যাওয়া জ্যেষ্ঠ সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে অবসর নেওয়া সাজ্জাদুল হাসান অবসরের পরপরই বিমানের চেয়ারম্যান হয়েছেন।

এখন বিভিন্ন সরকারী আলংকারীক পদগুলো যেগুলো শিক্ষাবিদ বা বিশেষজ্ঞদের জন্য বিভিন্ন সময় সংরক্ষিত ছিলো, সে পদগুলো দখল করছেন আমলারা। বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকও আমলাদের পকটস্থ। আমলারা অবসরের পর কোন পদ পদবি খুঁজছেন। যে পদ পদবিতে থেকে তারা সরকারেরও ঘনিষ্ঠ হতে পারেন আবার নিজেদেরও সামাজিকভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন। আগে যে সমস্ত পদগুলো রাজনৈতিক বিবেচননায় দেওয়া হতো বিভিন্ন শিক্ষাবিদ এবং সুধীজনদের, সেই পদ এখন আমলাদের দখলে চলে গেছে।

তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনায় এসে মন্ত্রিসভা গঠনে চমক দেখায়। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং অরাজনৈতিক ব্যক্তিরাই মন্ত্রিসভার বড় অংশজুড়ে জায়গা পেয়েছেন। এ সমস্ত মন্ত্রীরা সিদ্ধান্তগ্রহণের জন্য হয় প্রধানমন্ত্রী, নাহলে আমলাদের ওপর তাকিয়ে থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর নানারকম ব্যস্ততা রয়েছে। এজন্য সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে তারা যেতেও পারেন না। এজন্য তাদের ভরসা হলো আমলারা। একটি মন্ত্রণালয়ের একজন সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হয়েছে। ওই মন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার পর ওই মন্ত্রণালয়ের পুরো কর্তৃত্বই যেন ওই সচিবের হাতে এসে পড়েছে। আমলাদের ওপর এই অতিনির্ভরতার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বাংলা ইনসাইডার পেয়েছে অনেকগুলো কারণ।

প্রথমত; মন্ত্রীরা নবীণ। তারা মন্ত্রণালয়ের কাজ সম্পর্কে অনভিজ্ঞ। আর এই সুযোগটি নিয়েছে আমলারা। তারা মন্ত্রীদের বিভিন্ন কাজ এবং বিভিন্ন কাজের গতিপ্রকৃতি এবং কীভাবে বিভিন্ন কাজ করতে হবে, সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারণা দিচ্ছেন। সে অনুযায়ী কাজ করার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে মন্ত্রীদের। যে কারণে মন্ত্রীরা আমলাদের বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন।

দ্বিতীয়ত; সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, শুদ্ধি অভিযান ইত্যাদি কারণে মন্ত্রীরা একটু কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন এবং ভয়ভীতির মধ্যে রয়েছেন। তারা কোনো বিতর্কে জড়াতে চান না। এজন্য সিদ্ধান্তগ্রহণে আমলানির্ভর হয়ে পড়ছেন তারা। আমলারা যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সেটাই তারা মাথা পেতে নিচ্ছেন।

তৃতীয়ত; যে সমস্ত আমলারা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন, তারা সবাই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়েই তারা বেশি পরিচিত হচ্ছেন। যার ফলে যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা মন্ত্রীর চেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছেন।

চতুর্থত; একটি মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী থাকলেও পুরো মন্ত্রণালয় পরিচালিত হয় আমলাদের দ্বারাই। আমলাদের মূল নেতা হলেন একজন সচিব। কাজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীকে পাশ কাটানো বা মন্ত্রীকে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া অনেক সহজ হচ্ছে। এসব কারণেই তৃতীয় মেয়াদে দেখা যাচ্ছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের যাবতীয় সিদ্ধান্তগ্রহণের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন আমলারা। আমলাদের এই সিদ্ধান্তগ্রহণের কারণে সরকারের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীগুলো প্রায়ই উপেক্ষিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে অনেকে মনে করেন যে, যারা মন্ত্রী হিসেবে আছেন, তাদের ব্যক্তিত্ব ও দক্ষতার উপরই অনেক কিছু নির্ভর করে। অনেকগুলো মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরাই মন্ত্রণালয় পরিচালনা করছেন। সেখানে আমলারা মন্ত্রীদের অধীনস্থ কর্মককর্তা হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন যে, আমলাতন্ত্র জেঁকে বসার প্রধান কারণ হলো, মন্ত্রীদের অদক্ষতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের দ্বিধা এবং নানারকম ভয়ভীতি। এ কারণেই তৃতীয় মেয়াদে আমলারা মোটামুটি গিলে ফেলেছে সরকারকে। এর নেতিবাচক দিক হিসেবে যেটা লক্ষ্যনীয়, সেটা হলো বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি শ্লথ হচ্ছে এবং সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই আমলাতন্ত্রের ফলে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এখান থেকে উত্তরণের একটা পথ খুঁজে বের করতে হবে বলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

উল্লেখ্য যে, তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করা শুরু করেছিলেন। সেখানে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্যও রাখছিলেন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে যে, প্রধানমন্ত্রী যদি এই ধারাটি অব্যাহত রাখতেন। তাহলে সরকারের ওপর আমলারা এভাবে চেপে বসতে পারতো না। এরকমভাবে যদি প্রধানমন্ত্রী সব জায়গাগুলোতে তদারকি করেন তাহলেও আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্ব কিছুটা খর্ব হয় বলে মনে করা হচ্ছে।সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: