সর্বশেষ আপডেট : ৮ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

দেশে দেশে করোনা, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা

দেশে দেশে করোনায় মানুষ যেমন আতঙ্কিত, তেমনি বাংলাদেশের মানুষের আতঙ্ক সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে। পাশাপাশি নতুন আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে করোনাভাইরাস। কারণ ঢাকার যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ ২৫টি দেশ করোনা ভাইরাসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। যদিও বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। যেখানে ইতোমধ্যে বিশ্বের অন্তত ৯৭টি দেশে করোনা রোগীর সন্ধান মিলেছে।

তথ্যমতে, শুধু জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেই দেশে সড়কে প্রাণ হারিয়েছে ১০১০ জন। যাদের মধ্যে নারী, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ রয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যমতে, জানুয়ারি মাসে ৫৩১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১১৪১ জন।

অপরদিকে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নিয়মিত মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে দেশে ৩৮৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৬৩ জন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৯৪৮ জন।

গত ৬ মার্চ ২০ ঘণ্টায় দেশের ৯ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে শুক্রবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, কুমিল্লা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও পঞ্চগড় জেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আহতও হন অনেকে।

সূত্রানুযায়ী গত বছরের ডিসেম্বর মাসের তুলনায় জানুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনার হার ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়েছে। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৬১ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৯ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে এবং ২১ দশমিক ২৮ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে হয়েছে ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ, চট্টগ্রাম মহানগরে ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।

জানুয়ারিতে সড়কে ১৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ বাস, ২৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস, ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ২০ দশমিক ৩১ শতাংশ মোটরসাইকেল, ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ১২ দশমিক ২১ শতাংশ নছিমন-করিমন ও লেগুনা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এর মধ্যে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৫৯ দশমিক ১৩ শতাংশ, মুখোমুখি সংঘর্ষ ১৮ দশমিক ০৭ শতাংশ, খাদে পড়ে গেছে ১৭ দশমিক ৭০ শতাংশ, চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ, ট্রেনের ধাক্কায় শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং অন্যান্য কারণে ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ফেব্রুয়ারিতে দুর্ঘটনার হার কিছুটা কমেছে। এ মাসে দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন পথচারী নিহত হয়েছেন। যা মোট নিহতের ২৯ শতাংশ। বাসযাত্রী-৩৯, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোর যাত্রী ৩৪, ট্রাক ও পিকআপভ্যান যাত্রী ২৫, থ্রি-হুইলার যাত্রী ১১২ জন এবং অন্যান্য যানবাহনের ১১ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫১ জন। দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ৩২৯ জন, যা মোট নিহতের ৭১ দশমিক ০৫ শতাংশ। এরমধ্যে আঞ্চলিক সড়কে ২৩৬টি (৬১ শতাংশ) এবং মহাসড়কে ১৫১টি (৪৫ শতাংশ) দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ধরন পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে ৭৮টি। যা মোট দুর্ঘটনার ২০ দশমিক ১৫ শতাংশ। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বা উল্টে দুর্ঘটনা হয়েছে ৮৬টি। যা মোট দুর্ঘটনার ২২ দশমিক ২২ শতাংশ। সাইড দিতে গিয়ে ৬০টি, যা মোট দুর্ঘটনার ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৩৬টি। যা মোট দুর্ঘটনায় ৩৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। অন্যান্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৭টি। যা মোট দুর্ঘটনার ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় দায়ী যানবাহনের সংখ্যা ৫৮৪টি। বাস-৮৭, ট্রাক ও পিকআপ-১০৪, কাভার্ডভ্যান-২১, লরি ও ট্রাক্টর-১৪, কার ও মাইক্রোবাস-৪৩, মোটরসাইকেল-১০২, বাইসাইকেল-১৩, রিকশা-২৮, নসিমন-করিমন-আলমসাধু-মাহেন্দ্র-১১৭, সিএনজি-ইজিবাইক-৩৮, ট্রলি-৪ ও অন্যান্য যানবাহন ১৩টি।

এদিকে করোনায় চীনে ৩ হাজার ৭০ জন মারা গেছেন। চীনের বাইরে বিভিন্ন দেশে মৃত্যু হয়েছে ৪৭০ জনের। করোনায় প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে মক্কার মসজিদুল হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববী প্রতিদিন এশার নামাজের এক ঘণ্টা পর থেকে ফজরের নামাজের এক ঘণ্টা আগ পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশের বিভিন্ন মসজিদেও শুক্রবার প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ সারাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আহ্বানে এই দোয়া করা হয়।

বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। মোনাজাতে বিশ্বের সব দেশকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের আরোগ্য কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কের দুর্ঘটনা রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। সড়কে যেসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটে তা খুঁজে বের করে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। আইনের প্রয়োগও যথাযথ দরকার বলে মত সংশ্লিষ্টদের। পাশাপাশি বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে করোনার বিস্তারে খারাপ ফল হতে পারে বলে মত অনেকের। তাদের মতে করোনার বিস্তার ঠেকাতে আগে থেকেই সতর্ক থাকা উচিত। সরকারের পাশাপাশি জনগণকে সচেতনতা বিস্তারে এগিয়ে আসতে হবে।

করোনাভাইরাসে এরইমধ্যে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে ৯৬ হাজার ৭৭৯ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া ৫৩ হাজার ৯৭২ জন চিকিৎসা শেষে পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে এই রোগে মৃত্যুর হার ৩.৪ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সর্বশেষ এ তথ্য জানায় বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

বিশ্বজুড়ে ৮৭টি দেশ ও অঞ্চলে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। জাপানে নোঙ্গর করা প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের ৭০৬ যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৬ জন। অপরদিকে জাপানের বিভিন্ন স্থানে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩১ এবং মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।

ফ্রান্সে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৮৫ এবং মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। জার্মানিতে এখন পর্যন্ত ২৬২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। স্পেনে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২২৮ এবং মৃত্যু হয়েছে ২ জনের।

যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ১৫৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ১১ জন। অন্যন্য দেশগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুরে আক্রান্তের সংখ্যা ১১২, হংকংয়ে ১০৩ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ২ জন, সুইজারল্যান্ডে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৩ , যুক্তরাজ্যে ৮৭, নরওয়েতে ৫৯, কুয়েতে ৫৬, বাহরাইনে ৫২, সুইডেনে ৫২, অস্ট্রেলিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ এবং মারা গেছে ২, মালয়েশিয়ায় আক্রান্ত ৫০, থাইল্যান্ডে ৪৩ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ১ জন।

এছাড়া তাইওয়ানে ৪২ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ১ জন, নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ৩৮, ইরাকে আক্রান্ত ৩৫ এবং ২ জন মারা গেছে, কানাডায় আক্রান্ত ৩৪, অস্ট্রিয়ায় ২৯, ভারতে ২৯, আরব আমিরাতে ২৮, আইসল্যান্ডে ২৬, বেলজিয়ামে ২৩, আলজেরিয়ায় ১৭, সান মেরিনোতে আক্রান্ত ১৬ এবং মারা গেছে ১, ভিয়েতনামে আক্রান্ত ১৬, ডেনমার্কে আক্রান্ত হয়েছে ১৫ জন।

অপরদিকে লেবাননে আক্রান্ত ১৫, ইসরায়েলে ১৫, কাতারে ৮, ওমানে ১৫, ম্যাকাউতে ১০, ক্রোয়েশিয়ায় ১০, ইকুয়েডরে ১০, গ্রিসে ৯, ফিনল্যান্ডে ৭, বেলারুসে ৬, আয়ারল্যান্ডে ৬, মেক্সিকোতে ৬, পর্তুগালে ৬, রোমানিয়ায় ৬, পাকিস্তানে ৫, সেনেগালে ৪, ফিলিপাইনে আক্রান্ত ৩ এবং মৃত্যু ১, আজারবাইজানে আক্রান্ত ৩, ব্রাজিলে ৩, জর্জিয়ায় ৩, নিউজিল্যান্ডে ৩, রাশিয়ায় ৩ এবং চিলিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩।

ইন্দোনেশিয়ায় আক্রান্ত ২, মিসরে আক্রান্ত ২, এস্তোনিয়ায় ২, সৌদি আরবে ২, হাঙ্গেরিতে ২, আফগানিস্তানে ১, আন্দোরে ১, আর্মেনিয়ায় ১, কম্বোডিয়ায় ১, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে ১, জর্ডানে ১, লাটভিয়ায় ১, লিথুনিয়ায় ১, লুক্সেমবার্গে ১, মোনাকোতে ১, মরক্কোতে ১, নেপালে ১, নাইজেরিয়ায় ১, উত্তর মেসিডোনিয়ায় ১, সান মেরিনোতে ১, সৌদি আরবে ১, তিউনিসিয়ায় ১ এবং ইউক্রেনে ১ এবং শ্রীলংকায় ১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

প্রফেসর ডা: মো. এখলাসুর রহমানের মতে, করোনা আক্রান্ত রোগী থেকে ২-১৪ দিনের মধ্যে এ ভাইরাস অন্যের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

তিনি জানান, সাধারণ সর্দি-কাশি করোনা ভাইরাস রোগ নয়। এ রোগের লক্ষণগুলো হলো- জ্বর (৯০ শতাংশ), কাশি (৮০ শতাংশ), শ্বাসকষ্ট (২০ শতাংশ), মাথা ব্যথা, গলাব্যথা এবং শরীর ব্যথা। করোনা ভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। মারাত্মক সংক্রমণের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, কিডনির অকার্যকারিতা দেখা দেয়, যা রোগীকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। শিশু এবং বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত মারাত্মক পরিণতি হবার আশঙ্কা বেশি। এই রোগ অনেকটা SARS (severe Acute respiratory syndrome) এবং Gs MERS (Middle east respiratory syndrome) রোগের মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়।

সড়কের সার্বিক বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইনসুর আলীর সাথে। তিনি বলেন, নানান কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো শ্রমিকদের ওপর চাপ থাকা। দেখা গেলো একজন শ্রমিক যখন একটা ট্রিপ নিয়ে যায় তখন তার হাতে ৪০-৫০ জন যাত্রীর জীবন থাকে। যাদের সুরক্ষার দায়িত্ব অবশ্যই চালকের। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই চালকের মাথায় একটা চাপ থাকে নির্দিষ্ট সময়ে তার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কামাই করতে হবে। যার জন্য সে সব সময় আগে যাওয়ার, বা নিয়ম ভাঙ্গার চেষ্টা করে। আর এর ফলেই বেশিরভাগ সময় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তাই সড়কে শৃঙ্খলা আনার জন্য সবার আগে চালকদের শৃঙ্খল করতে হবে। যার জন্য চালকদের যথাযথ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তাছাড়া তাদেরকে যদি নির্দিষ্ট বেতনের আওতায় নিয়ে আসা যায় তাহলেও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।

এদিকে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, মানুষের মৃত্যু বন্ধে কোনো চেষ্টা চলছে না, মানুষ মারার খেলা চলছে। নতুন আইন হয়েছে কিন্তু এর প্রয়োগ হচ্ছে না। ফিটনেস ছাড়াও বিভিন্ন গতির যানবাহন একই রাস্তায় চলছে, যথাযথভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্সও দেয়া হচ্ছে না। তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে কীভাবে?

নতুন সড়ক পরিবহন আইন হওয়ার পর বড় গাড়ির চালক-মালিকেরা দাবি করেছেন, তাদের জুন মাস পর্যন্ত ছাড় দিতে হবে। জুন মাসের পর আবার রাস্তায় যখন ম্যাজিস্ট্রেটরা নামবেন, তখন বলা হবে যে আরও ছয় মাস থেকে এক বছরের সময় দেন, আমরা এর মধ্যে করে নেব। এই তো চলছে।

আর আমাদের দেশে ফিটনেস নবায়ন হয় শুধু কাগজের। গাড়ি ঠিক আছে কি না, যন্ত্রাংশ ঠিক আছে কি না, রাস্তায় চলার উপযোগী আছে কি না, সেই পরীক্ষা হয় না। কিন্তু সারা পৃথিবীতে গাড়ি পরীক্ষানিরীক্ষা করে ফিটনেস সনদ দেওয়া হয়। এ সময় দেখা হয় গাড়িতে কোনো সমস্যা আছে কি না, সমস্যা থাকলে সেগুলো ঠিক করার পর ফিটনেস সনদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া যে প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স দেয়া হয়, সেটিও ঠিক নেই। বিশেষ করে বড় গাড়ি (ভারী যানবাহন) চালানোর লাইসেন্স সঠিকভাবে দেয়া হচ্ছে না। সারা পৃথিবীতে নিয়ম হলো, তিন বছর হালকা গাড়ি ও তিন বছর মাঝারি গাড়ি চালানোর পর বড় গাড়ি চালাবেন। কিন্তু আমাদের দেশে ১৮-২২ বছরের ছেলেরা বাস-ট্রাক চালাচ্ছে। এটা কীভাবে সম্ভব!

তার মতে, দুর্ঘটনা কমাতে হলে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। সড়কের ত্রুটি দূর করতে হবে, চালকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে, ফিটনেস ছাড়া কোনো যানবাহন রাস্তায় চলতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি পথচারীদের শিক্ষিত করতে হবে এবং সচেতন করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সড়কের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত শিক্ষা দিতে হবে, স্কুল-কলেজে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে পড়ালেখা করাতে হবে। আইনের ঠিকমতো প্রয়োগ করতে হবে। নতুন আইন হয়েছে কিন্তু প্রয়োগ হচ্ছে না। যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন আইনের প্রয়োগ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন আসবে না। এই আইন যথাযথভাবে কার্যকর ও প্রয়োগ করা হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: