সর্বশেষ আপডেট : ৫৩ মিনিট ২১ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

পাপিয়াকে নিয়ে ওয়েস্টিনের ৫ পাপ

নরসিংদী যুব মহিলা লীগের সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক পাপিয়াকে নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ১৫ দিনের রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এই জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি কাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে পাপিয়া বেড়ে উঠেছে এবং কিভাবে পাপিয়া এত বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে উঠেছে তাই নিয়েও চলছে তদন্ত অনুসন্ধান। আর পাপিয়ার এইসব অপকর্মের পেছনে কার কতটুকু দায় আছে তা নিয়ে চুলচেড়া বিশ্লেষণ করছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।

সংস্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পাপিয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষঅন্তত পাঁচটি পাপ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ধরা পড়েছে। ওয়েস্টিনে পাপিয়া ১২৯ দিন ছিলেন। ১৩-ই অক্টোবর পাপিয়া প্রথম ওয়েস্টিনে সাধারণ চারটি রুম বুক করেন এবং দুইদিন পর তিনি নিজেকে সুইট রুমে স্থানান্তর করেন। তারপর তিনি প্রেসিডেন্সিয়াল রুমে চলে যান। যে চারটি রুম বুক করেছিলেন, তাঁর একটি রুমে ছিলেন পাপিয়া এবং তাঁর স্বামী, এবং রুমটিতে ছিল তাঁর বডিগার্ডসহ কেএমজির ক্যাডাররা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই সময়ে পাপিয়া প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা নগদে ওয়েস্টিনকে পরিশোধ করেছে। শুধু তাই নয় পাপিয়া সেখানে বার এবং সুইমিং পুল ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে। এছাড়া গোয়েন্দারা অনুসন্ধানে পেয়েছে যে, প্রতিদিন পাপিয়া সেখানে আট থেকে দশ হাজার টাকা টিপস বা বকশিস হিসেবে দিতেন ওয়েস্টিনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের।

পাপিয়া কাণ্ডে যে দায় এড়াতে পারে না ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষ তাঁর পাঁচটি কারণ পেয়েছে আইনপ্রয়োগকারি সংস্থা।

প্রথমত, ১৩-ই অক্টোবর থেকে যে ১২৯ দিন অবস্থান করেছে পাপিয়া এবং তাঁর সাথে যে বিপুল পরিমাণ নারীরা অবাধে যাতায়াত করতো এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পাপিয়ার আমন্ত্রণে প্রেসিডেন্সিয়াল স্যূটে যেত, তাঁর কোন নথি, তথ্য-উপাত্ত ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষ সংগ্রহ করেনি। একটা পাঁচ তারকা হোটেলের জন্য এটা একটি গর্হিত অপরাধ।

দ্বিতীয়ত, ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষ পাপিয়ার জন্য রাত একটা থেকে বার চালু করতো এবং সেখানে পাপিয়া এবং তাঁর আমন্ত্রিত অতিথিদের আসর বসতো। যেকোন পাঁচ তারকা হোটেলের জন্য মদ বিক্রি করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স গ্রহণ করতে হয়। লাইসেন্সের অনেকগুলো শর্তের মধ্যে একটা বড় শর্ত হচ্ছে, রাত ১২ টার পর কোন বার খোলা রাখা নিষিদ্ধ এবং এইসময়ে বার খোলা রাখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া শুক্রবার এবং ধর্মীয় স্পর্শকাতর দিনগুলোতে বার বন্ধ রাখতে হবে।

তৃতীয়ত, বারে যারা মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে, তাঁরা যদি দেশি হন, তাহলে তাঁদের মদ সেবনের লাইসেন্স থাকতে হবে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষ এর একটিও অনুসরণ করেনি। এবং পাপিয়া যে ১২৯ দিন ছিল, তাঁর প্রতিটা দিনই রাত ১ টার পর হোটেলের ২৩ তলায় যে বার আছে, সেই বারে নাচের আসর বসতো। পাপিয়ার ঘনিষ্ঠরা এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের ব্যক্তিরা সেখানে আসতো এবং উদ্যাম নৃত্য এবং নানারকম অপকর্ম চলতো। কাজেই এই ব্যাপারেও পাপিয়াকে নিয়ে দায় এড়াতে পারেনা ওয়েস্টিন কর্তিপক্ষ।

চতুর্থত, পাপিয়া ওয়েস্টিনের মধ্যে শুধুমাত্র তাঁদের হোটেলের মদ নয়, এছাড়াও গাঁজাচরস-ইয়াবাসহ নানারকম অবৈধ মাদকও নিয়ে আসতো। অথচ পাঁচ তারকা হোটেলে এধরনের অননুমোদিত মাদক নিয়ে আসা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষ টাকার বিনিময়ে পাপিয়ার এধরনের মাদক সেবনের ব্যাপারটা এড়িয়ে গেছে।

পঞ্চমত, পাপিয়া এবং তাঁর স্বামী সুমন ওয়েস্টিনে ১২৯ দিন অবস্থানের সময় তাঁরা অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করতো, অথচ নিয়মানুযায়ী অস্ত্র নিয়ে পাঁচ তারকা হোটেলে প্রবেশ করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। এটা ওয়েস্টিনের মতো একটা হোটেলে কিভাবে পাপিয়াকে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে তা একটা বিষ্ময়।

এছাড়া পাপিয়া এই ১২৯ দিন অবস্থানকালে হোটেল কর্তৃপক্ষকে নগদে টাকা দিয়েছে। অথচ এত বিপুল পরিমাণ টাকা কিভাবে নগদে প্রদান করেছে তাঁর জন্য পাপিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি এবং পাপিয়ার দীর্ঘদিন রহস্যজনক অবস্থানের ব্যাপারে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রতিদিনই পাপিয়ার কাছে ভিআইপি অতিথিরা আসতো এবং শুধুমাত্র ব্যাবসায়িক দিক থেকে লাভবান হবার জন্য ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষ সেই সমস্ত তথ্য গোপন করেছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বলছে, পাপিয়ার কাছ থেকে তাঁরা আরো অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে, কিন্তু তদন্তের প্রয়োজনে সেসব তথ্য তাঁরা গোপন রেখেছে। কিন্তু পাপিয়ার উত্থান এবং পাপিয়ার অপকর্মের সঙ্গে যারা জড়িত, তাঁদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে। সূত্র : বাংলা ইনসাইডার

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: