সর্বশেষ আপডেট : ৩১ মিনিট ২২ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জাতীয় দিবস এলেই কদর বাড়ে বছরের বাকিটা সময় পড়ে থাকে অযত্নে-অবহেলায়

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

সর্বস্তরের মানুষের ফুলের শ্রদ্ধায় সম্মান দেওয়া হলেও শহীদ মিনারটি এখন শুধুমাত্র রয়ে গেছে দিবস কেন্দ্রীক। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শুধুমাত্র ব্যবহার হয় বছরের বাকি দিন গুলো পড়ে থাকে অযত্নে আর অবহেলায়।
২০১৪ সালে শহীদ মিনারের জায়গা নিয়ে সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে একটি মামলা চলমান থাকায় সংস্কার থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছে শহীদ মিনারটি। মামলা আজ পর্যন্ত নিষ্পত্তি না হাওয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।
বলছিলাম ১৯৭১সালের ৬ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত হলে ভাষা শহীদদের সম্মানার্থে ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানানো জন্য সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ডিএস রোড এলাকায় তৈরি করা হয় শহীদ মিনারটি কথা।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ মুক্তদিবসের পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করেন মুক্তিযোদ্ধারা। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও হাওরাঞ্চলেরর মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক অধিনায়ক সালেহ চৌধুরী এর নকশা করেন। বালাট সাব সেক্টরের অধিনায়ক মেজর মোতালিব ঐতিহ্যবাহী এই শহীদ মিনারটি উদ্বোধন করেন। ১৯৭১সনের ১৬ডিসেম্বর প্রথম বিজয় দিবসে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযোদ্ধা জনতা। এভাবেই সুনামগঞ্জ ডিএস রোডের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি ঐতিহ্যের অংশ হয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি সুনামগঞ্জের ঐতিহ্য ধারণ করা এই শহীদ মিনারটি প্রশাসনের উচিত সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার করা।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেখা যায়,বছরের বেশিরভাগ সময় শহীদ মিনারটি ধুলাবালি ও গাছের ঝরা পাতায় ভরে থাকে সেটি এখন আলপনার ছোঁয়ায় সুন্দর করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে। বছরের কয়েকটি দিবস ছাড়া যে শহীদ মিনারটি অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে সেই শহীদ মিনারে দেওয়া হয়েছে লাইট।
তাছাড়া শহীদ মিনারের মূল বেদিতেই বিভিন্ন জায়গা রঙ উঠে যাওয়ার পরও নেওয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। তাছাড়া পর্যটক ও বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মের কাছে এই শহীদ মিনারের ইতিহাস জানার জন্য নেই কোন সাইনবোর্ড বা ফলক। উদ্বোধনের একটি ফলক থাকলেও বর্তমানে বুঝাই দায় এই শহীদ মিনারের উদ্বোধন কে করেন এবং কত তারিখে করা হয়।
সুমন,সাজিদ,সাকিব সহ তরুন প্রজন্মের অনেকেই জানান,শুধুমাত্র ভাষার মাস আসলেই প্রশাসনের শহীদ মিনারের কথা মনে হয়। বাকি দিন গুলো ধুলাবালি এবং গাছের ঝরা পাতায় নিমজ্জিত থাকে। আমরা চাই প্রশাসন এই শহীদ মিনারের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সঠিকভাবে উদ্যোগ নেওয়ায় তাছাড়া তরুণ প্রজন্ম যেনো এই শহীদ মিনারের ইতিহাস জানতে পারে সেজন্যও একটি কার্যকারী পদক্ষেপ নেওয়া দাবী জানায়।
মুক্তিযোদ্ধা মালেক হোসেন পীর বলেন,২০১৪সালের শহীদ মিনারের জায়গার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে জজ সাহেবের নাজির। সে সময় মামলায় শহীদ মিনারের জায়গাটি বলা হয় জজ সাহেবের। কিন্তু আমরা যুদ্ধের সময় ৬ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ মুক্ত করার পর এই স্থানেই শহীদ মিনার তৈরি করা হয়। তাই আমরা এই জায়গাটি মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়ার জন্য অনেকবার অনুরোধ করেছি। পরবর্তীতে ২০১৫সালে মুক্তিযোদ্ধাদের জায়গা দেওয়ার জন্য পক্ষভুক্তি ছেয়ে একই আদালতে পিটিশন দায়ের করি। সে সময় আদালত আমার পিটিশন খারিজ করে দেয়। পরবর্তীতে ১৬-০২-২০২০সালের পুনরায় পিটিশন দায়ের করি। আমরা চাই এই জায়গাটা আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের নামে দেওয়া হোক।
শহীদ মিনারের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে আমাদের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান,জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। তিনি বলেন,যেহেতু এই জায়গার মধ্যে আদালতে মামলা চলছে তাই আমরা আমরা কিছু করতে পারতেছি না। যদি জায়গাটি মুক্তিযোদ্ধারা পেয়ে যান তাহলে সুনামগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উন্নয়নে জেলা প্রশাসন কাজ করবে।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: