সর্বশেষ আপডেট : ৫৪ মিনিট ২২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গ্রীনি, অপ্রতিরোধ্য এক স্কাউট

  • ডেইলি সিলেট ডেস্ক

মুবিন আহমেদ জায়গীরদার আমার মামা। তিনি বাংলাদেশ স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক কমিশনার। সেই শৈশব থেকে দেখে আসছি তিনি ব্যস্ত থাকেন স্কাউটিং নিয়ে। আমাদেরকে নিয়ে যেতেন স্কাউট ক্যাম্পে। তবে আমাদের সময়ের ব্যাপারে মামা অত্যন্ত সচেতন। আগে খবর নিতেন আমরা ব্যস্ত কী না। ব্যস্ত থাকলে সুযোগ পেতাম না মামার সাথে সঙ্গী হওয়ার। তারপরও চেষ্টা করতাম মামার সঙ্গী হওয়ার। মামার বন্ধুরা স্কাউটের পোষাক পড়ে যখন বাসায় আসতেন, তখন ওই দৃশ্য আমার কাছে খুবই ভাল লাগতো। মামার বন্ধুরাও আমাকে নানা প্রেরণা দিতেন স্কাউটে সংযুক্ত হওয়ার জন্য। শৈশব থেকেই আমি আকৃষ্ট হয়ে পড়ি স্কাউটিংয়ের প্রতি। মামা ও তাঁর বন্ধুদের অনপ্রেরণায় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যায়নকালীন আমার যাত্রা শুরু হয় স্কাউটিংয়ে। সাথে ছিল আমার বাবা সাংবাদিক ফারুক ইবনে আম্বিয়া আলমগীর ও মা কবি সুমা জায়গীরদারের সর্বাত্মক সহযোগিতা।

দৈনিক বায়ান্ন-এর কাছে প্রাণবন্ত ভাষায় কথাগুলো বলেছেন সিগমা আলমগীর গ্রীনি। সিলেট এর জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনে নবম শ্রেণির ছাত্রী গ্রীনি। বিজ্ঞান নিয়ে অধ্যায়ন করছে। ৫ম শ্রেণিতে গোল্ডেন এ প্লাস ও ৮ম শ্রেণিতে গোল্ডেন এ প্লাস অর্জনকারী গ্রীনি প্রতিটি ধাপেই অর্জন করে আসছে সর্বোচ্চ সফলতা। পেছন ফিরে তাকানোর সময় নেই। লেখাপড়ার পাশপাশি স্কাউটিং হচ্ছে তার জীবনের সাধনা। চূড়ান্ত সফলতায় তাকে যে যেতেই হবে।

গ্রীনির বয়স যখন তিন বছর তখন তার রঙতুলির প্রতি আকর্ষণ ছিলো। বিভিন্ন বিষয়ে অংকন করা ছিল তার নেশা। এই অবস্থায় সে ভর্তি হয় স্কুল অব আর্ট-এ। এখান থেকে ৬ বছরের কোর্স সম্পন্ন করে। অসংখ্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অর্জন করেছেন অনেক অনেক পুরস্কার, সনদ।

গ্রীনির শিক্ষা জীবন শুরু হয় সিলেটের স্কলার্স হোম থেকে। শাহজালাল উপশহরের ক্যাপটেন একাডেমি থেকে পিইসি সমাপনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে গ্রীনি। এখানে বলা আবশ্যক। স্কলার্স হোমে তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যায়ন শেষে সে চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যায়ন না করেই ৫ম শ্রেণিতে অধ্যায়ন করার টার্গেট করে। টার্গেট অনুযায়ী স্কলার্স হোম পরিবর্তন। চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যায়ন না করেই ৫ম শ্রেণিতে ভর্তি হন ক্যাপটেন একাডেমিতে।

৫ম শ্রেণিতে অধ্যায়নকালে ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েও গ্রীনি অর্জন করেছে সফলতা। এই প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত বুক রিডিং প্রতিযোগিতায় গ্রীনি রানার্সআপ হয়েছিল। দেয়া হয়েছিল সনদ ও ক্রেস্ট।
তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যায়নকালে স্কলার্সহোম আয়োজিত সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছিল। পেয়েছে পুরস্কার, সনদ ও ক্রেস্ট।

ক্যাপটেন একাডেমিতে অধ্যায়নকালে অঙ্কণ ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে। পেয়েছে পুরস্কার অকুতোভয় গ্রীনি। কবিতা আবৃতিতে প্রথম স্থান দখল করেছিলো গ্রীনি। মায়ের কথায় গ্রীনিকে যেখানেই দাঁড় করানো হয়, সেখানেই সে উপযুক্ত স্থান দখল করে নেয়। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করাই যেন তার বৈশিষ্ট। শতশত মানুষের সামনে নিজকে সাবলিল রাখা গ্রীনির গুণাবলীর অন্যতম।

৫ বছর বয়স থেকে মার্সাল আর্টের থাই কোয়ান্ড প্রশিক্ষণে অংশ নেয় গ্রীনি। পরে এই সাবজেক্ট অফ রাখে সে। পরবর্তীতে জালালাবাদ ক্যান্টেনমেন্টে ৬ ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যায়নকালে ওই প্রতিষ্ঠানের থাই কোয়ান্ডতে ভর্তি হন। এখানে অর্জন করেছে ইয়োলো গ্রিণ বেল্ট। জেএসসি পরীক্ষার জন্য থাই কোয়ান্ডো বন্ধ ছিল। এখন আবার শুরু করবেন ওই বিষয়টি।

৮ম শ্রেণিতে অধ্যায়নকালে ক্রিকেটেও সাফল্য অর্জন করে গ্রীনি। নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আয়োজিত অভ্যন্তরীণ ক্রিকেটে সিগমা আলমগীর গ্রীনির টিম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

৭ম শ্রেণিতে অধ্যায়নকালে জাতিসংঘ আয়োজিত মডেল ইউনাইটেড নেশনে অংশ গ্রহণ করেন। প্রথম দফায় ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮ সালে। একই প্রতিযোগিতায় লিডিং ইউনির্ভাসিটি ও এমসি কলেজে অংশ গ্রহণ করেছে ধারাবাকিভাবে। এমসি কলেজে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় স্পেশাল মেনশন এওয়ার্ড পেয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে নটরডেম কলেজে ওই প্রোগ্রামের প্রতিযোগিতায় অংশ করে সর্বশেষ সনদ অর্জন করেছে। ২৩ জানুয়ারি মেট্রোপলিটন ইউনির্ভাসিটিতে আয়োজিত একই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় সে।

স্কাউট জীবন প্রবেশের সময় তার বয়স ছিল ১১। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যায়নকালে ২০১৮ সালে সিলেটের গোলাপগঞ্জের এমসি একাডেমিতে ‘উন্নত স্কাউটিং দক্ষ নেতৃত্ব’ শিরোনামের প্রোগ্রামে অংশ নেয় গ্রীনি। এই প্রোগ্রামের স্মৃতিচারণ করে গ্রীনি বলেন, সেখানে জীবনের নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়েছে। সেখানের একটি প্রোগ্রামের নাম ছিল হাইকিং। এই বিষয়টি ছিল তিন কিলোকিলোমিটার দূরে নির্ধারিত স্থানে যেতে হবে। তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়ার জন্য একেঁ দেয়া হয় একটি মানচিত্র। একাকি যেতে হবে গন্তব্যে। গ্রীনি মানচিত্র হাতে নিয়ে রওয়ানা হয় গন্তব্যে। নির্ধারিত গন্তব্যে গিয়ে সে দেখতে পায় স্থানটি তার মামার বাড়ি। সিলেটের ঐতিহ্যবাহি ফুলবাড়ি। এই প্রোগ্রামের পরপরই ২০১৮ সালের ভারতের পশ্চিম বঙ্গের গঙ্গানগর ক্যাম্পে স্কাউট হিসেবে গ্রীনি অংশ নেয় ইন্ডো-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ নামক ক্যাম্পে। এখান থেকেও কৃতিত্বের সনদ অর্জন করেছে গ্রীনি।

২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে ২৫তম অস্ট্রেলিয়ান স্কাউট জাম্বুরিতে অংশ গ্রহণ করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছে গ্রীনি। ১৭ জানুয়ারি দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে সাদরে গ্রহণ করেন বাংলাদেশ স্কাউটস্ এর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাবিবুল আলম বীর প্রতীক। গ্রীনির ভাষায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে ওই জাম্বুরিতে অংশ গ্রহণের বিষয়টি স্মরণীয় হয়ে থাকবে সারা জীবন।

আগামী দিনের ইচ্ছে সম্পর্কে বলতে গিয়ে গ্রীনি বলেছে, সে আগামীতে একজন ডাক্তার হবে। হৃদরোগ চিকিৎসা বিদ্যায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের ইচ্ছে রয়েছে। তার মতে একজন চিকিৎসক হিসেবে সে মানুষের সেবা করতে পারবেন। যে সেবার মাধ্যমে সন্তুষ্টি অর্জনের সম্ভাবনা শতভাগ। ওই উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য সে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রয়োজন সকলের দোয়া ও সহযোগিতা।

গ্রীনির প্রিয় সময় কাটে প্রিয় সব গান শুনে। একান্তভাবে গিটার বাজিয়ে একান্ত সময়টাকে উপভোগ করার গ্রীনির প্রিয় অভ্যাস। মানুষের সফলতা গ্রীনিকে আকৃষ্ট করে। তাদের সফলতা যখন আকর্ষণ করে তখন গ্রীনির মনে হয় সে যেন তার নির্দিষ্ট লক্ষচুত্য হয়ে যাচ্ছে। শেষ কথায় অন্যের সফলতা তার মনকে ভাল করে দেয়-এটাই বড় সত্য।

সূত্র : বায়ান্ন




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: