সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চাকরির বদলে দেহব্য’বসা: দুবাই থেকে ফেরার আকুতি নির্যাতিত মিমের


আলু ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন। স্ত্রী’-সন্তানকে নিয়ে সুখেই চলছিল সংসার। হঠাৎ ব্যবসায় লোকসান। পরে ফুটপাতে হালিম বিক্রি শুরু করেন। ভাগ্য সেখানেও সুপ্রসন্ন হয়নি। স্বামীর দুঃসময়ে সাহায্য করতে চান স্ত্রী’ মিম আক্তার। উপায় খুঁজতে থাকেন।

এদিকে একদিন এক প্রতিবেশী বিদেশে ভালো বেতনের চাকরির প্রলো’ভন দেখান। ভাবনা চিন্তার জাল বুনতে বুনতে এক সময় সেই জালে আ’ট’কে যান ওই দম্পত্তি। নানা ঝঞ্জা পেরিয়ে দুবাই গেলেন মিম। চোখে রঙিন স্বপ্ন, বুক ভরা আশা। স্বামী-সন্তান পরিবার নিয়ে সুখে থাকবেন।

স্বপ্ন কেবলই স্বপ্ন, বাস্তবতা একেবারেই আলাদা। একেবারেই মলিন আর কদর্যতায় ভরা। দুবাই পৌঁছানোর পর থেকেই তার উপরে নি’র্যাতন চালানো শুরু হয়। জো’রপূর্বক অসামাজিক কাজে লিপ্ত হতে বাধ‌্য করানো হয়। এখন কোনোমতে দেশে ফেরার আকুতি তার।

খেয়ে না খেয়ে দেশে থাকলেও শান্তি।এদিকে স্ত্রী’র এ অবস্থায় নিজেকে স্থির রাখতে পারছেন না ইসমাইল। স্ত্রী’কে ফেরাতে সর্বত্র ছোটাছুটি করছেন। এ ঘটনায় যারা জ’ড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে এবং স্ত্রী’কে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় থা’না পু’লিশের দ্বারস্থ হন। কিন্তু পু’লিশ মা’মলা নেয়নি। তাই সর্বশেষ আশ্রয়স্থল আ’দালতের শরণাপন্ন হন ইসমাইল।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি মানবপাচারের অ’ভিযোগ এনে ফকিরাপুলের ভূইয়া ট্রাভেলস এজেন্সির এজেন্ট মো. রুবেল মিয়াসহ পাঁচ জনের বি’রুদ্ধে মা’মলা দায়ের করেন তিনি।ঢাকার নারী ও শি’শু নি’র্যাতন দমন ও মানব পাচার অ’প’রাধ দমন ট্রাইব্যুনাল-৬ এর বিচারক মা’মলা’টি মো. আল-মামুনের আ’দালতে মা’মলা’টি আমলে গ্রহণ করে পু’লিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে অ’ভিযোগের বিষয়ে ত’দন্তের নির্দেশ দেন। মা’মলায় রুবেল ছাড়াও প্রতিবেশী শহিদ, তানিয়া, শাকিল ও নুরুজ্জামানকে আ’সামি করা হয়েছে। শহিদ, তানিয়া ও শাকিল পরস্পরের ভাই-বোন।

মা’মলায় বাদী অ’ভিযোগ করেন, শহিদ ব্যবসায়ীক কাজে দুবাইয়ে যাতায়াত করেন। সেই সুবাদে শহিদ মিমকে দুবাই নিয়ে ভাল চাকরির প্রস্তাব দেয়। তানিয়া, শাকিল, নুরুজ্জামানও দুবাই চাকরিতে যাবে বলে ভুক্তভোগীদের আশ্বস্ত করে।মিম আক্তারকে দুবাই মা’র্কে’টে বিপনী বিতানে সেলসম্যানে ভাল বেতনে চাকরি দেয়ার কথা বলে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নেয়।

গত ৪ আগস্ট তাকে দুবাই পাঠানোর উদ্দেশ্যে শহিদ, তানিয়া, শাকিল ও নুরুজ্জামান ভূইয়া ট্রাভেলস এজেন্সির এজেন্ট রুবেল মিয়ার কাছ থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে দুই মাসের ট্যুরিস্ট ভিসায় দুবাই পাঠান।

ভিকটিমকে সেখানে নিয়ে চাকরিতে নিয়োগ না দিয়ে বিভিন্ন হোটেল এবং বারে নিয়ে জো’রপূর্বক তাকে মা’রধর করে। হত‌্যার পর লা’শ গু’ম করার ভ’য় দেখিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হতে বাধ‌্য করায়। তাকে বার্ড দুবাই মিনা, বনটন বিল্ডিংয়ে আ’ট’কে রেখেছে। ভিকটিম কৌশলে ইসমাইলের সাথে যোগাযোগ করেন। আ’সামি শহিদ তা দেখে ফেলায় দেলোয়ার হোসেনকে ভ’য়ভীতি দেখায় এবং ভিকটিমকে হত‌্যার হু’মকি দেয়।

বাদি আরো অ’ভিযোগ করেন, গত ২৬ জানুয়ারি আ’সামি শহিদকে ফোন দেওয়া হয়। সেসময় শহিদ জানান, ভিকটিম মিম আক্তারকে কোনো দিন ফেরত দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করলে তাকেও হত‌্যা করা হবে বলে হু’মকি দেয়।

ইতোমধ্যে আ’সামিরা ঢাকা ছেড়ে চট্টগ্রাম চলে যান। ইসমাইল তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তাকেও নানা প্রকার ভ’য়ভীতি দেখান।এ ব‌্যাপারে ইসমাইল হোসেন গত ২৭ জানুয়ারি মতিঝিল থা’নায় মা’মলা দায়ের করতে গেলে থা’না কর্তৃপক্ষ মা’মলা নেয়নি। এ কারণে বাদী আ’দালতে মা’মলা দায়ের করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেন। বাদী আ’সামিদের বি’রুদ্ধে গ্রে’প্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।

ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আ’সামিরা আমা’র স্ত্রী’কে দুবাই নিয়ে অবর্ণনীয় নি’র্যাতন করছে। তাকে লোহার রড দিয়ে পি’টিয়ে আ’হত করেছে। আমা’র স্ত্রী’কে তাদের কবল থেকে উ’দ্ধার করতে চাই। আ’সামিরা শুনেছে আমি মা’মলা করব। এরপর থেকে তারা আমাকে বিভিন্নভাবে হু’মকি-ধামকি দিচ্ছে। আমি নিরাপত্তাধীনতায় আছি। কখন কী’ ঘটে যায় বলতে পারি না।

সারাক্ষণ তটস্থ হয়ে আছি।’তিনি বলেন, ‘আমাদের একমাত্র ছে’লে কেবলই তার মাকে খোঁজে। মায়ের কাছে যেতে চায়। তাকে নেত্রকোনায় নানা বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি।’বাদীপক্ষের আইনজীবী সোহরাব হোসেন বলেন, ‘ভালো চাকরির প্রলো’ভন দেখিয়ে আ’সামিরা ট্যুরিস্ট ভিসা দিয়ে নারীদের দুবাই নেয়। সেখানে নিয়ে তাদের দিয়ে অ’বৈধ কাজকর্ম করায়। রাজি না হলে অমানবিক নি’র্যাতন চালায়। আম’রা তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই। যেন পরবর্তীতে তারা এধরনের অ’প’রাধ না করে।’




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: