fbpx

সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২৫ মে ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com

কব্জিতে কলম চেপে পরীক্ষা দিচ্ছেন অদম্য মিনারা

অদম্য মেধাবী মিনারা। শারীরিক প্রতিবন্ধী, বসেছেন দাখিল পরীক্ষার হলে। মনের বলে কব্জির জোরে কলম চলে তার। সমান তালে লিখেই চলছেন। মিশন একটিই, ভালো ফল আর মানুষের মতো মানুষ হওয়া। ইচ্ছা প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ানোর।

শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও কোনো বাধাই আটকে রাখতে পারেনি তাকে। জন্মের কিছুদিন পর মাকে হারান মিনারা। বাবা আবারও বিয়ে করেন, সংসারে আসেন নতুন মা। বাবা দিনমজুর, অভাবের সংসারে দিন আনে দিন খায়। এর ওপর বাঁধের শেষ আশ্রয়স্থল, তাও ভেঙে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাধার ওপর বাধা, এরপরও নেই তার দুহাতের আঙুল। তবুও প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে এবারের এসএসসি (দাখিল) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

মিনারা চিলমারী উপজেলার কাঁচকোল দক্ষিণ বাঁধ এলাকার রফিকুল ইসলাম এবং মৃত মর্জিনা বেগমের মেয়ে। তার কাছে হার মেনেছে প্রতিবন্ধকতা। দুই বোনের মধ্যে মিনারা ছোট।

জানা গেছে, জন্ম থেকেই তার দুই হাতের কব্জি বাঁকা, নেই আঙৃল; তবুও থেমে যাননি মিনারা। এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুহাতের কব্জিতে কলম চেপে ধরে সমানে লিখে চলছেন উত্তর।

দুই হাতের কব্জির সাহায্যে লিখে একে একে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী (পিএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পাস করে ভালো ফলাফল অর্জন করেন। এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন উপজেলার কাঁচকোল খামার সখিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ছাত্রী হিসেবে।

শুধু লেখাপড়া নয়, কব্জির সাহায্যে সাংসারিক বিভিন্ন কাজে বাবা ও সৎমাকেও সহায়তা করেন। ছোটবেলা থেকে পড়ার প্রতি গভীর আগ্রহ দেখে বাবা-মা তাকে স্থানীয় কেডি ওয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করান। সেখানে পড়তে পারলেও লিখতে পারেননি। এরপরও মনোবল হারাননি। অদম্য সাহসের সঙ্গে বড় বোনের সহায়তায় বাড়ি বসেই দুই হাতের কব্জির সাহায্যে কলম ধরে লিখতে শেখেন মিনারা।

স্কুলের শিক্ষক ও সহপাঠীরাও তার প্রতি ছিল যত্নশীল। সমাজসেবা অধিদফতর ও মাদরাসা থেকে উপবৃত্তি পান মিনারা। তা দিয়ে কষ্ট হলেও চলে লেখাপড়ার খরচ। শেষ আশ্রয়স্থল অবদা বাঁধে থাকার স্থানটুকুও এক সময় ছাড়তে হয় তার পরিবারকে। সেখান থেকে বাড়ি ভেঙে নেয়া হয় অন্যত্র। এরই মধ্যে চলে আসে পরীক্ষা। উপায়হীন মিনারা বড় বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই অংশ নিচ্ছেন দাখিল পরীক্ষায়।

কাঁচকোল খামার সখিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা আইয়ুব আলী আকন্দ জানান, মিনারা ছাত্রী হিসেবে ভালো। মাদরাসায় লেখাপড়ার সকল প্রকার দায়িত্ব আমরা নিয়েছিলাম। রাজারভিটা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ মো. মিনহাজুল ইসলাম বলেন, দুই হাতের কব্জির সাহায্যে লিখে মিনারা ভালো পরীক্ষা দিচ্ছে। মেয়েটি ফলাফল ভালো করবে বলে আমরা আশাবাদী।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ডাব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন, ‘আমি দেখেছি, পড়াশোনার প্রতি তার মনের জোর। এছাড়া আমার মনে হয়েছে তার মাঝে অনেক গুণ রয়েছে। সে ভালো কিছু করতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করব তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতারর, তার পাশে থাকার।

অদম্য মেধাবী মিনারা খাতুন জানান, আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন বড় হতে পারি। বড় হয়ে মানুষের সেবা করতে পারি, পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে পারি। (সৌজন্যে:জাগোনিউজ)

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: