বড়লেখায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান : ১০ কোটি টাকার সরকারী ভুমি দখলমুক্ত

বড়লেখা প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের বড়লেখার কাঠালতলী বাজার এলাকায় সড়ক ও জনপথের (সওজ) ভূমি দখলমুক্ত করতে মঙ্গলবার অভিযান চালানো হয়েছে। বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এ অভিযান চলে। এ সময় অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ফলে সড়ক ও জনপথের (সওজ) প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ২০০ শতাংশ ভূমি অবৈধ দখল মুক্ত হয়েছে।

এছাড়া দোকান ও ভবনের সামনে সরকারি জায়গার উপর মালামাল রাখার অভিযোগে ফয়ছল আহমদ নামের এক ব্যক্তিকে ৩ হাজার টাকা, হাজী মুদরিছ আলী এন্ড সন্সকে ১০ হাজার টাকা, স্বাদ এন্ড প্রীতি ট্রেডার্সকে ১০ হাজার টাকা, আহমদ এন্ড মাহবুব ভেরাইটিজ ষ্টোরকে ১০ হাজার টাকাসহ মোট ৪ প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান চলাকালে সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় আব্দুল করিম নামক রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ীকে ১ মাসের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান। এতে সহযোগিতা করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ, বিজিবি ও দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কাঠালতলী এলাকায় বড়লেখা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে সড়ক ও জনপথের (সওজ) জায়গা দখল করে কতিপয় ব্যক্তি অবৈধভাবে ব্যবসা করছে। এই এলাকায় সরকারিভাবে বাজারের জন্য একটি নির্ধারিত স্থান রয়েছে। কিন্তু সেখানে না গিয়ে সকলেই সড়কের ভুমি দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা চালাচ্ছিল। অনেকে দোকানের সামনে সড়কের জায়গায় মালামাল রাখেন। বিভিন্ন গাছের সাথে বিলবোর্ড ও ব্যানার সেঁটেছে। এ এলাকা দিয়ে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মাধবকুণ্ডে দেশ-বিদেশের লোকজন যাওয়া-আসা করেন। সড়কের জায়গা দখল করে ব্যবসা করায় প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি ও পথচারীর চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। গত কয়েকদিন আগে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। এতে অনেকে স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছেন। বাজারও চলে যায় নির্ধারিত স্থানে। তবে বেশ কিছু স্থাপনা সরানো হয়নি। এগুলো সরানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। তারপরও সরানো হয়নি। এ অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অর্ধশত অবৈধ স্থাপন উচ্ছদ করা হয়। ফলে সড়ক ও জনপথের (সওজ) প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ২০০ শতাংশ ভূমি অবৈধ দখল মুক্ত হয়। অভিযানের সময় নির্দেশনা না মেনে অবৈধভাবে মালামাল রাখার অভিযোগে ব্যবসায়ী ফয়ছল আহমদকে ৩ হাজার টাকা, হাজী মুদরিছ আলী এন্ড সন্সকে ১০ হাজার টাকা, স্বাদ এন্ড প্রীতি ট্রেডার্সকে ১০ হাজার টাকা, আহমদ এন্ড মাহবুব ভেরাইটিজ ষ্টোরকে ১০ হাজার টাকাসহ মোট ৪ প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী আব্দুল করিমকে ১ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম আল ইমরান।

অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদ উল্লাহ খান, থানার এসআই মো. রশিদ উদ্দিন প্রমুখ।

ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম আল ইমরান জানান, ‘উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই অভিযান চালানো হয়। এতে সহযোগিতা করেছে পুলিশ, বিজিবি ও ইউনিয়ন পরিষদ। অবৈধ দখলদারদের নোটিশ দিয়ে ও মৌখিকভাবে সরে যেতে বলা হয়। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে গিয়ে দেখা গেছে, বেশ কিছু স্থাপনা রয়ে গেছে। সরকারি জায়গা থেকে অর্ধশত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবৈধভাবে সড়কের জায়গা দখল করে রাখায় ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করায় হয় ও ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে বাধা দেয়ার অপরাধে ১ ব্যবসায়ীকে ১ মাসের বিনাশ্রম জেল দেয়া হয়।’

সাম্প্রতিক সংবাদ

  • সিলেট

শীঘ্রই চালু হচ্ছে সিলেট-নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট

১৩ আগষ্ট ২০২২, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন
  • সিলেট

ওসমানীর ঘটনায় আরও ২ আসামি জেলে

১১ আগষ্ট ২০২২, ৫:১৫ অপরাহ্ন
  • প্রবাস

ইতালিতে বসবাসের অনুমতিতে বাংলাদেশিরা চতুর্থ

১১ আগষ্ট ২০২২, ৫:১০ অপরাহ্ন