সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

মুক্তিপণের টাকা নিয়ে অপেক্ষা করে পাওয়া গেলো শিশুর লাশ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে মাদ্রাসাছাত্র ৭ বছরের এক শিশুকে। এ হত্যাকাণ্ডকে রহস্যজনক বলছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিশুর ফুফা সেজাউল কবির এবং তার বাবা কালা মিয়াকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম বাঁশতলা থেকে আজ ভোর রাতে বস্তায় ভরা শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।
হতভাগ্য শিশুর নাম তোফাজ্জল হোসেন। সে বাঁশতলা গ্রামের জুবেল হোসেনের ছেলে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বুধবার শিশুটি নিখোঁজ হয়। শুক্রবার ভোর রাতে বসতঘরের বারান্দায় ৮০ হাজার টাকার মুক্তিপণের চিঠি পায় তারা।
আর আজ শনিবার ভোর রাতে বাড়ির সামনে বস্তাভর্তি লাশ পায় স্বজনরা।
শিশুর স্বজনরা জানান, বুধবার রাতে গ্রামের মাঠে ওয়াজ মাহ্ফিল ছিলো। বিকালে শিশু তোফাজ্জল ওয়াজ মাহ্ফিলের মাঠে যায়। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত খোঁজাখুজি করে না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে থানায় জিডি করা হয়। শুক্রবার ভোর রাতে বাড়ির বসতঘরে তোফাজ্জলের একজোড়া জুতা ও একটি চিঠি পায় তারা।
চিঠিতে লেখা ছিলো- তোমাদের ছেলে ভালো আছে, টেকেরঘাটে আমার বন্ধুর বাড়িতে তাকে রেখে এসেছি। ৮০ হাজার টাকা দিলে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। বাড়ির গোয়াল ঘরে রাত ৪ টায় টাকা নিয়ে থাকবে।
শুক্রবার রাতে ছেলেটির চাচা মাওলানা সালমান হোসেন টাকা নিয়ে অপেক্ষা করে। রাত সাড়ে ৪টা পর্যন্ত না আসায় সালমান নামাজ আদায় করার জন্য ওযু করতে যায়। এ সময় গোয়ালঘরের সামনে শব্দ শোনা যায়। সালমান এগিয়ে দেখে বস্তাভর্তি তোফাজ্জলের লাশ। পরে প্রতিবেশি তোফাজ্জলের ফুফা সেজাউল কবির ও তার বাবা কালা মিয়াকে সন্দেহজনকভাবে পুলিশে দেয় তারা।
তোফাজ্জলের বাবা জুবেল হোসেন জানান, একই গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে সেজাউল কবিরের কাছে ছোট বোন শিউলিকে বিয়ে দিয়েছেন তারা। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে তার বোনকে যৌতুকের জন্য সেজাউল মারপিট করে বাড়িতে রেখে যায়। এরপর আর নেয়নি। উল্টো তাদেরকে হুমকি-ধামকি দিয়েছে। তাদের সন্দেহ সেজাউল ও তার বাবা তার ছেলেকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করে রেখেছে।
তাহিরপুর থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, শিশু তোফাজ্জল খুনের বিষয়টি রহস্যজনক। তদন্ত হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি বলা যাবে না। শিশুটির চোখে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার) মিজানুর রহমান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেজাউল ও কালা মিয়াকে থানায় আনা হয়েছে। তদন্ত চলছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: