সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

নির্যাতিত মুসলিমদের পাশে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে — আসজাদ মাদানী

আওলাদে রাসুল আল্লামা সায়্যিদ আসজাদ মাদিনী বলেছেন, ভারতবর্ষকে ব্রিটিশদের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দারুল উলুম দেওবন্দ। সেই দারুল উলুমের অনুকরণে প্রতিষ্ঠিত জামেয়া রেঙ্গার শতবার্ষিকী ও দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন। এই সম্মেলনে জামেয়া রেঙ্গার প্রায় চার হাজার সন্তানের মাথায় পাগড়ি তুলে দেওয়া হয়েছে। এটা শুধু পাগড়ি নয় এটা হচ্ছে মহাগুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের প্রতীক। এই প্রতীক নিয়ে নিরবে বসে থাকার কোন সুযোগ নেই।
জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গার শতবার্ষিকী ও দস্তারবন্দী সম্মেলনে সর্বশেষ দিনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।
আল্লামা আসজাদ মাদানী আরও বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের দূর্গ খ্যাত কওমি মাদ্রাসাগুলোকে দেশের বর্তমান অবস্থায় সোচ্চার ও স্বাধীনতা সুরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে এবং ভারতসহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলিমদের পক্ষে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সিলেটের শীর্ষ ইসলামি বিদ্যাপীঠ ঐতিহ্যবাহী জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গার শতবার্ষিকী ও দস্তারবন্দী মহাসম্মেলনের তৃতীয় অর্থাৎ শেষ দিনের বয়ানে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। সম্মেলনে গতকাল শুক্রবার জুমআর নামাজের মুসল্লির ঢল নামে। সম্মেলনের বিশাল মাঠে মুসল্লি সংকুলান না হওয়ায় মাদরাসার মাঠ, মসজিদ ও পেন্ডালের আশপাশের বিশাল এলাকাজুড়ে মুসল্লিরা জুমআর নামাজের জন্য অংশগ্রহণ করেন। জুমআর ইমামিত করেন আওলাদে রাসুল আল্লামা সায়্যিদ আসজাদ মাদানী।

জুমআর খুতবা ও নামাজ পরবর্তীতে আল্লামা আসজাদ মাদানী দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য বিশেষ মোনাজাত করেন।
মাওলানা মুফতি মুশাহিদ কাসিমী, মাওলানা শামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াস ও আহমদ যাকারিয়ার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিভিন্ন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহান, মাওলানা নযীর আহমদ ঝিংগাবাড়ি, শায়খ আব্দুশ শহীদ গলমুকাপনী, শায়খুল হাদিস মাওলানা মুকাদ্দাস আলী, শায়খুল হাদিস মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আব্দুল হাই চৌধুরী, মুফতি আব্দুস সুবহান, মাওলানা তহুর উদ্দীন, মাওলানা নুরুল ইসলাম সুফিয়ান, মাওলানা মুখলিসুর রহমান কিয়ামপুরী, মাওলানা ফখরুল ইসলাম মোগলাবাজারী।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বয়ান পেশ করেন, মাওলানা বিলাল বাওয়া লন্ডন, মাওলানা আশরাফ মাকদাম, লন্ডন, মাওলানা মাহমুদুল হাসান লন্ডন, শেখ মানসুর বিন মুহাম্মদ মাকিনী, সৌদি আরব, মাওলানা যিকরুল্লাহ খান ফরিদাবাদ, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ ঢাকা, মাওলানা আসগর হোসাইন লন্ডন, মাওলানা আব্দুর রহহিম লিমবাদা, লন্ডন, অধ্যক্ষ মিযানুর রহমান কাপাসিয়া, মাওলানা সাজিদুর রহমান বি-বাড়িয়া, মাওলানা মামুনুল হক, ফরিদাবাদ মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, দৈনিক ইনকিলাবের সহ-সম্পাদক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মাওলানা আরশাদ রহমানী, মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা শফিকুর রহমান, মুফতি শফিকুল ইসলাম, ড. মুশতাক আহমদ,সাবেক এমপি মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী, আযাদ দ্বীনি এদারার মহাসচিব মাওলানা আব্দুল বছির, মাওলানা হারুনুর রশীদ কানাইঘাটী, মাওলানা অসিউর রহমান ঢাকা, মাওলানা ইসমাইল আলী, মাওলানা আব্দুল খালিক বাহুবলী, মাওলানা সিবগাতুল্লাহ নূর, মাওলানা তাফহীমুল হক প্রমুখ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন, কওমি মাদরাসা হচ্ছে দ্বীনের একেকটা দূর্ঘ। যতদিন কওমি মাদরাসা থাকবে ততদিন দ্বীন ইসলাম সংরক্ষণ থাকবে। তিনি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গা’র শতবছর পূর্তি উপলক্ষে ৩দিনব্যাপী দস্তারবন্দী মহাসম্মেলনের শেষদিনে বক্তাগণ আরো বলেন, বিগত ১০০ বছরে জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গা সৃষ্টি করেছে দ্বীনের হেফাজতকারী হাজারো আলেম, শাইখুল হাদিস, মুফতি, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, লেখক, গবেষক, সম্পাদক, সাহিত্যিক, সংগঠক, বক্তা, হাফিজ। তাদেরকে মাথায় আনুষঙ্গিক ভাবে পাগড়ি পড়িয়ে দেওয়ার জন্য আজকের দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন। তিনি বলেন, ইসলামে পাগড়ির আকার আকৃতি এবং মাথায় বাঁধার নিয়ম-পদ্ধতি যেমন আলাদা, তেমনি ইতিহাস, ঐতিহ্য, সিলসিলা এবং মাহাত্ম্য ও তাৎপর্যের দিক বিবেচনায়ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। পাগড়ির যেমন একটা বাহ্যিক পবিত্র জৌলুস আছে তেমনি তার অন্তর্নিহিত প্রণোদনাও আছে।

তিনি বলেন, মহানবী (সা.) পাগড়ি ব্যবহার করতেন। শুধু কি তাই বরং মানব জাতির পিতা হযরত আদমকে (আ.) ভূ-পৃষ্ঠে নেমে আসার সময় হজরত জিব্রাঈল (আ.) পাগড়ি পরিয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি হযরত আদম (আ.) থেকে নিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত অধিকাংশ নবী-রাসুল পাগড়ি ব্যবহার করেছেন বলে হাদীস ও ইতিহাসের বর্ণনায় পাওয়া যায়।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক পশ্চিমা সভ্যতার ষড়যন্ত্রমূলক প্রকল্প। যার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্ম প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সমূহ আয়োজন করছে পশ্চিমা সভ্যতার এদেশীয় এজেন্টরা। এই ষড়যন্ত্রকে রুখে দাঁড়াতে আলেম ওলামাসহ তাওহিদী জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের এনআরসি ও ক্যাব বিরোধী আন্দোলনে ভারতের মুসলমানদের সাথে বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক সংসদ আলহাজ্ব শফি আহমেদ চৌধুরী, মাওলানা সালেহ মুহাম্মদ জাকারিয়া, মাওলানা হাবীবে রব্বানী চৌধুরী তালবাড়ি, মাওলানা মুলেহুদ্দীন রাজু, মাওলানা শাহ মিযানুল হক, মাওলানা আব্দুল হাফিজ লন্ডন, মাওলানা আব্দুল হক হক্কানী বগুড়া, সৈয়দ শামীম আহমদ, মাওলানা শাহ নজরুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল হান্নান ধনপুরী প্রমুখ।
সম্মেলনে জামেয়ার ১৪৩৬ হিজরি থেকে ১৪৪০ হিজরির উলামা ফাযিলকে দস্তারে ফযিলত প্রদান করা হয়। বিজ্ঞপ্তি

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: