সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পার্টনার ভিসায় দুবাই গেলে নিশ্চিত বেকার!

এস এইচ সৈকত :: মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের লেবার ভিসা বন্ধ রয়েছে প্রায় ৭ বছর থেকে। অন্যদিকে এই দেশের দুবাই, শারজাহ্, আজমানসহ কয়েকটি শহরে আমাদের বাংলাদেশিদের জন্য ইনভেস্টর এবং পার্টনার ভিসা শিথিল করে রেখেছে সে দেশের সরকার। আর এই সুযোগে কিছু দালালরা ৬-৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পার্টনার ভিসা লাগিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভিজিটের (ভ্রমণ) মাধ্যমে দেশ থেকে লোকজনকে নিয়ে আসছে। যেখানে এই ভিসার জন্য এর টকার অর্ধেকও খরচ নেই। ইনভেস্টর বা পার্টনারশিপ ভিসায় বৈধ হলেও তারা কাজ করতে হয় বাইরের কোনও কোম্পানিতে। আর এটা সে দেশের আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ। এমন কাজে কর্মরত থাকা অবস্থায় পুলিশ ধরলে জেল, জরিমানাসহ দেশ ত্যাগের আইন রয়েছে।
আমিরাতের আজমান শহরে পার্টনার ভিসা লাগিয়ে সে দেশের রাজধানী আবুধাবিতে একটি কোম্পানিতে অবৈধভাবে কর্মরত অবস্থায় পুলিশ আটক করে কোর্টে চালান করে দেয়। পরবর্তীতে কোর্ট সেই কোম্পানিকে ৫০ হাজার দিরহাম যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ও অবৈধভাবে কাজ করায় সেই বাংলাদেশি কর্মীকে দুই মাসের জেল ও দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত কয়েকমাস আগে বড়লেখার আজিমগঞ্জ এলাকার দুই ছেলেসহ দুবাইয়ের বেশ কয়েকটি দোকানে কর্মরত অবস্থায় সিআইডি পুলিশ পার্টনার ভিসাধারী বা অবৈধ লোককে আটক করে কোর্টে চালান করে। আটকের একমাস আগে তারা দুইজন প্রায় ৫-৬ লক্ষ টাকা খরচ করে আজমান শহরে পার্টনার ভিসা লাগিয়েছিল। পরবর্তীতে কোর্টের রায় অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে তাদের সবাইকে দেশ ত্যাগ করতে হয় এবং সেই সকল দোকানকে বলা হয় আর কখনো অবৈধ কাউকে কাজে রাখলে মোটা অংকের জরিমানাসহ লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হবে।
বাজারের মন্দা ব্যবসা এবং এসব আতংকের কারণে কেউ তার কোম্পানিতে পার্টনার ভিসাধারী কাউকে কাজে রাখছেন না। যার ফলে বেকার হয়ে মানবেতর জীবন পার করছেন অনেকেই।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বাংলাদেশিদের জন্য এই ভিসাটা শিথিল করে দেওয়ার কারণটা হচ্ছে তাদের বড় একটা ব্যবসা। প্রতি দুইজন লোকের জন্য একটি লাইসেন্স করতে হয়, লাইসেন্সে আরো একজন আরবি লোককেও রাখতে হয় আর এজন্য তাকে দিতে হয় লক্ষাধিক টাকা। আর সেই লাইসেন্সের জন্য একটি দোকান বা অফিস স্পেইস এগ্রিমেন্ট করতে হয়। আর এই সব মিলিয়ে মোটা অংকের একটা টাকা পেয়ে যায় সে দেশের সরকার। একদিকে তারা এই ভিসা দিচ্ছে, অন্যদিকে কাউকে বাইরে কাজে পেলেই জেল জরিমানাসহ সেই ব্যক্তিকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করছে।
আবার কেউ কেউ ভাবেন যে, আমিরাতে পার্টনার ভিসা থাকলে ইউরোপের যেকোনো দেশে সহজেই যেতে পারবেন। কিন্তু তাদের এমন চিন্তাভাবনাটা সম্পূর্ণ ভুল। প্রথমতঃ আমিরাতের ভিসার ছয়মাস না হওয়া পর্যন্ত কোনো দেশের ভিসার জন্য এপ্লাই করা যায় না। আর প্রথম ছয় মাস কোথাও চাকরি পেলে আলহামদুলিল্লাহ, আর না পেলে পুরাই বেকার। দ্বিতীয়ত, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাঙালিরা ভিজিটে গিয়ে খুব কম সংখ্যক লোক ফিরে এসেছে, যার কারণে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী এখন খুব কম সংখ্যক লোককেই তারা ভিসা দেয়। আর তা শতকরা মাত্র ২-৪ জন। সর্বশেষ আমিরাত থেকে তুর্কী হয়ে গ্রিস, গ্রিস থেকে ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে দালালের মাধ্যমে গিয়েছেন অনেকেই। আর তাই বেশ কিছুদিন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য তুর্কীর ভিসাও খুব হার্ড করে দিয়েছে। যার ফলে এখন খুব কম সংখ্যক লোকই তুর্কীর ভিসা পাচ্ছেন।


এস এইচ সৈকত: প্রবাসী সাংবাদিক।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: