সর্বশেষ আপডেট : ৫৭ মিনিট ৩২ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কে হচ্ছেন আওমামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, আলোচনায় যারা

কে হচ্ছেন ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক, এই বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। অনেকের নামই আলোচিত হচ্ছে। এই মুহূর্তে দলের নেতাকর্মীর মধ্যে সব আলোচনা, পর্যালোচনা সাধারণ সম্পাদক পদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। কে পাচ্ছেন দলের এই দ্বিতীয় শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ পদটি, তা কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই জানেন। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরই বহাল থাকছেন, নাকি নতুন কেউ আসছেন এ পদে সবখানে ঘুরপাক খাচ্ছে এ প্রশ্ন। সমাধান খুঁজতে সবার দৃষ্টি এখন শনিবারের কাউন্সিলের দিকে।

শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যেই তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। তবে ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন একাধিক নেতা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একক প্রার্থীর প্রস্তাব ওঠার মধ্য দিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এরপর ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির একটি বড় অংশ একই দিনে ঘোষণা করা হতে পারে।

সভাপতি অর্থাৎ দলের শীর্ষ পদে এবারও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা থাকছেন। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও কাউন্সিলররা শেখ হাসিনার বিকল্প ভাবছেন না। কাউন্সিলে সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনার নাম ঘোষণা এখন আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এ কারণে সবার প্রধান আকর্ষণ সাধারণ সম্পাদক পদটির দিকে।

আওয়ামী লীগের এই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার পাশাপাশি আরো কয়েকজন দলটির হাইকমান্ডের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও গাজীপুরের সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা বলেছেন, সাধারণত জাতীয় সম্মেলনের তিন-চার দিন আগে থেকেই দলের সাধারণ সম্পাদক পদে কে আসছেন তা জানা যেত। কিন্তু এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজনরাও এবার চুপচাপ আছেন। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানাভাবে তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতাও বৃহস্পতিবার গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব জানার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এ নিয়ে তারা আওয়ামী লীগ সভাপতির কোনো মন্তব্য কিংবা মনোভাব জানতে পারেন নি। বৃহস্পতিবার রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামীম, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন ও যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। তবে কারও সঙ্গেই দেখা করেননি প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে নেতাকর্মীরা দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের কাঠামোতে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রত্যাশা করলেও তা হচ্ছে না। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, বঙ্গবন্ধুর আরও তিন দৌহিত্র সায়মা হোসেন পুতুল, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও ববি আজমিনা সিদ্দিক রুপন্তীকে এবারও কার্যনির্বাহী সংসদে আনা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। সায়মা হোসেন পুতুল, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও ববি আজমিনা সিদ্দিক রুপন্তী দেশে থাকলেও শেখ রেহানা এবং সজীব ওয়াজেদ জয় বিদেশে রয়েছেন।

এর আগে ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন হয়। সে সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি ও ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে জন্ম আওয়ামী লীগের। ঐতিহ্যবাহী এই দলটির বয়স এখন ৭০ বছর। এ পর্যন্ত দলটির ২০টি জাতীয় সম্মেলন হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৮১ সাল থেকে শেখ হাসিনাই দলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এর আগে ’৬৬ সাল থেকে চারবার সভাপতি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর আগে ’৫৩ থেকে ’৬৬ সাল পর্যন্ত চারবার সাধারণ সম্পাদক হন তিনি। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। কামরুজ্জামান হন আওয়ামী লীগ সভাপতি। শেখ হাসিনা কখনো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেননি। সাজেদা চৌধুরী, জোহরা তাজউদ্দীন, আবদুর রাজ্জাক, জিল্লুর রহমান, আবদুল জলিল ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মতো নেতারা এ দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন সফলতার সঙ্গে।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: