সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সরকারের বাহাদুরী প্রকৃতি সংরক্ষণ করে, ধ্বংস করে নয় — সুলতানা কামাল

তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র সভাপতি এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, সরকারের বাহাদুরী প্রকৃতি সংরক্ষণ করে দেশ পরিচালনায়, ধ্বংস করে নয়। আজ জাফলং, সুন্দরবন, কক্সবাজার প্রত্যেকটি স্থানে উন্নয়নের দোহাই দিয়ে প্রকৃতি ও পরিবেশকে বিপদের মুখে ফেলে দেয়া হয়েছে। মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে রেখে করা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বন্ধ করতে হবে। উন্নয়নতো দেশের জন্য, উন্নয়নের জন্য দেশ নয়- এ কথাটি দেশের নীতি নির্ধারকদের উপলব্ধি করতে হবে। গতকাল ১৩ই ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ১১টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে আয়োজন করা একটি নাগরিক প্রতিবাদ কর্মসুচীতে বক্তব্য প্রদান কালে তিনি এ কথাগুলো বলেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), সিলেট শাখার উদ্যোগে ‘জাফলং ও শ্রীপুরে পাথর উত্তোলনের জন্য খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি)’র গেজেট প্রকাশের দুরভিসন্ধির প্রতিবাদে ও ইসিএভুক্ত এলাকার তথ্য গোপন করে ফিবছর পাথর উত্তোলন নিয়ে চলা রীট বাণিজ্যের নিন্দায় এই কর্মসুচী আয়োজন করে।
বাপা-সিলেট শাখার সহসভাপতি ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন রেজিস্টার ডঃ জামিল আহমেদ চৌধুরী’র সভাপতিত্বে আয়োজিত প্রতিবাদী সমাবেশে সুলতানা কামাল আরো বলেন, জাফলং এখন মূমূর্ষ প্রায়। কিছু অর্থলোলুপ মানুষ, যারা নিজের স্বার্থে দেশের সমস্ত কিছু নষ্ট করে দিতে পারে তাঁদের কারনেই জাফলং সহ সিলেট অঞ্চলের প্রকৃতি-পরিবেশ বিপন্ন। তিনি দেশ ও দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য পরিবেশ ধ্বংসকারী রামপাল প্রকল্প বন্ধের আহŸান জানিয়ে সরকারের উদ্দেশ্যে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু বর্ষ উদযাপনের কর্মসুচীতে অবশ্যই প্রকৃতি রক্ষার কর্মসুচী যুক্ত করতে হবে।
বাপা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) নতুন করে পাথরের মজুদ অনুসন্ধান ও চিহ্নিত করে গেজেট প্রকাশ করছে যা ভবিষ্যতে পাথরখেকোরা কোয়ারী হিসাবে ঘোষণার দাবী জানাবে। যা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিবছর পাথর কোয়ারী খুলে দেয়া না দেয়া নিয়ে আদালতকে ভুল তথ্য দিয়ে যে রিট রিট খেলা চলে তা আমলে নিয়ে পুরো বিষয়ে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন।
জাফলং-এর সা¤প্রতিক অবস্থা বর্ণনা ও কর্মসুচী আয়োজনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাপার আজীবন সদস্য ডঃ জহিরুল হক শাকিল বলেন, ২০১৩ সালে মহামান্য হাইকোর্ট ডাউকি নদীকে প্রতিবেশগত সংকটাপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষনা দেয়ার পর ২০১৫ সালে তা গেজেটভুক্ত হয়। ইসিএ ভুক্ত হওয়ার কারণে এই এলাকায় বোমা পাথর ব্যাবহারতো দূরের কথা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও পাথর তোলা বন্ধ; এমনকি বালি পর্যন্ত উত্তোলন নিষিদ্ধ। ইসিএভুক্ত এলাকা হিসাবে শুধু জাফলং নয় পার্শ্ববর্তী পিয়াইন, রাংপানি নদীও উক্ত এলাকার প্রতিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত রেখায় অবস্থিত এই এলাকায় পাথর উত্তোলন সীমান্ত রেখা পরিবর্তন করতে পারে। অবৈধভাবে ও অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের ফলে এখানকার নদীপথ পর্যন্ত পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়া জাফলং ও শ্রীপুর এলাকায় পাথর উত্তোলনের ফলে পর্যটন শিল্পে আঘাত আসছে; জনস্বাস্থ্য হুমকীর মূখে পড়ছে, খাসিয়াসহ আদিবাসীরা সংকটে পড়ছে সর্বোপরি এলাকার পরিবেশগত ও মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রভাবশালিরা কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে, শ্রমিকদের সরকারের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে শুস্ক মৌসুমে বোমা মেশিন ব্যবহার করে পাথর উত্তোলন করে উক্ত এলাকাকে আরো সংকটাপূর্ন করে তুলেছেন। বিজ্ঞপ্তি

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: