সর্বশেষ আপডেট : ৯ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রাত পোহালেই ব্রিটেনে নির্বাচন, ঝুলন্ত পার্লামেন্টের আশঙ্কা


ব্রিটেনের পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও বিরোধী লেবার নেতা জেরেমি করবিন। সবশেষ নির্বাচনি জরিপগুলোতে কনজারভেটিভরা এগিয়ে থাকলেও ক্রমেই লেবার পার্টির সঙ্গে তাদের ব্যবধান কমেছে। অবশ্য যুক্তরাজ্যের নির্বাচনি জরিপগুলোর আভাস প্রায়শই ভুল প্রমাণিত হয়। তারপরও সবমিলে ধারণা করা হচ্ছে, কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হবে না। ঝুলন্ত পার্লামেন্টের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না খোদ বরিস জনসনও। বৃহস্পতিবারের ভোটকে প্রজন্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আখ্যা দিয়েছে লেবার-কনজারভেটিভ উভয় দলই।

এখন পর্যন্ত সবগুলো জরিপেই এগিয়ে রয়েছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি। তবে ক্রমেই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সঙ্গে তাদের ব্যবধান কমে আসছে। ফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার যে নিশ্চয়তা ছিলো নির্বাচন কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেটা আর নেই। অবশ্য সাম্প্রতিক ইতিহাসে সেখানে ২০১০ সালের নির্বাচনে কেবল জরিপের ফল হুবহু মিলে গিয়েছিল। তবে ২০১৫ সালের নির্বাচনে জরিপ পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত হয়েছিলো। নির্বাচনের ফল একদম উল্টো হওয়ায় বিস্মিত হয়েছিলেন বিশ্লেষকরা।

মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত জরিপে দেখা যায় বরিস জনসন এগিয়ে আছেন। তবে দুই সপ্তাহ আগে করা জরিপে করবিনের সঙ্গে তার যে ব্যবধান ছিল, তা অনেকটাই কমে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী এখন ৬ থেকে ১৫ পয়েন্ট এগিয়ে আছে কনজারভেটিভরা। তবে প্রভাবশালী জরিপ প্রতিষ্ঠান ইউগভের অনুমান অনুযায়ী, কনজারভেটিভদের ৪৩ শতাংশ পয়েন্ট অপরিবর্তিত রয়েছে। দুই ধাপ এগিয়ে লেবারের অবস্থান ৩৪ শতাংশ। কনজারভেটিভদের সম্ভাব্য ৩৩৯ আসনের বিপরীতে লেবার পার্টি ২৩১টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে তাদের জরিপে উঠে এসেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইয়র্কশায়ার থেকে মিডল্যান্ড পর্যন্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে করবিন স্কটল্যান্ড থেকে এই দিনের প্রচারণা শুরু করছেন। ভোটগ্রহণের আগের দিন ইংল্যান্ডের অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে সফর করবেন তিনি। এখানে দোদুল্যমান ভোটগুলো নিজের দিকে টানার চেষ্টা করবেন করবিন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্ত নির্বাচনে বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে জনগণের সামনে অনেকের জন্য ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, গুটিকয়েকের জন্য নয়।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার স্ট্যাফোর্ডশায়ারে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন জনসন। তিনি বলছেন, জরিপে এগিয়ে থাকা নিয়ে তুষ্ট থাকলে হবে না। নির্বাচন খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।

স্ট্যাফোর্ডশায়ারে জেসিবি কারখানায় এক অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল তাদের অনুকূলে রয়েছে কিনা। জবাবে বরিস জনসন বলেন, ‘একদমই নয়’। তিনি বলেন, এটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন এবং আমাদের প্রত্যেকটি ভোটই প্রয়োজন। কারাখানার কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘কনজারভেটিভ পার্টির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জিত না হলে ঝুলন্ত পার্লামেন্টের ঝুঁকি রয়েছে। তাতে আরও একবার পাঁচ বছর ধরে দ্বিধা, শঙ্কা, বিলম্ব ও বিশৃঙ্খলা চলবে। আমরা সেই রাস্তায় যেতে পারি না। আমাদের হাতে আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আছে। আমাদের দেশের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ এক সময়। আমি এমন নির্বাচন কখনও দেখিনি।’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চ্যান্সেলর সাজিদ জাভিদ। জেসিবি কারখানায় প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। বলেন, করবিনের সরকার নিয়ে বামপন্থী পরিকল্পনা রয়েছে। সেটা ব্যবসা-পরিপন্থী, সংস্থা পরিপন্থী। আমাদের দেশ কখনোই এমনটা দেখেনি। এতে নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হবে। সাজিদ জাভিদ বলেন, লেবার সরকার দায়িত্ব নিলেই কয়েক বছরের মধ্যে সংকট তৈরি হবে। কিন্তু করবিনের ক্ষেত্রে বছর লাগবে না, মাস লাগবে না; কয়েকদিনের মধ্যে সংকট তৈরি হয়ে যাবে। বড়দিনের আগেই সংকটে পড়বে যুক্তরাজ্য।

দুই দলের নেতারাই লন্ডনে নিজেদের প্রচারণা অভিযান শেষ করবেন। অন্যদিকে বুধবার লিবারেল ডেমোক্রেট নেতা জো সুইনসনও বেশ কিছু আসনে সফর করবেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: