সর্বশেষ আপডেট : ৪৩ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

ফুটন্ত জলের নদী

নিউজ ডেস্ক:: পৃথিবীর প্রকৃতির ঝুলিতে মুঠো মুঠো রহস্য। তেমনই এক রহস্য নিহিত আছে আমাজন অরণ্যের বয়েলিং রিভারে‚ যে নদীর জল ফুটন্ত। এই নদীর জলের তাপমাত্রা এতটাই বেশি যে কোনও জীবজন্তু যদি কোনওভাবে এই নদীর জলে পড়ে যায় তাহলে জীবন্তই সেদ্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এমন কোন রহস্য বয়ে নিয়ে চলেছে আমাজনের বয়েলিং রিভার যা তাকে করে তুলেছে এমন অদ্ভুত ও আলাদা?

পেরুর বয়স্ক মানুষদের মুখে মুখে ফেরা কিংবদন্তি থেকে শিশুদের গল্পশোনার আসরে কান পাতলেই শোনা যাবে বয়েলিং রিভারের নানা কাহিনি। সেখানকার মায়ানতুয়াকু নামের এক আমাজনের বিশেষ প্রজাতি রয়েছে। তাঁদেরই কিছু বিশেষ প্রতিনিধিরা দীর্ঘকাল এই বয়েলিং রিভারের রহস্য বিশ্বের মানুষের কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। কারণ বয়েলিং রিভারের জল বিশেষ ওষধিগুণসম্পন্ন বলে এই জল বিক্রি করে রোজগার করেন স্থানীয় মানুষজন । তাই নদীর ধারেকাছেও ঘেঁষতে দেওয়া হয় না বহিরাগতদের ।

‘মায়ানতুয়াকু‘ শব্দটি এসেছে ‘মায়ানতু‘ ও ‘ইয়াকু‘- এই দুটি শব্দের মিলনে। ‘মায়ানতু‘ হল এক বন্য বিশেষ শক্তি যার মাথাটি দেখতে ব্যাঙের মত‚ দেহটি টিকটিকির‚ এবং হাত ও পাগুলি কচ্ছপের। ‘ইয়াকু‘ শব্দের অর্থ হল জল। আঞ্চলিক মানুষদের বিশ্বাস ‘ইয়াকুমামা‘ নামে এক বিশেষ বন্য শক্তি মানুষের কল্যাণ করার জন্য এই বয়েলিং রিভার ও এরই সংলগ্ন ঠান্ডা জলের নদীর সৃষ্টি করেছেন।

বয়েলিং রিভার নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত হন আন্দ্রেজ রুশো। পেরুর জিওথার্মাল ম্যাপ তৈরির কাজে নিযুক্ত হন তিনি। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তৈরি করা এই জিওথার্মাল ম্যাপে পেরুর সবথেকে উষ্ণতম স্থানগুলোকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছিল। তখনই দেখা যায় চার মাইল দীর্ঘ এক বক্ররেখা যার উষ্ণতা অনেকটাই বেশি। কোনও আগ্নেয়গিরির বিস্তার এতখানি হতে পারে না। তবে কী এই দীর্ঘ উষ্ণ স্থানটি ? এটিই সেই বয়েলিং রিভার।

বয়েলিং রিভার নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আন্দ্রেজ রুজোকে কম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। স্থানীয় সদস্যরা বাণিজ্যিক ও আঞ্চলিক বিশ্বাসগত কারণে কোনও ভাবেই তাঁকে নদীর জলের কাছাকাছি যাওয়ার অনুমতি দিতে রাজি ছিল না। অনেক অনুনয় বিনয়ের পর গাঁটের কড়ি খরচ করে বয়েলিং রিভার নিয়ে গবেষণা করার সুযোগ পান আন্দ্রেজ।

সেন্ট্রাল পেরুভিয়ান আমাজন জঙ্গলের নিম্নাংশে অবস্থিত এই ফুটন্ত নদী। পুকাল্লপা শহর থেকে প্যাচিটিয়া নদী ধরে প্রায় দু‘ঘন্টার সফরের পর পেকেপেকে নৌকায় করে বয়েলিং রিভারের দিক যাত্রা করেন আন্দ্রেজ। ঠান্ডা জল ধীরে ধীরে গরম হয়ে উঠতে থাকে। জলের উপরে দেখা যেতে থাকে ধোঁয়ার কুন্ডলী। গবেষণা চালনা করার জন্য তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাস শুরু করেন তিনি। মেপে দেখেন জলের তাপমাত্রা প্রায় ২০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। দুদিকের জঙ্গল প্রায় ৬০ ফুট উঁচু। নদীর জলের গভীরতা ১৬ থেকে ২৫ ফুটের মত। নদীটি প্রায় ৮২ ফুট চওড়া। নদীর মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বড় বড় সাদা পাথর। পাখি থেকে বাঁদর‚ মরা পশুপাখির সেদ্ধ হয়ে যাওয়া দেহ ভেসে বেড়াচ্ছে জলে। ফুটন্ত জলে উঠছে বুদ্বুদ।

আন্দ্রেজ পরীক্ষা করে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন যে বয়েলিং রিভারের জল গরম হওয়ার আসল কারণ কী। কারণ সম্ভাব্য সমস্ত কারণগুলিই এক্ষেত্রে নাকচ হয়ে গিয়েছিল। অনেকসময় নদীর নিকটবর্তী অঞ্চলের কোনও আগ্নেয়গিরির লাভা চুঁইয়ে এসে জল গরম হয়ে যায়। কিন্তু বয়েলিং রিভারের নিকটবর্তী আগ্নেয়গিরির অবস্থান নদী থেকে প্রায় চারশো মাইল দূরে। তবে আসল কারণ কী ?

আন্দ্রেজের মতে বয়েলিং রিভারের জলের তাপমাত্রা এত বেশি হওয়ার কারণ ফল্ট লেড হাইড্রোথার্মাল ফিচার। নদীর জল চুঁইয়ে মাটির ভিতরে প্রবেশ করে অত্যন্ত গরম হয়ে আবার মাটির উপরে উঠে আসছে এবং এই প্রক্রিয়াটি ক্রমাগত চলতে থাকায় নদীর জলের তাপমাত্রা এত বেশি হয়ে যাচ্ছে। তবে এই যুক্তির যথার্থতা প্রমাণ করার মত তথ্যপ্রমাণ এখনও সঞ্চয় করা যায়নি। এছাড়াও আন্দ্রেজের মতে চিন্তার একটি বড় কারণ হতে পারে আঞ্চলিক বেআইনি তৈলক্ষেত্রগুলির প্রকোপ। বহু বড় বড় সংস্থা বেআইনিভাবে এই অঞ্চলের তৈলক্ষেত্রগুলি ব্যবহার করছে ও গাছপালা কাটছে যার ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণ আরও বেশি বেড়ে যাচ্ছে। আন্দ্রেজ তাঁর সহকর্মী বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মিলিত গবেষণা চালাচ্ছেন এবং চেষ্টা করছেন এই বিশেষ জায়গাটির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য যাতে বজায় থাকে সহায়তা করা যেতে পারে। কিন্তু বৃক্ষনিধনের মাত্রা অপরিবর্তিত থাকলে বয়েলিং রিভার অঞ্চলের স্বাভাবিক প্রাকৃতিক অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: