সর্বশেষ আপডেট : ১০ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কুলাউড়াকে দেশের ৬৫তম জেলা ও পর্যটন জেলা ঘোষণার দাবি, বাড়বে রাজস্ব আয়

মাহফুজ শাকিল, কুলাউড়া:: কুলাউড়া উপজেলাকে দেশের ৬৫তম জেলা ও পর্যটন জেলা ঘোষণার দাবি জোরালো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। দেশের পূর্বাঞ্চলীয় ৪ উপজেলা নিয়ে কুলাউড়াকে পর্যটন জেলার দাবি তুলেছেন উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, এক সময়ের প্রতিভাবান সাংবাদিক আব্দুল বাছিত বাচ্চু। বৃহস্পতিবার এই দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে একটি খোলা চিঠি লিখেন। সেখানে তিনি দেশের অনেক ছোট জেলার উদাহরণ টেনে নতুন জেলার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। নিজের ফেসবুকে টাইমলাইনে লেখা চেয়ারম্যান বাচ্চুর চিঠি মুহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়। দেশে-বিদেশে থাকা দেশের পূর্বাঞ্চলের অনেক বিশিষ্টজন এ বিষয়ে সহমত পোষণ করছেন।
প্রস্তাবিত জেলায় ৪ উপজেলা, ৩ পৌরসভা, ৩৮টি ইউনিয়ন, ১০টি ছোট বড় নদ-নদী, অর্ধশতাধিক চা বাগান।
কুলাউড়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নকে দুটি উপজেলা করা যেতে পারে। এতে ৪টির স্থলে ৫টি উপজেলা নিয়ে হতে পারে প্রস্তাবিত জেলা। আবার কমলগঞ্জকে বাদ দিয়েও ৪টি উপজেলা নিয়ে পর্যটন জেলা হওয়া সম্ভব। প্রস্তাবিত এই জেলার জনসংখ্যা হবে প্রায় ১১ লাখ আর জেলার আয়তন হবে ১৬৪৩ দশমিক ৯৭ বর্গকিলোমিটার। তিনটি সংসদীয় আসন (বড়লেখা -জুড়ী, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ) হবে নতুন এই জেলায়। প্রস্তাবিত জেলার নাম হতে পারে কুলাউড়া, হাকালুকি বা মনু অথবা সর্বজন গ্রহণযোগ্য যেকোন একটি। আর নতুন এই জেলা হলে পর্যটকদের যেমন আকর্ষণ আর এ খাতের আয় বাড়বে ঠিক তেমনি অবহেলিত পূর্বাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন আর পরিবর্তন হবে ।

পর্যটন খাতের সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে গত ২৫ অক্টোবর শুক্রবার মৌলভীবাজার জেলায়ও এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব, পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন এবং জেলার বিশিষ্ট নাগরিকেরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সময়ের সল্পতার কারণে বিজ্ঞ নাগরিকদের অনেকেই এ বিষয়ে তাদের মুল্যবান মতামত ব্যক্ত করতে পারেননি। কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মতামত তুলে ধরলে মানুষের ব্যাপক সমর্থন পান। তিনি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লিখিত আকারে পাঠাবেন বলেও জানান।

চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু আরও জানান, পর্যটকদের জন্য যেমন আকর্ষণীয় স্পষ্ট দরকার হয়, ঠিক তেমনি প্রয়োজন হয় সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, মানসম্মত খাবার ও আবাসিক ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা আর গাইডলাইন। কুলাউড়াকে যদি পর্যটন জেলা করা হয়, তাহলে পর্যটকরা এই জেলায় এসে যেসব প্রকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করবে সেই তালিকায় রয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি হাওর, মাধবকুন্ড ও হাম হাম জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, শমসের নগর বিমান ঘাটি, অসংখ্য চাবাগান, খাসিয়া পল্লী, দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা, চাতলাপুর স্থলবন্দর, মুড়াই ছড়া ইকোপার্ক, নদী ছড়া সবই দেশের পূর্বাঞ্চলের কুলাউড়া, জুড়ি, বড়লেখা ও কমলগঞ্জে অবস্থিত। তাছাড়া খাসিয়া, গারো, মুনিপুরি, শাওতাল, চা শ্রমিক হিন্দু মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের বসবাস। তাই এই এলাকার কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, জুড়ি ও বড়লেখা উপজেলা নিয়ে আরো একটি পৃথক জেলা তথা দেশের ৬৫ তম জেলা করা হলে পর্যটন খাতের অভাবনীয় সাফল্য আসবে।

এখানকার মানুষের মতে, যোগাযোগ ও মধ্যবর্তী অবস্থান বিবেচনা করে প্রস্তাবিত জেলার হেডকোয়ার্টার হতে পারে কুলাউড়ায়। এতে পর্যটকদের যাতায়াত ব্যয় কমে যাবে অর্ধেক। দেশের যেকোন এলাকা থেকে হেলিকপ্টার, বিমান, ট্রেনে অথবা সড়ক পথে এখানে আসতে পারবেন পর্যটকেরা। আর জেলা সদর হলে এই এলাকার নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ভৌত অবকাঠামো গড়ে উঠবে। ফলে পর্যটকদের আবাসিক সমস্যারও সমাধান হবে।
প্রস্তাবিত জেলার আয়তন আর জনসংখ্যা দেশের অনেক জেলার চেয়ে বেশি হবে। যেমন দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের আয়তন ১৪০৪ দশমিক ৩৩ বর্গকিলোমিটার, রাজবাড়ীর আয়তন ১০৯২ দশমিক ৩০ বর্গকিলোমিটার, দক্ষিণ পশ্চিমের মাগুরার আয়তন ১০৪৯ বর্গকিলোমিটার, চুয়াডাঙ্গার ১১৭০ দশমিক ৮৭ বর্গকিলোমিটার আর মধ্যাঞ্চলের নারায়ণগঞ্জ জেলার আয়তন মাত্র ৬৮৩ দশমিক ১৭ বর্গকিলোমিটার। এই সবকটির আয়তন প্রস্তাবিত পর্যটন জেলার চেয়ে অনেক কম। এমনি অনেক জেলায় সংসদীয় আসন মাত্র ২ টি করে। আর পার্বত্য অঞ্চলে তো একেক জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: