সর্বশেষ আপডেট : ১৭ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পুরুষদের জন্য ‘জন্মনিয়ন্ত্রণ ইনজেকশন’ আবিস্কার করলো ভারত

নিউজ ডেস্ক:: শুধু নারী নয় পুরুষরাও এবার জন্মনিরোধ করতে পারবেন সহজ এক পদ্ধতিতে। ইনজেকশনের মাধ্যমে তাদের শুক্রাণু দীর্ঘমেয়াদে ধ্বংস করা যাবে। ভারতীয় বিজ্ঞানীরা তেমনি এক ইনজেকশন আবিস্কার করেছেন, যেটি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী তারা।

বিশ্বে এই প্রথম পুরুষের জন্য কন্ট্রাসেপটিভ ইনজেকশন বাজারে আনছে ভারত। তবে এই কন্ট্রাসেপটিভ ইনজেকশন খুব দ্রুত বাজারে আসবে। একবার গ্রহণ করলে প্রায় ১৩ বছর পর্যন্ত কার্যকরী থাকবে।

অনেক পুরুষ জন্মনিয়ন্ত্রেণের জন্য অপারেশন করিয়ে থাকেন। তবে এখন আর তার প্রয়োজন হবে না। কারণ এই নতুন কন্ট্রাসেপটিভ ইনজেকশনের মাধ্যমে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

একটা সময় ছিল, যখন পরিবার ছোট রাখতে জন্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়টি শুধু নারীর ওপর চাপানো হতো। তবে সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য পুরুষরা পরিবারে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন।

পুরুষের জন্মনিয়ন্ত্রণের এই ইনজেকশনের খোঁজ দিলেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের (আইসিএমআর) গবেষকরা।

আইসিএমআর-এর গবেষক আর এস শর্মার বরাত দিয়ে আনন্দবাজার তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘শিগগিরই ইনজেকশনটি বাজারে আসবে। ইতোমধ্যে তিন ধাপে এর নানা পরীক্ষা-নিরিক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।’ এছাড়া তিনবার পরীক্ষামূলকভাবে ইনজেশকটি ব্যবহার করা হয়েছে। যাতে তারা সন্তুষ্ট।

তিনি জানালেন, ‘মোট ৩০৩ জন পুরুষের উপর এই ইনজেকশন প্রয়োগ করে দেখা গেছে ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশ ক্ষেত্রেই ফলাফল আমাদের অনুকূলে এসেছে। বাজারজাত করা হলে এটিই হবে পুরুষদের জন্য তৈরি বিশ্বের প্রথম কন্ট্রাসেপটিভ ইনজেকশন।’

ভারতসহ গোটা বিশ্বে এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিষয়ক এক ওয়েবসাইটে সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দাবি করা হচ্ছে, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র এমন ইনজেকশন তৈরি করলেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে তা বাজারজাতকরণ সম্ভব হয়নি।

অধ্যাপক আর এস শর্মা বলেন, ‘১৯৭০ সালে আইআইটির অধ্যাপক এস কে গুহ একটি পলিমারের সন্ধান দেন। সেটি নিয়ে ১৯৮৪ সাল থেকে গবেষণা করছি আমরা। কয়েকবার পরীক্ষ-নিরিক্ষসহ ইঁদুর ও মানুষের ওপর প্রয়োগ করে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিবেচনায় নিয়েই আমরা এতদিন ধরে গবেষণা চালিয়েছি।’

ভারত সরকারের সাবেক পরিবারকল্যাণ সচিব এ আর নন্দ বলেন, ‘জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বিষয়গুলো নিয়ে আরও বেশি প্রচার চালানো উচিত সরকারের। কোনো সমস্যা ছাড়াই পুরুষরাও যে গর্ভনিরোধনে এগিয়ে আসতে পারেন এমন প্রচার এখন প্রয়োজন। তাহলেই এই ইনজেকশনের গুরুত্ব বুঝবে মানুষ।’

কীভাবে প্রয়োগ হবে এই ইনজেকশন?

কন্ট্রাসেপটিভ ইনজেকশনের প্রয়োগ অস্ত্রপচারের চেয়েও সহজ। অ্যানাস্থেশিয়ার মাধ্যমে এই পলিমারটি টেস্টিক্যালসের কাছে শুক্রাণু বহনকারী টিউবে প্রয়োগ করা হবে। তাতে করে শুক্রাণু নির্গমন বাধাপ্রাপ্ত হবে।

ভারতীয় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, কেউ যদি একবার এই ইনজেকশন নেয় তাহলে প্রায় ১৩ বছর পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে। কনডম ও পিলসহ অন্য গর্ভনিরোধক পদ্ধতির চেয়ে এই ইনজেকশনের ক্ষমতা অনেক বেশি হওয়ায় তা ব্যাপক জনপ্রিয় হবে বলেই আশা তাদের।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: