সর্বশেষ আপডেট : ১২ ঘন্টা আগে
সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অন্য কারো উসকানি, আইনে ত্রুটি আছে

নিউজ ডেস্ক:: নতুন সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়নের পর থেকে তা সংশোধনের দাবি করে আসছে গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। দেশের বিভিন্ন জায়গার কয়েকদিন ধরে এই আইন ‘সংস্কার’র দাবিতে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট পালন করছেন তারা। এছাড়া একই দাবিসহ নয় দফা দাবিতে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য পণ্য প‌রিবহনে ধর্মঘট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে যত চাপই আসুক, এই আইন অকার্যকর করা যাবে না। ১ নভেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর করা হয়।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন সামনে। এ কারণে অপপ্রচার চালিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভ্রান্তি ছড়িয়ে গাড়িচালকদের কর্মবিরতিতে নিয়ে যেতে যড়যন্ত্র করছে কেউ। বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে নতুন সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে।

পরিবহন শ্রমিকদের কর্মসূচির বিষয়ে শাজাহান খান বলেন, আমরা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আগামী ২১ ও ২২ নভেম্বর বর্ধিতসভা আহ্বান করেছি। সেখানে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সারা দেশ থেকে আসবেন। সভায় আমরা শ্রমিক প্রতিনিধিদের মতামত জানব। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ আমরা সরকারের কাছে তুলে ধরব।

‘কিন্তু সভার আগেই কে বা কারা পরিবহন শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছে। আমরা তো দিচ্ছি না। বলা হচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনার দায়ে চালকদের ফাঁসি হবে—এটা নতুন আইনে আছে। আসলে সেটা নতুন আইনে নেই। নতুন আইনে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি রাখা হয়েছে পাঁচ বছরের জেল ও সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।’

অন্যদিকে বিপ্লবী সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মনজুরুল আহসান খান মনে করেন, সড়ক পরিবহন আইন উন্নত করা হয়েছে। তার পরও এতে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। যেমন গাড়ির ফিটনেস না থাকলে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করার বিধান রয়েছে, কিন্তু এটি নেওয়া হবে চালকের কাছ থেকে। গাড়ির ফিটনেস আছে কি না সেটা তো দেখবেন গাড়ির মালিকরা। তাহলে এখানে চালকের কাছ থেকে কেন জরিমানা নেওয়া হবে? মালিকরা গাড়ির চালকদের নিয়োগপত্র দেন না। আইনে আগে থেকে বাধ্যতামূলক থাকার পরও মালিকরা এই নিয়োগপত্র দিচ্ছেন না। ফলে আনফিট গাড়ি নিয়েই চালকদের রাস্তায় বের হতে হয়।

তিনি বলেন, পরিবহন নেতা শাজাহান খানরা উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন। চালকদের নিয়োগপত্র যে বাধ্যতামূলক তা দিতে মালিক সমিতি সহযোগিতা করছে না। চালকদের নিয়োগপত্র না দিয়ে তাদের ১৬-১৮ ঘণ্টা খাটানো হচ্ছে। পাঁচ ঘণ্টা পর চালকদের বিশ্রাম নিতে হবে। দূরপাল্লার বাসে দুইজন চালক রাখতে হবে। আট ঘণ্টার বেশি খাটানো যাবে না শ্রমিকদের। এটা মালিকরা মানছেন না।

সড়কে শৃঙ্খলার জন্য অনেক ক্ষেত্রে মালিকদের দায় বেশি, এসব ক্ষেত্রে মালিকদের শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। মৌলিক বিষয় বাস্তবায়ন না হলে নতুন আইনের বাস্তবায়ন হবে না বলেও জানান তিনি।

নতুন আইনের উল্লেখযোগ্য ১৪টি বিধান

১. সড়কে গাড়ি চালিয়ে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে হত্যা করলে ৩০২ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

২. সড়কে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালালে বা প্রতিযোগিতা করার ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। আদালত অর্থদণ্ডের সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেয়ার নির্দেশ দিতে পারবে।

৩. মোটরযান দুর্ঘটনায় কোন ব্যক্তি গুরুতর আহত বা প্রাণহানি হলে চালকের শাস্তি দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল ও সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা।

৪. ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরযান বা গণপরিবহন চালানোর দায়ে ছয় মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেয়া হয়েছে।

৫. নিবন্ধন ছাড়া মোটরযান চালালে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

৬. ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার এবং প্রদর্শন করলে ছয় মাস থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

৭. ফিটনেসবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ মোটরযান চালালে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেয়া হয়েছে।

৮. ট্রাফিক সংকেত মেনে না চললে এক মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দণ্ডিত করা হবে।

৯. সঠিক স্থানে মোটর যান পার্কিং না করলে বা নির্ধারিত স্থানে যাত্রী বা পণ্য ওঠানামা না করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।

১০. গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বললে এক মাসের কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

১১. একজন চালক প্রতিবার আইন অমান্য করলে তার পয়েন্ট বিয়োগ হবে এবং এক পর্যায়ে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে।

১২. গণ পরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে অতিরিক্ত ভাড়া, দাবী বা আদায় করলে এক মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দণ্ডিত করা হবে।

১৩. আইন অনুযায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্সে পেতে হলে চালককে অষ্টম শ্রেনি পাস এবং চালকের সহকারীকে পঞ্চম শ্রেণি পাস হতে হবে হবে। আগে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোন প্রয়োজন ছিল না।

১৪. গাড়ি চালানোর জন্য বয়স অন্তত ১৮ বছর হতে হবে। এই বিধান আগেও ছিল।

এছাড়া সংরক্ষিত আসনে অন্য কোনও যাত্রী বসলে এক মাসের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: