সর্বশেষ আপডেট : ১২ ঘন্টা আগে
সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মায়ান্তি ল্যাঙ্গার: ক্রিকেট বিউটি উইথ ব্রেইন

নিউজ ডেস্ক:: আমরা ধারাভাষ্যকার হিসাবে-ড্যানি মরিসন, হার্সা ভোগলে কিংবা আতাহার আলী খানদের মত ধারাভাষ্যকারদের না হয় ভাল করেই চিনি বা জানি। কিন্তু লেডিস ধারাভাষ্যকার/উপস্থাপিকা গুলোকে বা কজনই আমরা চিনি বা জানি। কিন্তু যারা আমরা স্টার স্পোর্টস, টেন ক্রিকেট, জি সিরিজ চ্যানেল গুলো ফলো করে থাকি তারা হয় ত তাকে ভাল করেই চিনি বা জানি। বলছিলাম মায়ান্তি ল্যাঙ্গারের কথা।

জন্ম ১৯৮৫ সালে দিল্লীর এক সম্ভ্রান্ত খ্রিস্টান পরিবারে। বাবা ছিলেন ভারতীয় লেফটেন্যান্ট জেনারেল সঞ্জীব ল্যাঙ্গার, ভারতীয় সেনাবাহিনীর হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতিসংঘে। মা প্রেমিন্দা ল্যাঙ্গার পেশাগত স্কুল শিক্ষিকা। মায়ান্তির জন্ম ভারতে হলেও শৈশব এবং কৈশোর কেটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ফুটবল ছিল তার প্রিয় খেলা। পেশাগত হিসাবে না হলেও স্কুল, কলেজে নিয়মিত খেলতেন ফুটবল।

বর্তমানে উপস্থাপনা করছেন আইপিএল-এর কেন্ট ক্রিকেট বিশ্লেষণধর্মী লাইভ ক্রিকেট অনুষ্ঠানে। এর আগে আইপিল-এ কাজ করেছেন অনেক লেডি কিন্তু তারা পেশাগত ক্রিকেটার ছিলেন। তবে আপনি যদি মায়ান্তিকে তাদের সাথে তুলনা করেন ভুলটা আপনারই হবে। সাবেক ক্রিকেটার না হওয়া স্বত্বেও মায়ান্তির ভিতরে রয়েছে ক্রিকেট বিশ্লেষণ করার মত দারুণ প্রতিভা। এক কথায় বলতে গেলে ক্রিকেট বিউটি উইথ ব্রেইন। মায়ান্তির মধ্যে রয়েছে অসাধারণ উপস্থাপনা, শব্দশৈলী, বাচনভঙ্গির এবং দূরান্ত বিশ্লেষণের এক প্রতিভা। তার সামনে যেন হার মেনে যায় বিশ্বের সব বড় বড় ক্রিকেট বোদ্ধারা।

এই ক্যারিয়ারে কাজ করেছেন সুনিল গাভাস্কার, ড্যানি মরিসন, আকরামদের মত বিশ্বসেরা ক্রিকেট বোদ্ধাদের সাথে। ক্যারিয়ারে ক্রীড়া উপস্থাপিকা মায়ান্তির জয়জয়কার অবস্থা। তখন স্টার স্পোর্টসের মতো বড় চ্যানেলে কাজ করার মাধ্যমে সাক্ষাৎকার নিয়েছে শচীন, সৌরভ, দ্রাবিড়, বিরাট, স্মিথ, ওয়ার্নার, গেইল, হাশিম, সাকিব, ওয়াটসন, ব্রাভো, ধোনি, রাসেলদের মত বিশ্ব সেরা ক্রিকেটারদের।

মায়ান্তিকে যদি ভিন্ন ভাবে পরিচয় করিয়ে দেই সেটা আরো হাস্যকর এবং আনন্দের। ২০১২ সালের প্রথমদিকের ঘটনা। সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটার স্টুয়ার্ট বিনির। স্টুয়ার্ট বিনি ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য সাবেক ক্রিকেটার রজার বিনির ছেলে। টিভি পর্দায় মায়ান্তিকে দেখলেও বাস্তবে সেটি ছিল মায়ান্তিকে প্রথম দেখা। ব্যাপারটি স্টুয়ার্টের কাছে ‘লাভ এ্যাট ফার্স্ট সাইট’ এর মতো। দ্বিধা-বোধ না করে মায়ান্তিকে দিয়ে বসলেন প্রেমের প্রস্তাব। মায়ান্তিও গ্রহণ করলেন সে প্রস্তাব। তবে বয়সে মায়ান্তির চেয়ে ৪ মাসের ছোট স্টুয়ার্ট। পরিচয় হওয়ার ৬ মাস পরেই ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিয়ের পিঁড়িতে বসেন মায়ান্তি ল্যাঙ্গার ও স্টুয়ার্ট বিনি।

কাকতালীয় একটা ঘটনা বলি, জীবনে অনেকবার বিনির সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ হয়েছে মায়ান্তির কিন্তু বিয়ের পর নিয়েছে মাত্র একবার তাও আবার নিজেদের বিয়ের ৫ম বিবাহ বার্ষিকী দিনে ৪৬ বলে করেন ৮৭ রানের দূরান্ত এক ইনিংস এবং বল হাতে ২ উইকেট ম্যাচ সেরা বিনি। দুজনের লজ্জায় মুখ লাল হয়েছিল কিন্তু পরিচয় দিয়েছেন পেশা দায়িত্বের। বিনি বলেই দিয়েছিলো ‘আজকের দিনটা সত্যি আমার জন্য স্পেশাল’।

আইপিএল চলাকালীন সময়ে ফাহাদ খান নামে মায়ান্তির এক ভক্ত টুইট করেছিলেন, ‘আপনাকে দেখলে আমার আইপিএল দেখতে ইচ্ছে করে না। আপনার মত ব্যক্তি খুব কমই আছে। আপনাকে ডিনারে নিতে পারলে আমি অনেক খুশি হতাম। আপনি কত সুন্দরী তা বলে বোঝাতে পারব না।’

মায়ান্তি তাকে হতাশ করেনি সাধরে দাওয়াত গ্রহণ করেন মায়ান্তি ফিরতি টুইটে জানান, ‘আমি এবং আমার স্বামী আপনার ডিনারে যেতে রাজি।’

বর্তমান সময়ে উপস্থাপনা পেশাটা অনেক জনপ্রিয়। আর সেটি যদি ক্রিয়া ভিত্তিক হয় তাহলে তো সোনায় সোহাগা, তাই বলে নিজের চেহারা কিংবা গ্ল্যামার নিয়ে এই পেশায় আসলে হবে না। আসার আগে আনতে হবে ক্রিকেটীয় জ্ঞান এবং মূল পুঁজি। তাই যারা ক্রিয়া উপস্থাপনায় আসতে চান তারা ক্রিকেট বা ফুটবল বা অনন্য খেলার নিয়মকানুন কৌশল আয়ত্ত করেই আসুন। তাহলে হয়ত আপনি হবেন দেশের প্রথম কিংবা বিশ্বের দ্বিতীয় মায়ান্তি।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: