সর্বশেষ আপডেট : ১০ ঘন্টা আগে
শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ওই সময় ইয়াবা ছিল না, আমি সবার কাছে ক্ষমা চাই: রাঙ্গা

নিউজ ডেস্ক:: সোমবার রাতে বেসরকারি এক টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাঙ্গা বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মারা যাওয়ার পরও তাকে যেভাবে অপমান করা হয়, সে ক্ষোভ থেকেই বিতর্কিত কিছু শব্দ ব্যবহার করে ফেলেছিলেন তিনি। এজন্য তিনি সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে রাঙ্গা প্রশ্ন তুলে বলেন, এক সাথে জোট করে এরশাদকে স্বৈরাচার বলা কতটা যৌক্তিক। এই বিষয়ে বিহীত করতে শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চাইবেন বলেও জানান তিনি। বলেন, এরশাদ সাহেব মারা যাওয়ার পরও তাকে যেভাবে আওয়ামী লীগ থেকে অপমান করা হয়, সেটা মেনে নেয়া যায় না।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘গণতন্ত্র দিবসের আলোচনায় আমি নূর হোসেনকে ইয়াবাখোর ও ফেনমসিডিল খোর বলেছিলাম, এটা আসলে আমার স্লিপ অব টাং।

ওই সময় ইয়াবা ছিল না, ফেনসিডিলও ছিল না। শব্দ দুটি আমার বলা ঠিক হয়নি। এ দুটি শব্দ আমি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি, ক্ষমা চাইছি।’

শহীদ নূর হোসেনের পরিবার আপনাকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন, আপনি তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইবেন কি না জানতে চাইলে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘আপত্তি থাকবে কেন? তাদের সঙ্গে আমার তো ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই। আমি মিডিয়ার মাধ্যমে নূর হোসেনের পরিবারের কাছেও ক্ষমা চাইছি।’

তিনি বলেন, ‘নূর হোসেনকে রাজনীতির বলী বানানো হয়েছে। তিনি সুস্থ প্রকৃতির লোক ছিল না। কোনো সুস্থ প্রকৃতির মানুষ গুলি খেয়ে মরতে যাবেন? এরশাদ সাহেবকে ফাঁসানোর জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশেষ মহল নূর হোসেনের পিটে, বুকে স্লোগান লিখে দেয়। তারাই তাকে গুলি করে হত্যা করে। পুলিশ গুলি করলে তার বুকে গুলি লাগার কথা, কিন্তু পেছনে লাগলো কীভাবে?’

‘‘বুকেপিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ এসব কথা তো আপনি আপনার বুকে আঁকতে বা লিখতে পারেন না। কেউ না কেউ এটা লিখে দিয়েছে। একজন সুস্থ প্রকৃতির মানুষ এটি কোনো সময় করতে পারে না। এটা কেউ না কেউ সাবোটাজ করেছে। একটা লাশের দরকার ছিল। সেটা তারা করেছে।’’

একইভাবে আমরা ডাক্তার মিলন হত্যারও প্রতিবাদ করেছি। তাকেও পেছন থেকে গুলি করা হয়েছে। এগুলো হলো রাজনীতির আলোচনা, দাবি করেন রাঙ্গা।

এর আগে গত রোববার (১০ নভেম্বর) রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে মহানগর উত্তর শাখা আয়োজিত দলের ‘গণতন্ত্র দিবস’র এক আলোচনা সভায় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অগ্নি শিখা রূপি নূর হোসেনকে ‘ইয়াবাখোর, ফেনসিডিলখোর’বলে মন্তব্য করেছিলেন দলটির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা।

তার এই বক্তব্যের পরপরই ঝড় উঠে সোশাল মিডিয়ায়। রাঙ্গার এমন বক্তব্যে হতবাক হয় নূর হোসেনের পরিবারও। তার এমন বক্তব্যে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে গতকাল সোমবার প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেয় নূর হোসেনের পরিবার। তার মা মরিয়ম বেগম রাঙ্গাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানালে গণমাধ্যমের সামনে ক্ষমা চান এ রাজনীতিবিদ।

এদিকে, ৯০-এর গণআন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনের আত্মত্যাগকে কটাক্ষ ও বিকৃত করায় রাঙ্গাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সোমবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে রাঙ্গার বক্তব্য অবমাননাকর উল্লেখ করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমার চাইতে বলা হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর বুকে ও পিঠে “স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক” শ্লোগান লিখে রাস্তায় নেমেছিলেন নূর হোসেন। এরশাদের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। ওইদিন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন নূর হোসেন।

মিছিলটি “জিরো পয়েন্ট” এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান নূর হোসেন। মূলত এই ঘটনার পর এরশাদবিরোধী আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে এবং ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন স্বৈরাচার এরশাদ।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: