সর্বশেষ আপডেট : ৮ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নানা বিষয়ে সমালোচনা, ধুম্রজাল নিয়েই সিলেটে রবীন্দ্র স্মরণোৎসব শুরু

ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: নানা বিষয়ে সমালোচনা আর অনুষ্ঠান নিয়ে ধুম্রজালের মধ্যদিয়েই আজ সিলেটে শুরু হচ্ছে রবীন্দ্র স্মরণ উৎসব-২০১৯। শুরু থেকেই কমিটি গঠন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, অংশগ্রহণকারী বাছাই, অনুষ্ঠানের অর্থের উৎস ও মোট ব্যয় নির্ধারণ না করা নিয়ে ছিলো নানামুখী আলোচনা। কমিটি থেকে বিতর্কিত লোকজনকে বাদ দিতে নগরীতে সরকার দলীয় রাজনীতিবিদ ও সংস্কৃতিকর্মীরা করেছেন মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ। এমনকি নানা আলোচনা সমালোচনার মুখে কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘটনাও ঘটে।

এখানেই শেষ নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানের সমাপনি দিন উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শেষমেশ তিনিও আসছেন না। সব মিলিয়ে একটি গণ্ডির মধ্যদিয়ে শুরু হচ্ছে এ উৎসব। আজ মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় অনুষ্ঠিত হবে শোভাযাত্রা। এরপর বিকাল ৩ টা ৩০ মিনিটে ক্বিন ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে রবীন্দ্রনাথের ম্যুর‍্যাল উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন স্মরণোৎসবের আহ্বায়ক সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এবং উৎসব চলবে ৮ নভেম্বর রাত পর্যন্ত।

সব মিলিয়ে বলতে গেলে সিলেটবাসীর আয়োজনে সর্ববৃহৎ একটি উৎসব হতে চললেও নেই তেমন কোন প্রচারণা। গুটিকয়েক বেলুন আর ফেস্টুন লাগিয়েই দায় সেরেছেন আয়োজক কমিটি। আর হাতে হাতে নির্ধারিত ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানে দেয়া হয়েছে আমন্ত্রণপত্র। এছাড়া এটি সিলেটের সর্ববৃহৎ উৎসব হিসেবে বলা হলেও একটি নাট্যোৎসবে যে প্রচারণা হয় তার সিকিভাগ প্রচারণাও চোখে পড়েনি।

ক্বিন ব্রিজ, মাছিমপুর, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ, মুরারিচাঁদ কলেজ, সিংহ বাড়ি, সিলেট জেলা স্টেডিয়াম ইত্যাদি জায়গায় আলাদা আলাদাভাবে নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে হবে এ রবীন্দ্র স্মরণ উৎসব।

কিন্তু স্মরণ উৎসব শুরু হলে কি হবে উৎসবের পরতে পরতে ধুম্রজাল। নেই কোন পূর্ণাঙ্গ বাজেট। রবীন্দ্র স্মরণ উৎসব হলেও রবীন্দ্রনাথের কোন নাটক না থাকা নিয়েও আছে ক্ষোভ। বিতর্কিতদের দিয়ে কমিটি গঠন ও দুর্নীতি মামলায় কারান্তরীণ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া অনুষ্ঠানের সমাপনী দিন উপস্থিত থাকবেন’; এমন ঘোষণা দিয়ে চাপের মুখে পদ ছাড়লেও অনুষ্ঠানের নেপথ্যের কারিগর হিসেবে সর্বক্ষেত্রে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আমিনুল ইসলাম চৌধুরী লিটনের জড়িয়ে থাকার ব্যাপারটি নিয়ে চলছে সমালোচনা।

শুরুতে অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, যুগ্ম আহ্বায়ক মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ ও সদস্য সচিব সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের সভাপতি আমিনুল ইসলাম চৌধুরী লিটন। শেষমেশ খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়ে চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন আমিনুল ইসলাম চৌধুরী লিটন। কিন্তু পদত্যাগ করলেও অনুষ্ঠানের সকল কিছুতেই জড়িয়ে আছেন তিনি। আর অব্যাহতি না নিলেও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে উৎসবের সকল কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও উৎসবের যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ।

সব মিলিয়ে নানা সমালোচনা থাকলেও সর্বজন শ্রদ্ধেয় আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কারণে সকল শ্রেণির মানুষ সমর্থন জানান স্মরণ উৎসবকে। কিন্তু শুরু থেকে নানা বিতর্কের মাঝে অনুষ্ঠানের আগের দিন এসে যোগ হয় নতুন বিতর্ক। যার ডালপালা মেলে শ্রীহট্ট ব্রাহ্ম সমাজের নিজস্ব অর্থায়নে একদম স্বতন্ত্র একটি অনুষ্ঠানকে স্মরণ উৎসবের অনুষ্ঠানসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক একটি বিবৃতি দিয়ে শ্রীহট্ট ব্রাহ্ম সমাজের পক্ষ থেকে নিন্দা জানানো হয়। এমনকি অন্যদের স্বতন্ত্র অনুষ্ঠান নিজেদের অনুষ্ঠানসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে অনুষ্ঠানের আগের দিন এসে পদত্যাগ করেন স্মরণ উৎসবের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইলেক্ট্রিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ইমজা) সিলেটের সভাপতি বাপ্পা ঘোষ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘নানা কারণে অনুষ্ঠানে আয়োজনের শুরু থেকেই বিতর্ক চলে আসছিলো। বলতে গেলে অনুষ্ঠানের আয় ও বাজেটের বিষয়টি নিয়েও স্বচ্ছতা নেই। কত টাকা বাজেট, কোথা থেকে আসবে, কিভাবে খরচ হবে এসব বিষয়ে আমি নিজেও প্রশ্ন করে কোন উত্তর পাইনি। তাছাড়া আমি শুনেছি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিভিন্নরকম ভাবে চাঁদাও নেয়া হচ্ছে। কিন্তু সে হিসেবও কেউ জানে না। কেবল তাই না, নিন্দার ব্যাপার হল অন্যের অনুষ্ঠান নিজেদের সূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে অনুষ্ঠানের পরিধি বড় দেখানো। তাই আমি পদত্যাগ করেছি। যদিও আরো আগেই পদত্যাগ করা উচিৎ ছিলো কিন্তু বিলম্বেই পদত্যাগ করলাম।’

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশের তুলনায় নাটকের ক্ষেত্রে সিলেটের নাম সর্বমহলে সমাদৃত ও গত বছর সিলেটসহ বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নাট্যদল এনে নাটক প্রদর্শনীর রেকর্ড তৈরি করেছিলো সিলেট। কিন্তু রবীন্দ্র স্মরণ উৎসবের মতো একটি বৃহৎ আয়োজনে সিলেটের নাট্যকর্মী বা কোন সংগঠনের পক্ষ থেকে নাটক না থাকায় অনেকটা ক্ষুব্ধ নাট্যকর্মীরা। সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সম্প্রতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিসর্জন নাটকের মহড়া করলেও শেষমেশ তা প্রদর্শনী করার উপযোগী না হওয়ায় তা প্রদর্শন করা সম্ভব না হলেও নাট্যালোক, সিলেট (সুরমা) এর চলমান প্রযোজনা ‘শাস্তি’ ও কথাকলি, সিলেটের নাটক ‘মেহেরজান’ প্রদর্শন করা যেত বলেও মত নাট্যকর্মীদের।

এ প্রসঙ্গে নাট্যালোক সিলেটের জ্যেষ্ঠ নাট্যকর্মী বাবুল আহমদ বলেন, ‘সম্মিলিত নাট্য পরিষদের পক্ষ থেকে তারা যেহেতু করতে পারেননি সে ক্ষেত্রে আমাদের জানালে আমরা অংশ নিতাম। তাছাড়া নাট্যালোকের শাস্তি নাটক সকলের দেখা। মানের ক্ষেত্রেও সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবুও সম্মিলিত নাট্য পরিষদের দায়িত্বশীলরা কেন উদ্যোগ নিলেন না বা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলেন না তা আমাদের বোধগম্য নয়। কারণ সিলেটের নাট্যাঙ্গণের অভিভাবক পরিষদ হিসেবে এ ক্ষেত্রে সম্মিলিত নাট্য পরিষদের ভূমিকা আমার কাছে পরিষ্কার নয়।’

তবে নাটক না থাকার ব্যাপার নিয়ে অনেকটা ব্যথিত খোদ সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু। তিনি বলেন, ‘এরকম একটি উৎসবে সব কিছুর সমন্বয় থাকলেও নাটক নেই। ব্যাপারটি আসলই নাট্যকর্মী হিসেবে কষ্টের। আমরা চেয়েছিলাম অন্তত একটি নাটক হোক। কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা আশাবাদী আগামীতে রবীন্দ্রনাথ নাট্য উৎসব করবো।’

তবে রবীন্দ্র স্মরণ উৎসব নিয়ে যতই সমালোচনা আর বিতর্ক থাকুক এটি সকল মানুষের এবং সকলের অংশগ্রহণে এ স্মরণ উৎসব অনন্য এক মাত্র পাবে এমনটাই প্রত্যাশা উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর। তিনি বলেন, ‘শত বছর আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সিলেটে এসেছিলেন। যার শতবর্ষ উদযাপন করছে সিলেটের মানুষ। এ নিয়ে সকলের মনেই আগ্রহ কাজ করছে। আশা করি এ আগ্রহের মাত্রা ধরে রাখতে এ উৎসব সকলের এবং সকল মানুষের অংশগ্রহণেই উৎসব সফল হবে।’

কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষ থাকে যাদের কাজই হচ্ছে সমালোচনা করা। ভালো কাজে সমালোচনা থাকবেই। এবং সমালোচনার ব্যাপারটি মেনে নিয়েই কাজ করতে হয়।’

মোট ব্যয় কতো টাকা ধরা হয়েছে এমন প্রশ্নে আরিফুল হক সঠিক কোন উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, ‘শুরু থেকে বেশ বড় বড় বাজেট হয়েছে। বিভিন্ন বাজেটের প্রস্তাবনা এসেছে। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি সর্বনিম্ন খরচে ভালো একটি কাজ করার। যেমন বিভিন্নজন বিভিন্ন কিছু দিয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছে। তাই ব্যয় মোট নির্ধারণ না করে উন্মুক্ত রেখেই কাজ হচ্ছে। তবে আমরা অনুষ্ঠান শেষে আয় এবং ব্যয় এর একটি সঠিক হিসেব ব্যাংক স্টেটম্যান্টসহ আপনাদের গণমাধ্যম মারফত ও লিফলেট আকারে উপস্থাপন করবো।’

বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বর অঙ্কের চাঁদা সংগ্রহ করা হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এসব ভিত্তিহীন। আমরা সহযোগিতা চেয়েছি। বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন রকম সহায়তা করছে। যারা অর্থ দিয়ে সহায়তা করছে তারা সোনালি ব্যাংকের একটি একাউন্টের মাধ্যমে জমা দিচ্ছে। সকল হিসেব আছে। আমরা অনুষ্ঠান শেষে সকল হিসেব উপস্থাপন করবো।’

সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণ, পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও নাটক না থাকা নিয়ে সদস্য সচিব আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এখানে যার ইচ্ছা সে আসতে পারবে। সবার জন্য উন্মুক্ত। আপনিও আসুন আমরা আপনাকেও সাদরে গ্রহণ করব। পূর্ণাঙ্গ কমিটি এভাবেই হয়েছে। বিশেষ কোন বিবেচনায় হয়নি। কাল চাইলেও কেউ আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারবেন। মোট কথা যে কাজ করতে চাইবে আমরা তাকে গ্রহণ করবো। আর অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিকর্মী-নাট্যকর্মীদের অংশগ্রহণ আশানুরূপ। তবে নাটকের ব্যাপারটি আমি ঠিক বলতে পারবো না। যারা নাটকের বোদ্ধা বা নাটক বুঝেন আমি তাদের সাথে ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করবো।’

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: