fbpx

সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

হারিয়ে যাওয়া মহাদেশের খোঁজ মিললো ইউরোপের নিচে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: স্পেন থেকে ইরানের মধ্যে পর্বতশিখর থেকে সমুদ্রের তলদেশ পর্যন্ত বিস্তার পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া মহদেশ ‘গ্রেটার এড্রিয়া’। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের জটিল ভূতত্ত্বের বিবর্তন ফিরে দেখতে গিয়ে লুকোনো এই মহাদেশের খোঁজ পেয়ে গেলেন বিজ্ঞানীরা।

নেদারল্যান্ডসের উট্রেখ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ্লোবাল টেকটনিক্স ও প্যালিয়োজিয়োগ্রাফি’র অধ্যাপক এবং গবেষক ডো ভ্যান হিন্সবের্গেন বলছেন, প্রতি বছর না বুঝেই বিরাট সংখ্যক পর্যটক ছুটি কাটিয়েছেন হারিয়ে যাওয়া গ্রেটার এড্রিয়া মহাদেশে।

সম্প্রতি ‘গন্ডোয়ানা রিসার্চ’ জার্নালে হিন্সবের্গেনদের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পর্বত শিখরের বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে মহাদেশগুলোর বিবর্তনও বোঝা যায় বলে দাবি করা হয় এই গবেষণায়।

বলা হচ্ছে গ্রেটার এড্রিয়া আয়তনে গ্রিনল্যান্ডের সমান। অন্তত ২০ কোটি বছর আগে উত্তর আফ্রিকা থেকে ভেঙে তৈরি হয়েছিল এই মহাদেশ। পরে তা মিশে গিয়েছিল দক্ষিণ ইউরোপের নীচে।

হিন্সবের্গেন বলেন, আমরা যে সব পর্বতমালা নিয়ে কাজ করেছি, সেগুলোর বেশির ভাগই গ্রেটার এড্রিয়া থেকে উদ্ভূত। সে মহাদেশটি উত্তর আফ্রিকা থেকে ২০ কোটি বছরেরও বেশি সময় আগে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

এই গবেষক জানান, ওই মহাদেশটির যেটুকু অংশ রয়ে গিয়েছে, সেটি তুরিন থেকে শুরু করে এড্রিয়াটিক সাগর হয়ে মিশে গিয়েছে ইটালির তলদেশে। এই জায়গাটিকে ভূতত্ত্ববিদেরা বলেন এড্রিয়া। তাই এই গবেষণায় যুক্ত বিজ্ঞানীরা অতীতে অনাবিষ্কৃত মহাদেশটির নাম দিয়েছেন, গ্রেটার এড্রিয়া।

হিন্সবের্গেন বলছেন, এটা এক রকমের ভূতাত্ত্বিক গোলমাল বলতে পারেন। এর সঙ্গে তুলনা করলে হিমালয় পর্বতমালা কিন্তু অনেক সহজ বিষয়। ওখানে আপনি দু’হাজার কিলোমিটারেরও বেশি অংশ জুড়ে অনেক চ্যুতিরেখা দেখতে পাবেন।

বিজ্ঞানীরা জানান, গ্রেটার এড্রিয়ার অনেকটা অংশই পানির তলায়। অগভীর সমুদ্র, প্রবাল প্রাচীর আর স্তরীভূত পাথুরে অংশে ঢাকা। গ্রেটার এড্রিয়া যখন দক্ষিণ ইউরোপের তলদেশে মিশে গিয়েছিল, তখন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্তরীভূত পাথর থেকে পর্বতমালা তৈরি হয়েছিল। যেগুলি খুঁজে পাওয়া যায়, আল্পস, অ্যাপেনাইনস পাবর্ত্য এলাকা, বল্কান উপদ্বীপ, গ্রিস এবং তুরস্কে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, প্রত্যেকটির ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা, মানচিত্র, কী ভাবে সব কিছু গড়ে উঠেছিল, তার পূর্বলব্ধ ধারণা— সমস্ত কিছুই এ ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে। প্লেট টেকটনিক পুনর্নির্মাণ সফটওয়্যার ব্যবহার করে গবেষকেরা একের পর এক স্তর আক্ষরিক অর্থে ছাড়িয়ে ছাড়িয়ে দেখেছেন এবং এ ভাবে ফিরে গিয়েছেন সেই সময়টায়, যখন মহাদেশগুলি এখনকার মানচিত্রের তুলনায় অনেকটাই আলাদা রকমের দেখতে ছিল।

এদিকে সাধারণত ‘প্লেট টেকটনিক’ বলতে বোঝায় এমন এক তত্ত্ব, যার মাধ্যমে জানা যায়, কী ভাবে মহাসাগর এবং মহাদেশ গড়ে উঠেছিল। আর এই তত্ত্ব অনুযায়ী, পৃথিবীর অন্যান্য অংশে (যেখানে বড়সড় চ্যুতিরেখা রয়েছে) প্লেটগুলি একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা না খেয়ে পাশাপাশি চলতে থাকলে তারা অবিকৃতই থাকে।

তবে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ভূতত্ত্ববিদেরা ‘প্লেট টেকটনিক’ বোঝেন অন্য দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। তুরস্ক এবং ভূমধ্যসাগরের ক্ষেত্রে বিষয়টা একেবারেই আলাদা। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে পর্বতমালার বিবর্তন ফিরে দেখার কাজটি হয়েছে সম্মিলিত ভাবে। ৩০টিরও বেশি দেশ এতে যুক্ত।

এর আগে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, গন্ডোয়ানাল্যান্ড থেকে একটি অংশ এ ভাবে ভেঙে গিয়েছিল ২০ কোটি বছর আগে। লাভায় ঢাকা সেই অংশ এখন মরিশাসের তলায়, ভারত মহাসাগরের একটা দ্বীপ। ওই বছরই আর একটি বিজ্ঞানীদল দক্ষিণ প্রশান্তমহাসাগরে খুঁজে বের করেছিলেন হারিয়ে যাওয়া মহাদেশ জিল্যান্ডিয়া।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: