সর্বশেষ আপডেট : ১২ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

টিভি পর্দার হারিয়ে যাওয়া তারকারা

বিনোদন ডেস্ক:: বিটিভির সোনালি যুগে সাদাকালো টিভি পর্দার সামনে জাঁদরেল অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অভিনয় দেখতে মন্ত্রমুগ্ধের মতো বসে থাকত দর্শক। তখন নাটক ও শিল্পীদের অভিনয় ছিল মানসম্মত। পরবর্তীতে অনেক শিল্পীই এসেছেন, পেয়েছেন তারকাখ্যাতি। এদের বেশিরভাগই বর্তমানে অভিনয় থেকে দূরে; কেউ এখনো অভিনয় করছেন।

মেধাবী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বিদায়ে তাদের শূন্যতা পূরণ করতে কিংবা এই ফাঁকা মাঠে গোল দিতে ঝাঁকের কইয়ের মতো অভিনেত্রী হিসেবে নাম লেখাচ্ছেন অনেক নতুন অভিনয়শিল্পী। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দর্শক টানতে পারলেও অনেকেই ব্যর্থ হচ্ছেন। স্থায়ীভাবে আসন করে নিতে পারছেন না দর্শক মনে। শেষমেশ ফলাফল এসে দাঁড়াচ্ছে ছিটকে পড়ার দোড়গোড়ায়। আস্তে-আস্তে টিভি নাটকের দর্শক কমতে থাকছে। কমতে কমতে এক পর্যায়ে টিভি নাটকের তেমন কোনো দর্শকই নেই বললেই চলে।

শমী কায়সার : কালে ভদ্রে অভিনয়ে দেখা গেলেও একেবারেই অনিয়মিত নব্বই দশকের জনপ্রিয় তারকা শমী কায়সার। ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন অভিনয় থেকে। তিনি এখন ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক। সংগঠন ও রাজনীতি নিয়েই এখন ব্যস্ত। ‘যুদ্ধশিশু’ নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করআর কথা থাকলেও পরে ওই ছবিতেও আর নিজেকে জড়াননি তিনি।

বিপাশা হায়াত : দর্শক গ্রহণযোগ্যতায় মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন নব্বই দশকের আরেক জনপ্রিয় ও দক্ষ অভিনয়শিল্পী বিপাশা হায়াত। স্বামী তৌকীর আহমেদ পর্দার সামনে-পেছনে কাজ করলেও বিপাশা কাজ তেমন করছেন না। খুব কমই তাকে পর্দায় দেখতে পাওয়া যায়। অভিনয়ের চেয়ে চিত্রশিল্পের দিকেই তার আগ্রহ বেশি এখন। পাশাপাশি নাট্য রচনাও করেন। কিন্তু অভিনয়ের খবরের শিরোনামে তাকে এখন আর দেখা যায় না।

রোমানা : মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও নাটকে সরব ছিলেন টিভি পর্দার দাপুটে অভিনেত্রী রোমানা। ‘এক টাকার বউ’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। এরপর আরও কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। কিন্তু সফলতা পাননি। ক্যারিয়ারের মাঝপথে রোমানা প্রথম বিয়ে করেন উপস্থাপক ও নির্মাতা আনজাম মাসুদকে। আনজামের সঙ্গে সংসার ভেঙে যাওয়ার পর তিনি বিয়ে করেন সাজ্জাদ নামের ঢাকার এক ব্যবসায়ীকে। কিন্তু ধীরে ধীরে রোমানা-সাজ্জাদের দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদেরও বিচ্ছেদ ঘটে। এর পরপরই রোমানা দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানে যাওয়ার পর ব্যবসায়ী এলিন রহমানের সঙ্গে তার পরিচয়। ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ফেয়ার মেরিনা হলে তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে আমেরিকায় অবস্থান করছেন রোমানা।

বিন্দু : লাক্স তারকা বিন্দু। রিয়েলিটি শো থেকে উঠে আসা এ মডেল-অভিনেত্রী বিজ্ঞাপন, নাটক ও চলচ্চিত্র- তিন মাধ্যমেই কাজ করেছেন। তবে নাটকেই তিনি সরব ছিলেন বেশি। ক্যারিয়ারের মাঝপথে বিয়ে করে সংসারী হয়ে যান। এরপর থেকেই আড়ালে চলে যান বিন্দু। কিছুদিন আগে শোনা যাচ্ছিল তার সেই সংসারেও বাজছে বিচ্ছেদের ঘণ্টা। তবে মিডিয়ার কোথাও এখন আর দেখা যায় না বিন্দুকে।

শীলা আহমেদ : জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কন্যা অভিনেত্রী শীলা আহমেদ। টেলিভিশনে আগমন তার বহুব্রীহি নাটকে শিশু অভিনেত্রী চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘ওইজা বোর্ড’ ‘নিমফুল’ নাটকে তার অভিনয় এখনো দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে। নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। আজ রবিবার নাটকের পর থেকে তাকে আর অভিনয়ে দেখা যায়নি। শীলা ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও কলাম লেখক আসিফ নজরুলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

টনি ডায়েস : বিটিভি যুগীয় সময়ের একজন দুর্দান্ত অভিনেতা-নির্দেশক টনি ডায়েস। ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি চার শতাধিক নাটক, ধারাবাহিক আর টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন। এছাড়া তিনি কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। বর্তমানে মেয়ে অহনা এবং স্ত্রী প্রিয়া ডায়েসসহ নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের হিকসভিল শহরে বসবাস করছেন তিনি। মাঝে মাঝে এখন অভিনয়ও করছেন।

শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি : আলোচিত মডেল ও অভিনেত্রী শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি। ‘বাংলালিংক দেশে’র বিজ্ঞাপন দিয়ে রাতারাতি পেয়েছিলেন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। একে একে নাটক, চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপনে কাজ করে নিজের অবস্থান বেশ পাকাপোক্তই করে নিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি বেশি আলোচিত ছিলেন। মাঝে নাটকে দেখা গেলেও নিয়মিত হননি আর। জানা যায়, বর্তমানে একমাত্র মেয়ে ওয়ারিশাকে নিয়ে কানাডার মন্ট্রিলে রয়েছেন।

আদিল হোসেন নোবেল : বাংলাদেশের মডেলিং অঙ্গনের সবচেয়ে প্রতিভাবান ও সুদর্শন মডেল নোবেল। জীবনে সবক্ষেত্রেই পেয়েছেন ঈর্ষণীয় সাফল্য। বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কিছু নাটকেও অভিনয় করেন নোবেল। সাধারণত বিশেষ দিবসের নাটকে নোবেলকে দেখা যায়। নোবেল রবির করপোরেট অ্যান্ড এসএমই সেলস ডিপার্টমেন্টের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও যুক্তরাজ্য ভিত্তিক একটি বহুজাতিক কোম্পানি ‘কোটস বাংলাদেশ লিমিটেড’-এর জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্বে রয়েছেন।

প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল : ‘কথাবন্ধু মিথিলা’ নাটকের সেই প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল। ২০০১ সালে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের বিপ্রতীপ নাটকে অভিনয় করে ক্যারিয়ারে নতুন অবয়বে ফেরা। তবে মিডিয়ায় অনিয়মিত হওয়ার কারণে নাম শুনে অনেকেই তাকে ভুলতে বসেছেন। অসংখ্য টিভি নাটকের পাশাপাশি টিভিসিতেও পারফর্ম করেছেন। তিনি বর্তমানে কানাডা ও ঢাকা-উভয়স্থানে বসবাস করেন।

তনিমা হামিদ : তনিমা হামিদ অভিনয় শুরু করেছিলেন তিন বা চার বছর বয়সে। ব্যক্তিগত জীবনে তনিমা হামিদ সংবাদ উপস্থাপক শামসুদ্দিন হায়দার ডালিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তাদের সংসারে ‘অরনিভ’ নামে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন হলো আর অভিনয়ে নেই।

পল্লব চক্রবর্তী : এক সময়ের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেতা পল্লব। বিটিভিযুগীয় সময়ে হয়েছেন অসংখ্য কমার্শিয়াল বিজ্ঞাপনের মডেল। মডেলিং থেকে উঠে আসা পল্লব এরপর একে একে অভিনয় করেছেন অসংখ্য প্যাকেজ নাটকে। ২০১৪ সালে তিনি ‘হঠাৎ দেখা’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে ফিরেন। তবে অভিনয়ে নিয়মিত নন।

সাবরিনা সাকা মীম : নতুন কুঁড়ির চ্যাম্পিয়ন মীম। নাচ, গান, অভিনয়- তিনটিতেই সেরা। টিভি নাটক, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে প্রায়ই দেখা যেত তাকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় সাবরিনা সাকা মীমের গতিপথ। মীম এখন গৃহবধূ। পেশা হিসেবে ‘আরটিভি’তে কর্মরত আছেন সংবাদপাঠিকা হিসেবে।

ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তী : অভিনেত্রী ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তী। এই শতকের শূন্য দশকে শ্রাবন্তী টিভি নাটকে ছিলেন জনপ্রিয়। বেশ কয়েকটি টিভিসি তাকে এনে দিয়েছিল আরো বেশি জনপ্রিয়তা। রং নম্বর’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে এই টিভি অভিনেত্রীর অভিষেক হয় চলচ্চিত্রে। কিছুদিন আগে তার স্বামী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে সহযোগী অধ্যাপকে ও এনটিভি’র সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের সাথে ডিভোর্স হয়। শ্রাবন্তী’র দুই মেয়ে। সাত বছরের মেয়ে রাবিয়াহ আলম ও সাড়ে তিন বছরের আরিশা আলম।

একসময়ের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী মিলা হোসেন অনেক আগেই যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। অভিনয় ছেড়েছেন রিচি সোলায়মান, শান্তা ইসলাম, লুৎফুন নাহার লতা,আলভি, সুরাইয়া হুদা রাত্রী, হুমায়ূন আহমেদের আবিষ্কার হোসনে আরা পুতুল, কুমকুম হাসান, শামস সুমন, রাখি, লাক্সতারকা হাসিন রওশন জাহান, তমালিকা কর্মকার সহ অনেক তারকাই। এখন মিডিয়ার কোনো কাজ কিংবা খবরের শিরোনামে নেই তারা।

এ সময়ের নাটক দেখতে গিয়ে বিরক্ত হয়ে অনেক দর্শকই পুরনো ইতিহাস টানেন। নাটকপ্রিয় এ সব দর্শকদের মুখ থেকে শোনা যায়, সে সময়ের একেক নাটকের গল্প, নাটক দেখা নিয়ে মাতামাতির গল্প। এখন একদিকে যেমন সংসার-সন্তান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ার কারণে একের পর এক হারিয়ে যাচ্ছে মেধাবী অভিনেত্রীরা ঠিক তেমনি কমতে শুরু করেছে নাটকের মানও। বাজেট সঙ্কট, নাটকের দুর্বল গল্প, মেধাহীন নতুন নতুন পরিচালকের আমদানি, স্ক্রিপ্টের চাহিদা অনুযায়ি লোকেশন বেছে না নেয়া, চরিত্রের সঙ্গে মানানসই অভিনেতা-অভিনেত্রী নির্বাচন না করা সবমিলিয়েই টিভি নাটকের উপর অনীহা তৈরি হয়েছে দর্শকদের।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: