সর্বশেষ আপডেট : ১২ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কুলাউড়ায় প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে মারধর,ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ

কুলাউড়া প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে অন্যায় ভাবে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার তদন্তে নামার পর কয়েকজন শিক্ষক নেতার তদবিরে ধামাচাপা দেবার অপচেষ্ঠাও চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের ধামা-চাপার কারণে ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোন সুষ্টু বিচার পায়নি ওই স্কুলছাত্রীটি।

জানা যায়, গত ২০ জুলাই উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মন্তাজ আলী বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী ফারজানা আক্তার কে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার ফি প্রদানে দেরি করায় উত্তেজিত হয়ে মারধর করেন। এতে ওই ছাত্রী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে কুলাউড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রধান শিক্ষক তাঁর বাড়ি থেকে আনা জালি বেত দিয়ে এলোপাতাড়ি প্রহার করলে ছাত্রীর পিঠে ও হাতের বিভিন্ন জায়গা ফুলে যায়। এসময় বিদ্যালয়ে থাকা ছাত্রীর ফুফু আমিনা আক্তার প্রধান শিক্ষকের মারধরের বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকেও তিনি মারধর করেন। এ ঘটনায় ওইদিন বিকেলে ছাত্রীর বাবা মশাইদ আলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রক্ষিতে ২৭ জুলাই বিদ্যালয়ে সরেজমিন তদন্তে যান উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সৌরভ গোস্বামী। তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিললেও একমাস পেরিয়ে গেলেও ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। প্রধান শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে কয়েকজন প্রভাবশালী শিক্ষক নেতা বিষয়টি ধামা-চাপা দেবার অপচেষ্টায় লিপ্ত হন।

স্কুলছাত্রী ফারজানা আক্তার জানান, পরীক্ষার ফিস দিতে দেরি হওয়ায় স্যার আমাকে অন্যায়ভাবে মারধর করেছেন। স্যার বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রীদের গালে টিপাটিপি করেন। কেউ এর বিচার করে না।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মন্তাজ আলী দীর্ঘদিন থেকে নিজ এলাকায় চাকুরীর সুবাধে অন্যান্য শিক্ষকসহ অভিভাবকদের সাথে খারাপ আচরণ করে আসছেন। বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন থেকে ছেঁড়া জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বিভিন্ন দিবসে শহীদ মিনারে কাগজের ফুল দেবারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ে জাতীয় কোন দিবস উদযাপন করা হয়না। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মন্তাজ আলী বলেন, তিনি ছাত্রীকে মারধর করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। শিক্ষা বিভাগ তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন সত্যতা পায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আইয়ুব উদ্দিন বলেন, তদন্তে অভিযোগের বিষয়টি প্রমাণিত। ৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত শেষে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে। তদন্ত প্রতিবেদন ধামা-চাপা দেবার এক প্রশ্নে তিনি বলেন, কিছু শিক্ষক নেতার কারণে আমরা বিভিন্ন কাজে বাধাগ্রস্থ হচ্ছি। তাদের কোন অপচেষ্ঠায় কাজ হবে না। বিধিসম্মতভাবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: