সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ১০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে এখনো সিএনজি,অটোর সাম্রাজ্য!

জীবন পাল:: সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যেন সিএনজি,অটোরিক্সার সা¤্রাজ্য চলছে। মহাসড়কের বর্তমান চিত্রটা দেখলে এরকমই মনে হয়। সেই সাথে যানজটসহ মরাত্মক দুর্ঘটনাতে মোক্ষ ভূমিকা পালন করছে এইসব ছোট যানবাহনগুলো। শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে চালক-যাত্রীদের সাথে কথা বললে অধিকাংশদের অভিমত থেকে এমনটাই জানা গেছে। ভাঙ্গা রাস্তার সাথে সাথে যানজট,দুর্ঘটনার জন্য অধিকাংশদেও মহাসড়কে চলাচলকারী সিএনজি,অটোরিক্সাকে দায়ী করতে দেখা যায়।

এদিকে বেশ কয়েকজন চালক ও যাত্রীদেও সাথে কথা বলে জানা যায়,তাজপুর থেকে শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তার বাম দিক ভাঙ্গা রয়েছে। যার ফলে গাড়ি স্বাভাবিকভাবে চলতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেই সাথে বিভিন্ন সময় ঘটছে মারাত্মক দুর্ঘটনা।

মিতালীসহ বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া সিলেটের হুমায়ুন চত্তর এলাকায় দাড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি দুরপাল্লার বাস চালকের সাথে কথা হলে তাদেও মন্তব্য- রাস্তার এসব সমস্যার কারণে আস্তে গাড়ি চালাতে হয়। গন্তব্যে পৌছাতে অনেক সময় লাগে। যার ফলে যাত্রীদেও গালমন্দ শুনতে হয়।
তারা জানান- ঈদের সময় প্রতিবারই যানজট থাকে। ভাঙ্গা রাস্তা ও গর্তগুলো কাজ করতে হবে। সিএনজি,অটোগুলো খুব বিরক্ত করে। সিএনজিগুলো হঠাৎ করে ব্রেক করে। একটা চলন্ত গাড়ির সামনে গিয়ে ২ থেকে ৩ হাত দুরে হঠাৎ কওে এভাবে ব্রেক করলে পিছনের গাড়ি সামাল দিতে না পারায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মারাত্মক ধরনের দুর্ঘটনার সম্মুখিন হতে হয়। নিয়মের কোন তোয়াক্কা না করে উল্টাপাল্টা গাড়ি চালিয়ে এইসব গাড়িগুলো মহাসড়কে সমস্যা সৃষ্টি করছে।

এ বিষয়ে এনা পরিবহনের বাস চালক ইসমাইল মিয়ার অভিমত- যাত্রাপথে জ্যামের মধ্যে সিএনজি আমাদের রাস্তার মধ্যে যাত্রাপথের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আরো বেশি জ্যামের সৃষ্টি করে। যে সমস্যা অনেক আগে থেকেই। কিন্তু এখন সমস্যাটা আরো প্রকট আকার ধারন করেছে। আর ঈদের সময় তো আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। তখন যাত্রীর চাপ থাকে। এসব কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে পড়ে দাড়িয়ে থাকতে হয়।
তাই বলবো-যদি এই গাড়ি সে সময় বন্ধ রাখা কিংবা একটা নিয়ম করে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসলে হয়তো মহাসড়কে যানজটসহ দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসতো।
আর রাস্তার ব্যাপারে বলবোবিভিন্ন জায়গায় ভাঙ্গা আছে। সেগুলো ভরাট করে দিলে ভাল হত। ভালমত কাজ করে দিলে আমাদের মত দুরপাল্লার যাত্রীবাহী গাড়ি চালকদের গাড়ি চালাতে সুবিধা হত।
কুমিল্লা-সিলেট ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজার শাহ আখলিস মিয়া বলেন-ঈদ উপলক্ষে যদি রাস্তাঘাটের কিছু কাজ না করা হয় তাহলে দুর্ভোগটা আরো বাড়বে বলে আমি মনে করি। এর ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যাটাও আরো বাড়বে বলে ধারনা করা যায়।

তিনি বলেন, রাস্তায় তৈরি হওয়া গর্তকে এড়াতে গিয়ে অপরদিক থেকে আসা গাড়ির সাথে সংঘর্ষেও কিন্তু অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। আর বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা ভাঙ্গা থাকার কারণে গাড়ির চালকরাও সঠিকভাবে গাড়ি চালাতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন। তাই ঈদের দুর্ভোগ এড়াতে যত দ্রুত সম্ভব রাস্তা সংস্কারে সরকারের কার্যকরী ভ’মিকা নেওয়া দরকার। যার ফলে আমরা সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে মহাসড়কে গাড়ি পরিচালনা করতে পারতাম।

স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সিলেট ঘুরে এনা পরিবহনে করে ঢাকা ফিরে যাওয়া এক যাত্রী সিলেট ঢাকা মহাসড়ক নিয়ে মন্তব্যে করতে গিয়ে বলেন-আমাদের ঢাকা-সিলেট রোডের পুরো রাস্তার বাম দিকটা ভাঙ্গা। আর অভারলোড গাড়ীগুলো যাওয়ার সময় এই বামদিক দিয়েই কিন্তু যেতে হচ্ছে। এটা এই সড়কের একটি কমন চিত্র। সেজন্য সংস্কার করাটা জরুরী বলে মনে করছি। এত ভাল ভাল গাড়ি আসছে কিন্তু রাস্তার এই অবস্থা,বিষয়টা কিরকম হয়ে গেল না! আর রাস্তার জ্যামটা বড় সমস্যা। এই সমস্যা নিরসনে মহাসড়ক থেকে ছোট গাড়িগুলো সরানো জরুরী।
অপর এক মহিলা যাত্রী জানান- রাস্তার সমস্যার কারনে অতিরিক্ত ১ থেকে ২ ঘন্টা লেগে যাচ্ছে। জ্যামটা যেন কম থাকে সে ব্যবস্থায় মনোযেগী হওয়াটা জরুরী। কর্তৃপক্ষের কাছে এটাই চাওয়া। রাস্তার অবস্থা ভাল নয়। আমরা এগুলোর সংস্কার চাই। কেননা,রাস্তার এই সমস্যাটা তো আর নতুন নয়।

সিলেট জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা মো.শামছুল হক মানিক জানান- অতিরিক্ত মাল বুঝায় গাড়ি,যাত্রী বুঝায় গাড়ি অভার টেইকিংয়ের কারণেই মূলত বেশি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। আর ভাঙ্গা সড়ক নিয়ে বলতে গেলে বলবো সারা মহাসড়কের রাস্তায় ভাঙ্গা। ২০ টন রাস্তায় ৩০ টন গাড়ি চলছে। রাস্তা তো ভাঙ্গবেই। রাস্তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সরকারকে কঠোরভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে। রাস্তা মেরামত না করলে দুর্ঘটনা এড়ানো যাবেনা।
ঈদকে সামনে রেখে সরকার তো পদক্ষেপ নিচ্ছেই। সেই সাথে আমরাও নিজেরা পদক্ষেপ নিয়ে থাকি।কিন্তু রাস্তার পাশে গরুর হাট বসার কারণে স্বাভাবিক যান চলাচলে বিঘœ ঘটে থাকে।
ঈদে মহাসড়কের অবস্থা সম্পর্কে বলতে গিয়ে এই নেতা বলেন, ঈদকে সামনে রেখে মানুষের যাতায়াত বৃদ্ধি পায়। যার জন্য সিএনজি,অটোরিক্সা অন্য সময়ের তুলনায় খুব বেশি চলাচল করে, যা মহাসড়কে চলাচলকারী বড় গাড়ীগুলোর যাতায়াতে বিঘœ ঘটায়। সিলেটে যানজট সমস্যা তো আছেই। সেই সাথে সিলেট থেকে যাওয়ার পথে রাস্তার বাম পাশটার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক অবস্থা। যার ফলে আমাদের এদিকের গাড়িগুলোর দুর্ঘটনার আশংকাটা বেশি থাকে। তাছাড়া মহাসড়কে অসংখ্য সিএনচি চলাচল করে। পুলিশ দেখে সিএনজিগুলো তাৎক্ষনিকভাবে ঘুরাতে গিয়েও অনেক সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার সম্মুখিন হয়ে থাকে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: