সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ২০ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভারতকে ঝাঁকুনি দিয়েছে ইমরানের যুক্তরাষ্ট্র সফর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে প্রথম দিকে নানা রকম নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলো ভারতীয় পত্রপত্রিকাগুলো। এসব খবরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ওয়াশিংটন বিমানবন্দরে পাক প্রধানমন্ত্রীকে মার্কিন কর্মকর্তাদের স্বাগত না জানানো এবং সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) অনুপস্থিতি। কিন্তু সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইমরানের বৈঠকের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। বরং এখন ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো নয়াদিল্লীর কূটনৈতিক ব্যর্থতা নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার আনন্দবাজার পত্রিকা তাদের ‘একজোট আমেরিকা-পাকিস্তান, আফগানিস্তান প্রশ্নে কোণঠাসা নয়াদিল্লি’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শুরুতেই বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের পুনর্গঠন এবং তালিবানের সঙ্গে শান্তিপ্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণের প্রশ্নে ক্রমশই পিছিয়ে পড়ছে ভারত। সম্প্রতি ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বৈঠকের পরে বিষয়টি আরও হতাশাজনক হয়ে দাঁড়াচ্ছে নয়াদিল্লির কাছে।

কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি আরো জানায়, মোদি সরকারের দ্বিতীয় ইনিংসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে চলেছে কাবুল। সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করতে উদগ্রীব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী বছর আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন রয়েছে।

পত্রিকাটি বলছে, ‘হোয়াইট হাউসে ইমরান খানকে পাশে বসিয়ে ট্রাম্প যা বলেছেন তা ভারতের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে হচ্ছে।’ কেননা মার্কিন প্রেসিডেন্ট জনসম্মুখে বলেছেন, আফগানিস্তান থেকে আমেরিকাকে বেরিয়ে আসতে পাকিস্তান তাদের সাহায্য করবে।

অথচ এক বছর আগেই ট্রাম্প টুইট করে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তান আমাদের মিথ্যে ছাড়া কিছুই দেয়নি। তারা সন্ত্রাসবাদীদের স্বর্গোদ্যান বানিয়ে দিয়েছে।’ কিন্তু রাতারাতি পরিস্থিতি কীভাবে এতটা বদলে গেলো তা নিয়ে সন্দিহান ভারতীয় কূটনীতিকরাও।

ধারণা করা হচ্ছে, এর পিছনের প্রধান কারণ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ইতিবাচক মনোভাব। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তিনি ট্রাম্পকে এই নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, তারা আফগানিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রকে যে কোনো ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। বিনিময়ে কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে আমেরিকাকে তাদের পাশে থাকতে হবে। এর ফলেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে ইমরানের এই কূটনৈতিক সফলতা।

এরই প্রেক্ষিতে পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককালে ট্রাম্প কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন যা নিয়ে গোটা ভারত জুড়ে চলছে তোলপাড়। সোমবার ওভাল অফিসে ইমরানের পাশে বসেই ট্রাম্প মধ্যস্থতার কথা তোলেন। ইমরান প্রথমে বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়া দরকার।’

সে কথার সূত্র ধরেই ট্রাম্প বলেন, ‘দু’ সপ্তাহ আগে মোদির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তিনি জানতে চান, আমি মধ্যস্থতা করতে রাজি কি না। আমি প্রশ্ন করি, কোন বিষয়ে? তিনি বলেন, কাশ্মীর। কারণ, বিবাদটা অনেক দিন ধরে চলছে। আমি তখন তাকে জানাই, মধ্যস্থতা করতে পারলে আমি খুশিই হব।’

ট্রাম্পের এ বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ইমরান বলেন, ‘এটা হলে ১০০ কোটি মানুষের শুভেচ্ছা আপনার সঙ্গে থাকবে।’

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে দ্রুত প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না মোদি সরকারের পক্ষে। ভারতীয় পার্লামেন্টের দুই কক্ষ লোকসভা ও বিধানসভায় এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিরোধী দলগুলো। এমনকি কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধিরা সংসদ-ও বর্জন করেছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যে দুই দফা বিবৃতি দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর। তবে এ সম্পর্কে এখনও মুখ খুলেননি প্রধানমন্ত্রী, যদিও তার মুখ থেকেই সত্যিটা জানতে উদগ্রিব রাহুল গান্ধীরা

প্রসঙ্গত, কাশ্মীর সঙ্কটকে পাকিস্তান বারবারই আন্তর্জাতিক সমস্যা বলে দেখাতে চায়। কিন্তু ভারত একে আন্তর্জাতিক সমস্যা হিসেবে দেখতে নারাজ। তারা এই সঙ্কটকে দ্বিপাক্ষিক সমস্যা বলে মনে করে। ১৯৭২ সালের শিমলা চুক্তিতে কাশ্মীরকে দ্বিপাক্ষিক বিষয় বলেই মেনে নিয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। সেই চুক্তি এবং লাহোর ঘোষণাপত্রই আলোচনার ভিত্তি হওয়া উচিত বলে মনে করে ভারত।

তাই সবমিলিয়ে ইমরানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ভারতকে ভালোই নাড়া দিয়েছে, যা সে দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ভালোই আলোড়ন তুলেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমগুলো প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ইতিবাচক হিসাবেই বর্ণনা করেছে। এই সফর থেকে পাক সরকার আসলেই কোনো ফায়দা তুলতে পারবে কিনা তা উপলব্ধি করতে দিন কয়েক অপেক্ষা করতে হবে। তবে এ সফরের মাধ্যমে ইমরান খান যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশী দেশটিকে যে একটা বড় রকমের ঝাঁকুনি দিতে পেরেছে আপাতত: এটাই ইসলামাবাদের বড় লাভ।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: