সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৯ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ধর্ষণের শিকার ছাত্রীকে স্কুলে যেতে প্রধান শিক্ষিকার বাধা

নিউজ ডেস্ক:: মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় ধর্ষণের শিকার এক ছাত্রীকে (১৩) স্কুলে যেতে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে।

উপজেলার মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়নে উত্তর যশলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন ওই ছাত্রীর মা। এদিকে ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তার সব দায়-দায়িত্ব নিয়েছেন লৌহজং উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কাবিরুল ইসলাম খাঁন।

জানা গেছে, স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ওই প্রধান শিক্ষক এবং ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ১নং ওয়ার্ড মেম্বার হারুন অর রশিদকে শোকজও করেছেন ইউএনও। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন লৌহজং উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল কাদের মিয়া, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রীনা আক্তার, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাজী আশরাফ হোসেন খানসহ আরও অনেকে।

মোহাম্মদ কাবিরুল ইসলাম খাঁন বলেন, আমরা অভিযোগ পাওয়া পর ওই প্রধান শিক্ষককে ডেকেছিলাম। শিক্ষিকার মৌখিক ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয়। আমরা তাকে শোকজ করেছি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। একইসঙ্গে ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. হারুন অর রশিদকেও শোকজ করা হয়েছে।

লৌহজং থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মো. আলমগীর হোসাইন বলেন, নির্যাতিত শিশুটিকে প্রধান শিক্ষক স্কুল থেকে বের করে দিয়েছেন শুনে আমরা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি জানিয়েছি। বিষয়টির আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তিনি।

ওই ছাত্রীর মা জানান, গত ৮ জুলাই তার মেয়েকে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে প্রধান শিক্ষিকা তাকে ডেকে নিয়ে মেয়েকে আর স্কুলে পাঠাতে নিষেধ করেন। তবে মেয়েকে যদি মাদ্রাসায় পড়ানো হয় তাহলে তাকে ছাড়পত্র দেবেন বলে ওই শিক্ষক আশ্বাস দেন।

এ ব্যাপারে সোমবার প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তারকে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি এখন ইউএনও অফিসে একটু ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলবো। এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

তবে গত ১৩ জুলাই এ অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেছিলেন, আমি ওই ছাত্রীকে স্কুল থেকে বের করে দেইনি। তবে তাকে কয়েকদিন স্কুলে আসতে নিষেধ করেছিলাম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্কুলে আসতে বলেছি।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশীর বাড়িতে যাওয়ার সময় আলাউদ্দিন হাওলাদার (৫৫) নামে একজন ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু সে বাসায় গিয়ে তার মাকে সব জানায়। পরে তার মা স্থানীয় মাতব্বর খলিলুর রহমান শেখ ও করিম ছৈয়ালকে বিষয়টি জানালে তারা আপোষ মীমাংসার কথা বলে ধর্ষণের আলামত নষ্ট করে। কিছুদিন তারা বিষয়টি পুলিশ বা অন্য কাউকে জানাতেও নিষেধ করে।

পরে গত শুক্রবার বিকালে লৌহজং থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন নির্যাতিত ছাত্রীর মা। মামলার তিন আসামি হলেন- আলাউদ্দিন হাওলাদার, সালিসকারী খলিলুর রহমান শেখ ও করিম ছৈয়াল।

রোববার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি আলাউদ্দিন হাওলাদার ও খলিলুর রহমান শেখকে কোর্টে হাজির করা হলে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: