সর্বশেষ আপডেট : ১৩ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আইডিয়া’র স্বপ্নদ্রষ্টা নজমুল হক এবং তাঁর উন্নয়ন ভাবনা

।। নাজিম আহমদ ।।

ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট এফেয়ার্স (আইডিয়া) জাতীয় পর্যায়ের একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত হাওর বেষ্টিত ৭টি জেলায় সরকারি, দেশি ও বিদেশি দাতাসংস্থার সহায়তায় Health, Education, Livelihood, Environment, Climate Change Adaptation, Disaster and Humanitarian Response, Women Development and Empowerment, Rights, Governance, Advocacy and Capacity Development বিষয়ক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি শুরুর দিকে, নির্বাহী পরিচালক নজমুল হক এর নেতৃত্বে সমমনা ব্যক্তিবর্গ নিয়ে নাগরিক সমাজের একটি থিংক ট্যাংক (Think-Tank) প্লাটফরম হিসেবে ১৯৯৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর ‘আইডিয়া’ নামে আত্মপ্রকাশ করে। বিভিন্ন উন্নয়ন ইস্যু ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে আইডিয়া স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে micro and macro policy বিষয়ক অ্যাডভোকেসি এবং লবি করে আসছিল। উল্লিখিত সময় পর্যন্ত ফোরামটি সরাসরি সেবা প্রদান বিষয়ক কোনও কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলনা, সময়ের পরিক্রমায় সরকারি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা (Donor Organizations) এবং সমাজের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সরাসরি সেবা প্রদান (Service delivery) বিষয়ক কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য আইডিয়া’র ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ বাড়তে থাকল। ফোরামের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে অবশেষে একটি ঐক্যমত্যে পৌছাতে সম্মত হলেন যে সেবা প্রদানমূলক কাজে আইডিয়া’কে সম্পৃক্ত করবেন। এরই আলোকে, ১৯৯৪ সালে আইডিয়া বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং ১৯৯৬ সালে এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধন লাভ করে। ১৯৯৬ সাল থেকে সর্বপ্রথম আইডিয়া এনজিও হিসেবে রূপ লাভ করে এবং Geographically Hard to Reach, বিশেষ করে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের, গভীর হাওর, চা-বাগান, আদিবাসী কমিউিনিটি, দূরবর্তী এলাকা ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরাসরি সেবা প্রদানমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু করে। সূচনা থেকেই আইডিয়া তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য সংস্থার কার্যকরী পরিষদ ও কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন, বিভিন্ন দাতা সংস্থার আস্থা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে।

শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ৩টি প্রজন্মের মধ্য দিয়ে আইডিয়া’র বিবর্তন ঘটেছে। প্রথম প্রজন্ম ধরা হয় ১৯৯৩-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যা ছিল সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রম/স্বেচ্ছাসেবামূলক অভিগমন, সমমনা নাগরিক সমাজের উদ্যোগ, থিংক ট্যাংক হিসাবে উন্নয়নে ভ‚মিকা রাখা, ডায়লগ, সেমিনার, প্রকাশনা, micro and macro policy reform বিষয়ক অধিপরামর্শ, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের অবহিতকরণ কার্যক্রম, স্থানীয় এবং নিজস্ব সম্পদ সমাবেশীকরণ, যা ছিল সম্পূর্ণ নিজেদের খরচে ও উদ্যোগে। দ্বিতীয় প্রজন্ম বিবেচনা করা হয় ১৯৯৭-২০০৪ সাল পর্যন্ত যা প্যারা প্রফেশনালিজম প্রজন্ম হিসাবে চিহ্নিত। এ পর্যায়ে সংগঠনটি জাতীয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনি বৈধতা লাভ করে, বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মএলাকা ও সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তৈরি করা, দুর্যোগ প্রস্তুতি, ব্যবস্থাপনা ও দূর্যোগে সাড়া দেওয়া, নতুন নতুন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, স্থানীয় ও গ্রামপর্যায়ে অবহিতকরণ কার্যক্রম এবং আভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সম্পদ সমাবেশীকরণের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া। তৃতীয় প্রজন্ম বলা হয় ২০০৫-বর্তমান সময় পর্যন্ত। বর্তমান প্রজন্ম সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব নির্ভর। প্রয়োজনীয় নীতিমালাসমূহ উন্নয়ন, চর্চা এবং কাঠামোগত অভিযোজন, সামাজিক আন্দোলন, Advocacy and Networking, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সংস্কার ও পরিবর্তনের লক্ষ্যে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, উন্নয়নের বহুমাত্রিক অভিগমন, স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন উন্নয়ন ইস্যু ভিত্তিক আলোচনা ও অবহিতকরণ। বাহ্যিক সম্পদ সংগ্রহ ও সামাজিক উন্নয়ন চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে অতিদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন, মর্যাদাপূর্ণ সহাবস্থান ও ক্ষমতায়ন।

আইডিয়ার স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে সংগঠনএর নির্বাহী পরিচালক নজমুল হক চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যলয় থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি Netherlands এর International Institute of Social Studies থেকে Development Studies এ MA সম্পন্ন করেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই সমাজের বিভিন্ন সৃষ্টিশীল কর্মে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৮৪ সালের জুলাই মাস থেকে তিনি উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হন। আইডিয়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সম্পৃক্ত করেন। তার এই দীর্ঘ পেশাগত জীবনে নিজস্ব মেধা, সৃষ্টিশীল উদ্যোগ, উদ্ভাবনী কর্ম-পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি দেশে-বিদেশে সম্মানিত হয়েছেন এবং আইডিয়ার পক্ষে অসংখ্য সুনাম অর্জন করেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে বৃহত্তর সিলেট এলাকায় গুণগত মানসম্পন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও অনবদ্য কর্মমানের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন কর্তৃক শ্রেষ্ঠ সংগঠনের সম্মননা আইডিয়া অর্জন করে। এছাড়াও ডিসেম্বর ২০১৭ সালে দক্ষিণ কুরিয়ার জিজু আইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত UNESCO’র দ্বাদশ অধিবেশনে বাংলাদেশের শীতলপাটিকে আন্তর্জাতিক নির্বস্তুক ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে এবং এই সম্মাননা গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও আইডিয়া অংশগ্রহণ করে। শীতলপাটি নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য আইডিয়ার পক্ষে নজমুল হক এ সম্মাননা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সুদীর্ঘ ২৫ বছরের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আইডিয়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রনালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক সন্ত্রনালয়, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও তথ্য কমিশন এবং দেশের অভ্যন্তরে BRAC, BELA, CAMPE, MJF, CDD, VERC, NGO Forum, SUPRO, DBM, CSRL, CNRS, Right to Food, EWG, IED, SUMMIT Group, WSSC, Shahjalal University of Science & Technology, এছাড়া বিদেশি দাতা সংস্থারগুলোর মধ্যে UNDP, UNICEF, WFP, FAO, USAID, DFID, The Carter Center, WaterAid, CARE Bangladesh, OHK, Oxfam In Bangladesh, HELVETAS, Sida, World Bank, ITDG-UK, NC-IUCN, Concern, PIB, ARECOP, Chevron, HSBC Bank, UKaid, SWISSCONTACT, SDC, Pennyappeal, Save The Children, Goldsmith University of London-UK সহ বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস যেমন Embassy of Japan, Embassy of Ireland, Australian High Commission, Embassy of the Netherlands Ges Canadian High Commission-এর কাছ থেকে আর্থিক অনুদান গ্রহণ করেছে।

সময়ের পরিক্রমায় পৃথিবীতে এসেছেন অনেক ব্যক্তিত্ব যারা নিজেদের মেধা ও প্রতিভাকে কোনও না কোনও মাধ্যমে পৌঁছে দিয়েছেন সকলের কাছে। সেই সকল গুণী মানুষজন কখনও তাদের কর্মের মাধ্যমে, লেখনীর মাধ্যমে কিংবা অন্য কোনও সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে মানুষের উপকার করে গেছেন। তবে তাদের সবাইকেই নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে স্বাদ পেতে হয়েছে জীবনের আলোকিত এবং অন্ধকার সময় পরিসর এবং অতিক্রম করতে হয়েছে জীবনের দীর্ঘ অধ্যায়। সইতে হয়েছে জীবনের অসহ্য রকমের সুখ আর যন্ত্রণাকে। আপন মহিমায় উজ্জ¦ল এমনি একজন মানুষ জনাব নজমুল হক। বৃহত্তর হাওর এলাকার প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য উনয়নে তাঁর স্বপ্ন ও চিন্তা শুধু নিজের ভেতরেই আবদ্ধ রাখতে চাননি ‘আইডিয়া’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজের সকল পর্যায়ের অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সংগঠনের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত Proposal Development -এর জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে কোন Consultancy firm -এর সহযোগিতা নিতে হয়নি প্রকল্প প্রস্তাবনা ও উন্নয়নের কাজটি নির্বাহী পরিচালক নজমুল হক অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে করে আসছেন যা Fund Raising -এ আইডিয়ার সক্ষমতা প্রকাশ করে। নজমুল হকের বৈচিত্র্যময় উন্নয়ন কর্মযাত্রায় অবদান রাখতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের সদস্যবৃন্দ মূল্যবান পারিবারিক সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত করেছেন। এতে তিনি যেমন অসন্তুষ্ট নন তেমনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের ও উৎসাহপূর্ণ সমর্থন তিনি পেয়েছেন। সংস্থার শুরু থেকে আজ অবধি নজমুল হক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনও ধরণের বেতন/ভাতা, আর্থিক অথবা অন্য কোনও রকমের সহযোগিতা গ্রহণ করেননি, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে তাঁর জীবনের সবটুকু মূল্যবান সময় দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নে তাদের পারিবারিক ১০ শতক জমি সাফ-কাবলায় আইডিয়া’কে দান করেছেন যেখানে জাপান অ্যামবাসির সহযোগিতায় IDEA Health Care Center নামে ৩ তলা একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা যারা তাঁর সহকর্মী হিসেবে আইডিয়াতে কাজ করছি, আমরা দেখেছি, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সহকর্মীদের জন্য তার চোখে জল এবং পিতৃ¯েœহে কাছে টেনে স্বান্তনা দিচ্ছেন, পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন অথবা অন্য কোথাও চাকুরির সুযোগ করে দিচ্ছেন। আবার তাঁর হাস্যজ্জ¦ল মুখ দেখেছি, যখন একটি নতুন প্রকল্প শুরু করার সময় খোজঁ নিয়ে পুরানো সহকর্মীদের কাজের সুযোগ করে দিচ্ছেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী নজমুল হকের সুরের মূর্ছনায় প্রায়শই আমরা তাঁর সহকর্মীবৃন্দ আন্দোলিত হই! তাই আমরা আইডিয়া’র সহকর্মীবৃন্দ তাঁকে বৃহত্তর হাওর অঞ্চলের Development Philosopher হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকি, আমাদের দৃষ্টিতে তিনি একজন অনুকরণীয় Development Leader ও বটে।

আইডিয়াতে একটি চমৎকার মর্যদাপূর্ণ, যুগোপযোগী ও আর্থিক সুবিধাসংবলিত পেশাগত কর্মপরিবেশ বিরাজমান আছে এজন্যই বোধয় কোনও সহকর্মী প্রতিষ্ঠান ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে আগ্রহী হন না বা যেতে চান না। নারী সহকর্মীদের জন্যও রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত মর্যাদাপূর্ণ একটি কর্ম পরিবেশ। আইডিয়ার নারী কর্মীদের প্রতিদিন অফিসে আনা-নেওয়ার জন্য সংগঠনের একটি বড় মাইক্রো বিনা খরচে সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। সংস্থার নীতিনির্ধারণী ও পরিচালনা পরিষদ থেকে শুরু করে senior position পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী সহকর্মী তাদের নিজ যোগ্যতায় স্থান করে নিয়েছেন। হাঁটি হাঁটি পা, পা করে অনেক প্রতিক‚লতা পার হয়ে সংগঠনটি আজকে পরিণত অবস্থার দিকে এগোচ্ছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি সাধারণ পরিষদ, ০৭ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা পরিষদ ০১জন নির্বাহী পরিচালক এর নেতৃত্বে ২০০ (দুইশত) কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৩০০ স্বেচ্ছাসেবী (তিন শত) জনবল নিয়ে হাওরের প্রায় দুই কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত এলাকায় মানুষের আর্থ-সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নে নিরলস প্রচেষ্ঠা ও বিরতিহীন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। আইডিয়ার ভিশন হচ্ছে বৈষম্য ও শোষণমুক্ত একটি সমাজ ব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক নাগরিক মর্যাদার সঙ্গে সমান সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে, এই স্বপ্নকে ধারণ করে বিগত ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে আইডিয়া তার গৌরবময় উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ২৫ বছর পূর্ণ করেছে! সরকারের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার উদ্দেশ্য অর্জনে আইডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রেখেছে এবং বর্তমানে স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার উদ্দেশ্য অর্জনে আইডিয়া কার্যকর অবদান রেখে যাচ্ছে।

বর্তমানে আমাদের দেশ যেহেতু নিন্ম-মধ্যম আয়ের যুগে প্রবেশ করেছে এর ফলে অনেক বিদেশি দাতা সংস্থা বাংলাদেশকে Development Fund বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে Priority Country মনে করেন না ফলে এনজিওদের জন্য উন্নয়ন অনুদান উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে যার জন্য বৃহত্তর হাওর অঞ্চলে দরিদ্রবিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবীকায়নের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজের চাহিদা থাকা সত্তে¡ও এনজিওদের পক্ষে উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ ২০ মার্চ ২০১৯ সাল আমাদের প্রাণের সংগঠন ও হাওরের প্রাণ ‘আইডিয়া’ তার উন্নয়নের গৌরবময় রজত জয়ন্তি উদ্যাপন করছে। এই শুভলগ্নে, আমরা আমাদের সকল পর্যায়ের অংশীজন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, জাতীয় ও আন্তর্জান্তিক পর্যায়ের সকল দাতা সংস্থা, উপকারভোগী, গণমাধ্যমের বন্ধুগণ, NGOs, বন্ধু, সহকর্মী, সমর্থক এবং শুভাকাক্সক্ষীসহ সকলকে তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য হৃদিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাদের নিকট আবেদন রাখছি হাওর এলাকার অতিদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থ-সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নে অতীতের মত তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য।

লেখক: সহকারী পরিচালক (ফিল্ড অপারেশন), আইডিয়া
E-mail: [email protected]




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: