সর্বশেষ আপডেট : ২০ মিনিট ২০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৫ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

ব্রাশফায়ারে ৭ জনকে হত্যা: থমথমে বাঘাইছড়ি

ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে গত সোমবার ব্রাশফায়ারে ৭ জনকে হত্যার ঘটনায় কারা জড়িত তা এখনো জানতে পারেনি পুলিশ। এমনকি গতকাল মঙ্গলবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা কিংবা সন্দেহভাজন কাউকে আটকও করা হয়নি। তবে সন্ত্রাসীদের ধরতে যৌথ অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার আলমগির কবির।

যদিও নিরাপত্তা বিশ্লেষকসহ স্থানীয়রাও বলছেন, পাহাড়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন হত্যাকা-ের জন্য আঞ্চলিক দলগুলোর বিরোধই দায়ী। প্রতিটি ঘটনার পরই আঞ্চলিক দলগুলো একে অপরকে দোষারোপ করে বিবৃতি দেয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দু-একজন ধরা পড়লেও অধিকাংশ সময়েই খুনের পেছনে যারা কলকাঠি নাড়েন তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। বাঘাইছড়ির ঘটনায়ও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

এ হত্যাকা-ের জন্য সন্তু লারমার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও প্রসিতপন্থি ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) দায়ী করেছে জেএসএস (সংস্কার) ও জেলা আওয়ামী লীগ। তবে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছে দল দুটি।

সোমবার উপজেলা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন শেষে দুটি চাঁদের গাড়িতে (হুডখোলা জিপ) করে বাঘাইছড়ি সদরে ফেরার পথে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর ব্রাশফায়ার করে সন্ত্রাসীরা। এতে রাতেই সহকারী পোলিং অফিসার ও কিশলয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমির হোসেন (৪০), আনসার ভিডিপি সদস্য জাহানারা (২৮), প্লাটুন কমান্ডার মিহির কান্তি দত্ত (৪০), সদস্য বিলকিস আক্তার (৪০), আল আমিন (১৭) ও মন্টু চাকমা (২৭) মারা যান। মারাত্মক আহতাবস্থায় রাতেই ১৮ জনকে তিনটি হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় পথে পোলিং কর্মকর্তা তৈয়ব আলী (৪০) মারা যান।

আহতদের মধ্যে সাতজনকে গতকাল ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাঘাইছড়ির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেএসএসের (সংস্কারপন্থি) সুদর্শন চাকমা বলেন, সন্তু লারমার জেএসএসের প্রার্থী বড়ঋষি চাকমা নিশ্চিত পরাজয় জেনে সকালে নির্বাচন বর্জন নাটক করার পর সন্ধ্যায় সরকারি কাজে নিয়োজিতদের ওপর এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে।

এই হামলার জন্য সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতি ও প্রসিতপন্থি ইউপিডিএফ দায়ী। তবে সন্তু লারমার জেএসএস বাঘাইছড়ি উপজেলা কমিটির সহ০সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চাকমা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত ওই এলাকায় আমাদের সাংগঠনিক কোনো তৎপরতা নেই। আমরা কেন এমন কাজ করব? এ ছাড়া সকালেই আমরা নির্বাচন বর্জন করে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি নির্বাচন কমিশনকে। আবার ইউপিডিএফের সংগঠক মাইকেল চাকমাও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো প্রার্থী কিংবা কোনো দলকে সমর্থন দেইনি আমরা। এটা নির্বাচনী সহিংসতা, তাই অপরাধীদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের। এভাবে দোষারোপ করে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে।

পুলিশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, পাহাড়ে চারটি সংগঠন সক্রিয় আছে। তাদের মধ্যে যে কোনো একটি এ ঘটনা ঘটিয়েছে; এটা আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার অতিরিক্ত ডিআইজির নেতৃত্বে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত দল ঘটনাস্থলে রয়েছে। তদন্ত শেষে সুস্পষ্টভাবে বলতে পারব কারা ঘটনার জন্য দায়ী। তিনি বলেন, পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠনগুলো আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সারাবছরই নিজেদের মধ্যে সংঘাতে লিপ্ত থাকে। তবে কী কারণে সরকারি লোকজনের ওপর তারা হামলা করল তা আমাদের জানতে হবে। এদিকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তার জবাব দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তায় কোনো গাফিলতি ছিল না। দুষ্কৃতকারীরা পরিকল্পিতভাবে সুযোগ বুঝে এ হামলা চালিয়েছে। যদি নির্বাচনে অনিয়ম হয়ে থাকে, সেটার প্রতিশোধ তো মানুষের জীবন নিয়ে হয় না। আমরা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। তারা তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে কারা এ হত্যাকা-ের পেছনে আছে।’

সিইসি বলেন, পাহাড়ে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। কেউ অভিযোগ করলেই নির্বাচন ত্রুটিপূর্ণ হয়ে গেল, বিষয়টি এমন নয়। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিইসি চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে আসেন। এ সময় আহতদের কয়েকজনের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। পরে দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এমকে মতিউর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার জেলা প্রশাসক ও ডিআইজি উপস্থিত ছিলেন। এরই মধ্যে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বিকালে নিহত ছয়জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের আশপাশ।

হাসপাতালে আসেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আজ খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আনসার সদস্যসহ ৭ জনকে হত্যা, রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যাসহ নারী এমপি বাসন্তী চাকমার অপসারণের দাবিতে আজ বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ।

গতকাল সন্ধ্যায় সংগঠনটির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। ইউপিডিএফের বিবৃতি বাঘাইছড়িতে নির্বাচন পরিচালনাকারী সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউপিডিএফ। গতকাল দলের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব চাকমার পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নিন্দা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাস্থল ইউপিডিএফ সমর্থক অধ্যুষিত হওয়ায় কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম ও একশ্রেণির গোয়েন্দা সংস্থা তাদের দলকে সন্দেহের তালিকায় যুক্ত করেছে। যা অবিবেচনাপ্রসূত।

বিবৃতিতে প্রশ্ন রেখে বলা হয়, ওই উপজেলায় ইউপিডিএফ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে ছিল এবং তাদের কোনো প্রার্থীও ছিল না। তা হলে ইউপিডিএফ কেন নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করে নিজেদের অহেতুক বিতর্কে জড়াবে? হামলার মোটিভ ও যৌক্তিকতা বিচার না করে কেবল হীন উদ্দেশ্যে ইউপিডিএফের ওপর দায় না চাপাতে এবং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাধারণ জনগণকে হয়রানি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূত্র: আমাদের সময়

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: