fbpx

সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শনিবার, ৬ জুন ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

কারাগারে মালির কাজে রাগীব আলী, ছেলে লাইব্রেরির কর্মচারী

ডেস্ক রিপোর্ট:: সিলেটের আলোচিত ব্যবসায়ী রাগীব আলী চেক জালিয়াতি ও প্রতারণা করে তারাপুর চা-বাগানের হাজার কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দ্বিতীয় দফায় কারাবন্দি হয়েছেন। আপিলে নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকায় গত ১২ সেপ্টেম্বর রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইকে কারাগারে পাঠান আদালত।

এরপর থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে মালির কাজ করছেন এই ধনকুবের। আর তার ছেলে আব্দুল হাই কারাগারের লাইব্রেরিতে কর্মচারীর কাজ করছেন।

তবে কারাবন্দি রাগীব আলীর সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও মর্যাদাশীল ব্যক্তি হওয়ায় কারাগারে তাকে ডিভিশন-২ এর মর্যাদা দেয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছেন তার আইনজীবী আব্দুর রহমান আফজাল।

এছাড়াও পৃথক আরেকটি আবেদনপত্রে তিনি রাগীব আলী ও আব্দুল হাইকে শারীরিকভাবে অসুস্থ উল্লেখ করে তাদের সুচিকিৎসা না হলে যেকোনো সময় অঘটন ঘটতে পারে। তাই আসামিদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়ার জন্য সিলেট মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহর আদালতে আবেদন করেন।

আদালতের বিচারক এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে জেল সুপারের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের সচিবের বরাবর রাগীব আলী ও তার ছেলের চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রসহ বিভিন্ন কাগজপত্র সংযুক্ত করে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার আবু সায়েম জানান, সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় রাগীব আলীকে কারাগারে মালির কাজ দেয়া হয়েছে। তিনি কারাগারের বাগানে পানি দেন। এছাড়াও তার ছেলে আব্দুল হাই কারা অভ্যন্তরের লাইব্রেরিতে কাজ করছেন। এছাড়া কারা কর্তৃপক্ষ তাদের আইনজীবীর করা দুটি আবেদনপত্র পেয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠিয়েছে।

কী আছে ওই দুটি পৃথক আবেদনে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি আবেদনে রাগাীব আলীর সামাজিক মর্যাদার বিষয় তুলে ধরে ডিভিশন-২ চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও আরেকটি আবেদনে রাগীব আলী ও আব্দুল হাইয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।

রাগীব আলীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল জানান, রাগীব আলী সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি সমাজের বহু উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বহু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। তার শারীরিক অসুস্থতাও রয়েছে। তাই আদালতে তাকে ডিভিশন-২ দেয়ার আবেদন জানিয়েছি।

তিনি আরও জানান, আরেকটি আবেদনে রাগীব আলী ও আব্দুল হাইয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। তারা দুজনই গত বুধবার সেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত দুটি আবেদন আমলে নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন ওই দিনই। এখনও অনুমতি আসেনি। তবে আমরা অনুমোদন পাওয়ার বিষয়ে আশবাদী।

আদালত সূত্র জানায়, রাগীব আলীর ডিভিশন-২ চেয়ে তার আইনজীবী আদালতে যে আবেদনটি করেছেন ওই আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্তি হিসেবে দেয়া হয়েছে ইনকাম ট্যাক্স আইডি, প্রত্যায়নপত্র ও তার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।

এছাড়াও পৃথক আরেকটি দরাখাস্তে একই আইনজীবী রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য আবেদন করেন। যা বুধবার আদালত থেকে কারাগারের স্মারকমূলে পাঠানো হয়েছে। এতে রাগীব আলী মালিকাধীন জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারজন চিকিৎসক একটি চিকিৎসাপত্র দেন রাগীব আলীকে। যার নং-জেআরআরএমসি/৭৬৬/ট্রিটমেন্ট-০৮৭৭, তারিখ-১৭/২/১৮।

এতে উল্লেখ করা হয় কারাগারে থাকাকালীন সময়ে রাগীব আলীর যথাযথ চিকিৎসা হয়নি। প্রায় এক বছর পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে হাসপাতালে গত বছরের ৩০ অক্টোবর থেকে এ বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চিকিৎসা নেন। রাগীব আলীর বয়স ৭৯ বছর।

এছাড়াও রাগীব আলীকে যে চারজন চিকিৎসক পত্র দিয়েছেন সেই সব চিকিৎসকরা তার ছেলে আব্দুল হাইকে পত্র দিয়েছেন। যার নং- জেআরআরএমসি/৭৬৬/ট্রিটমেন্ট-০৮৭৮, তারিখ-১১/২/১৮।

এতে উল্লেখ করা হয় কারাগারে থাকাকালীন সময়ে আব্দুল হাইয়ের যথাযথ চিকিৎসা হয়নি। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আব্দুল হাই গত বছরের ৩০ অক্টোবর থেকে এ বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

আদালতে দাখিলকৃত দরাখাস্তের সঙ্গে পুরস্কার, সম্মাননা, পদকের নাম ও প্রাপ্তির বছর উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সিলেট মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ স্মারক জালিয়াতি করে তারাপুর চা বাগানের হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কারাগারে থাকাকালীন তাদের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন সিলেট মূখ্য আদালতের তৎকালীন বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো। এরপর কারাগারে তারা মালি ও লাইব্রেরিতে কাজ করেছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: