![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
নেপালের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে প্রলয়ঙ্করী আকস্মিক বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নেপালের অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্নিম ওয়াগলে।
অন্যদিকে, সাধারণ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে বিদেশি দল নয়, বরং বিশেষায়িত কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা চেয়েছে কাঠমান্ডু।
বন্যাপরবর্তী পুনর্গঠনের কথা বলতে গিয়ে স্বর্নিম ওয়াগলে শনিবার রয়টার্সকে বলেন, “এটি একেবারেই প্রাথমিক একটি ধারণা। ক্ষয়ক্ষতি ও অবকাঠামোগত ক্ষতি মূল্যায়নের কাজ এখনো চলছে।”
বুধবার তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের পর নদীগুলোতে নেমে আসা বরফ, কাদা ও পাথরের ভয়ংকর ঢলে নেপাল ও চীনের তিব্বত অংশ মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ।
নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট বলেছে, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ তাদের উদ্ধারকারী দল পাঠাতে অনুমতি দেওয়ার জন্য নেপাল সরকারকে অনুরোধ করেছিল।
তবে সাধারণ উদ্ধার অভিযান নিজেদের বাহিনীই করতে সক্ষম জানিয়ে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল রয়টার্সকে বলেন, “সাধারণ অনুসন্ধান ও উদ্ধারের কাজ আমাদের নিজস্ব উদ্ধারকারীরাই করছেন। এ কাজের পুনরাবৃত্তির কোনো প্রয়োজন নেই বলে আমরা মনে করি।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যেসব ক্ষেত্রে নেপালের প্রযুক্তিগত ও বিশেষায়িত দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে, কেবল সেখানেই আন্তর্জাতিক সাহায্য চাওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার, মরদেহ শনাক্তকরণ ও সংরক্ষণের প্রযুক্তির পাশাপাশি ধ্বংসপ্রাপ্ত সেতুগুলোর জায়গায় যোগাযোগের জন্য সহায়তা হিসেবে বেইলি ব্রিজ চাওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে দুই বড় প্রতিবেশী ভারত ও চীনের কাছে এসব ব্রিজ চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে কাঠমান্ডু।
উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের চিতওয়ান ও নওয়ালপরাসির সমতল এলাকা থেকেও নদীর পানিতে ভেসে আসা অনেক মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, “সেখানকার হাসপাতালগুলো মরদেহে উপচে পড়েছে এবং লাশ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই।”
নেপালি কর্মকর্তারা বলছেন, বন্যায় স্কুল, হাসপাতাল, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সড়ক ও সেতুসহ সামগ্রিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ফলে আপৎকালীন উদ্ধার কাজ শেষে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়াতেও নেপালের বড় ধরনের বৈদেশিক সহায়তার প্রয়োজন হবে।