সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভারতে চালু হলো কেন্দ্রীয় ডিজিটাল স্থলবন্দর ব্যবস্থা ‘বিনিময়’

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

স্থলবন্দরের পরিচালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কার্গো, যাত্রী ও যানবাহন চলাচল প্রক্রিয়া একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসতে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে ভারত।

দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মঙ্গলবার ‘ল্যান্ড পোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (এলপিএমএস) নামের এই ডিজিটাল ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন।

ইনডিয়া ডটকম লিখেছে, ‘বিনিময়’ নামের এই প্ল্যাটফর্মটি ভারত সরকারের চার স্তরবিশিষ্ট ‘স্মার্ট বর্ডার’ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে সীমান্ত চেকপোস্টগুলোতে ট্রাক এবং যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন ও অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করছে ভারত সরকার।

এখন থেকে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো অনলাইনে আগেভাগেই তাদের পরিদর্শন ও নিবন্ধনের জন্য বুকিং করতে পারবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অমিত শাহ বলেন, “সব অংশীজনের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই ল্যান্ড পোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ডিজাইন করা হয়েছে। ‘স্মার্ট বর্ডার’ উদ্যোগের সাথে যুক্ত হয়ে এই সিস্টেমটি একটি দুর্ভেদ্য এবং নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরিতে সাহায্য করবে।”

তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা সীমান্ত এলাকায় ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড’ রোধ করার পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এলপিএমএস ব্যবহারকারীদের জন্য একটি ‘সিঙ্গেল ইলেকট্রনিক উইন্ডো’ সুবিধা দেবে। এর মাধ্যমে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ), কাস্টমস (সিবিআইসি), মোটর ভেহিকল সিস্টেম, ইউআইডিএআই (আধার কর্তৃপক্ষ) এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেডসহ (ডিজিএফটি) বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান করা সম্ভব হবে।

ডিজিটাল ব্যবস্থার মূল সুবিধা

• কাগজপত্রের ব্যবহার হ্রাস: ল্যান্ড পোর্টগুলোতে প্রায় ৯০ শতাংশ কাগজের কাজ বা পেপারওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাবে।

• অপেক্ষার সময় হ্রাস: কাস্টমস ও সীমান্ত বন্দরে ট্রাকের অপেক্ষার সময় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে।

• দ্রুত গেট পাস: ‘অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন’ (এএনপিআর) এবং সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমে বন্দরগুলোর গেট প্রসেসিং বা প্রবেশ পাসের সময় ২২ থেকে ৩৫ শতাংশ কমে যাবে।

ভারতের সচল ১৫টি স্থলবন্দরের মধ্যে পেট্রাপোল, আগরতলা, ডাউকিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য ও যাত্রী পারাপারে ব্যবহৃত হয়। ফলে ভারতের এই নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল বাংলাদেশের আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং ভ্রমণকারীরাও পাবেন।

ল্যান্ড পোর্টের সম্প্রসারণ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশটির ১৫টি স্থলবন্দর সচল রয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে আরও ১১টি নতুন স্থলবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যার মাধ্যমে মোট স্থলবন্দরের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৬টিতে।

সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে ইনডিয়া ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে হওয়া বাণিজ্যের পরিমাণ ২০১৪ সালের ৫ হাজার কোটি রুপি থেকে বেড়ে বর্তমানে ৮৩ হাজার কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। গত ১২ বছরে স্থলবন্দরের মাধ্যমে দেশটির বাণিজ্য প্রায় ১৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অমিত শাহ বলেন, ২০১২ সালে ‘ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া’ গঠনের ধারণাটি আসে এবং ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা হয়। ২০১৪ সালের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এটি নতুন গতি পায়।

“স্থলবন্দরগুলো কেবল বাণিজ্যের প্রবেশদ্বারই নয়, বরং এগুলো সীমান্ত অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটিয়ে স্থানীয় জনপদের অভিবাসনের প্রবণতা কমাতেও ভূমিকা রাখছে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: