সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো. সালাম (২১) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা শিশু ধর্ষণ আপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোস্তাগীর আলম এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রায় অনুযায়ী, আসামী মো. সালামকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক দুটি ধারায় সাজা প্রদান করা হয়েছে:

মামলায় আইনের ৯(১) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া আইনের ৭ ধারায় তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আদালত উল্লেখ করেছেন, উভয় সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে। তবে আসামী ইতিপূর্বে হাজতে থাকার সময়কাল মূল দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে।

মামলার নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দামুড়হুদা থানার কার্পাসডাঙ্গা এলাকার ১০ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় অপহরণ করে আসামী মো. সালাম। পরবর্তীতে ভিকটিমকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ভুয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং “কাল্পনিক কাবিননামা” তৈরি করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয়।

স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. হারুন অর রশীদ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামী সালাম এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মেডিকেল রিপোর্টে ধস্তাধস্তির চিহ্ন না থাকলেও ভিকটিমের বয়স ১৬ বছরের কম হওয়ায় এবং সম্মতিবিহীন যৌন সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত এই কঠোর রায় প্রদান করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে অপহরণে সহায়তার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেও, প্রমাণের অভাবে মামলার অন্যান্য আসামী—বজলুর রশীদ মজু, মোছা. মনোয়ারা বেগম এবং জালাল ওরফে শাহজালালকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া মামলার ২নং আসামী মো. আল-আমিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বা প্রমাণের অভাবে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বিবেচনা করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর আসামীকে কড়া পুলিশ পাহারায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এম এম শাহজাহান মুকুল। তিনি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন,”বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্ষণের যে প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এই রায় তা রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং আশা করি এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।” এ রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী পরিবারও এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: