![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর পরিচালনায় পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম সাধারণ নির্বাচনের তিন পর্বের মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের ভোটগ্রহণ চলছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে রোববার স্থানীয় সময় সকালে ভোটাররা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এর আগে দুই সপ্তাহ আগে, ২৮ ডিসেম্বর প্রথম পর্বের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই নির্বাচন শুরু হয়। সামরিক জান্তার দাবি অনুযায়ী, ওই পর্বে ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। তবে এই হার ২০২০ ও ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর এটিই মিয়ানমারের প্রথম নির্বাচন। চলমান গৃহযুদ্ধ ও সহিংসতার মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তাকে বৈধতা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলদের নেতৃত্বে গঠিত সামরিক বাহিনীপন্থি দল ইউনিয়ন সলিডারিটি এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টিই আবার ক্ষমতায় আসবে।
প্রথম পর্বে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ১০২টি আসনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এই পর্বে ইউনিয়ন সলিডারিটি এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি ৯০টি আসনে জয় পেয়েছে বলে জান্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
আগামী ২৫ জানুয়ারি তৃতীয় ও চূড়ান্ত পর্বের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত পর্বে মিয়ানমারের ২৬৫টি প্রশাসনিক অঞ্চলে (টাউনশিপ) ভোট নেওয়া হবে। এসব অঞ্চলের মধ্যে এমন এলাকাও রয়েছে, যেখানে সামরিক জান্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।
সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির মোট ৩৩০টি প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে ৫৬টিতে ভোটগ্রহণ হবে না। পাশাপাশি আরও তিন হাজার গ্রাম ও ওয়ার্ড এলাকা এই নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকছে।
জাতিসংঘ, কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ এতে জান্তাবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং নির্বাচনের সমালোচনাকেও আইনি ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মিয়ানমারের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিসসহ প্রায় ৪০টি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই দলটি ২০১৫ ও ২০২০ সালের নির্বাচনে বিপুল জয় অর্জন করেছিল। সু চি ও তার দলের বহু শীর্ষ নেতা বর্তমানে কারাবন্দি। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। দলের অনেক নেতা নির্বাসনেও রয়েছেন।
ভোটে বাধা দেওয়া বা নির্বাচনের বিরোধিতা করার অভিযোগে নতুন একটি আইনের আওতায় ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই আইনে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, চীনের সমর্থনপুষ্ট জান্তা সরকার রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে এবং নিজেদের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করে ক্ষমতাকে আরও শক্ত করতে এই নির্বাচন আয়োজন করেছে।