![]()


সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় নাশকতা ও রাজনৈতিক সহিংসতাসহ বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পৃথক অভিযানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ছয়জন নেতা–সমর্থককে গ্রেফতার করেছে ছাতক থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত টানা অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে শনিবার দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে গ্রেফতারকৃতদের সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এ তথ্যটি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতার ছয়জনের মধ্যে দুজন নাশকতা মামলার আসামি এবং বাকি চারজন বিভিন্ন মামলার পলাতক ছিলেন। তিনি বলেন, “অভিযান চলমান রয়েছে। অপরাধীদের কেউই ছাড় পাবে না।”
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— জাউয়াবাজার ইউনিয়নের জাউয়া গ্রামের বাসিন্দা জুমেন আহমদ ওরফে জুমেন মামুন (৩৪), তিনি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে পরিচিত সিরাজুল ইসলাম (৫২)। নোয়ারাই ইউনিয়নের চড়ভাড়া গ্রামের মঈন উদ্দিনের ছেলে লাহিন (২৫)। জুড়াপানি গ্রামের মৃত আজমান আলীর ছেলে কয়েছ মিয়া। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গোটাটিকর গ্রামের সুন্দর আলীর ছেলে লায়েক আহমদ (২৪) এবং সদর ইউনিয়নের চাইরচিরা গ্রামের মৃত সুনীল চন্দ্র দাসের ছেলে হিমাংশু।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে একযোগে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
এদিকে এই গ্রেফতার অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানায়, এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পূর্বের সহিংস ঘটনার বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।