![]()


মারুফ হাসান ::
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত–পাকিস্তান লড়াই মানেই ক্রিকেটে বাড়তি উত্তেজনা। দুবাইয়ে সপ্তদশ এশিয়া কাপ ফাইনালে সেই রোমাঞ্চ আরও তীব্র হয়েছিল। তবে শেষ হাসি হেসেছে ভারতই। ৫ উইকেটের জয়ে নবমবারের মতো তারা ঘরে তুলল এশিয়া কাপ।
ম্যাচে পাকিস্তান দুর্দান্ত শুরু করেছিল। শাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামানের ব্যাটে ১১ ওভারের মধ্যেই দলীয় স্কোর ১০০। মনে হচ্ছিল, ফাইনালে বড় লক্ষ্য দাঁড় করাবে সালমান আলি আগার দল। কিন্তু এখানেই ঘটে ধস। বাকি ব্যাটসম্যানরা যেন একে একে উইকেট বিলিয়ে আসতে থাকেন। শেষ ৩৩ রানে ৯ উইকেট হারানো ক্রিকেটীয় আত্মহত্যারই নামান্তর।
এখানে বোঝা যায়, পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ এখনও অভিজ্ঞতা আর মানসিক দৃঢ়তায় পিছিয়ে। চাপের মুহূর্তে কেউই দাঁড়াতে পারছে না।
ভারতের শুরুটাও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। ফাহিম আশরাফের ধারালো স্পেল আর শাহিন আফ্রিদির গতি-ভ্যারিয়েশনে প্রথম চার ওভারে তারা হারায় তিন উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে যে কোনো দল ভেঙে পড়তে পারত। কিন্তু এখানেই পার্থক্য তৈরি হয়।
তিলক ভার্মা ইনিংসকে এক প্রান্তে বেঁধে রাখেন। সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে ছোট জুটি আর শিভাম দুবের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারিতে ম্যাচ ঘুরে যায় ভারতের দিকে। ৫৩ বলে ৬৯ রানের হার না মানা ইনিংস শুধু পরিসংখ্যান নয়, সেটি ছিল মানসিক দৃঢ়তা আর ম্যাচ রিডিংয়ের উদাহরণ।
আমি খেলা অতোটা বুঝিনা, কিন্তু যেটুকু বুঝি তাতে মনে হয়েছে কিছুটা ট্যাকটিক্যাল ব্যর্থতা ছিলো পাকিস্তানের..
১. সহজ ক্যাচ ফেলে দেওয়ার প্রবণতা আবারও দেখা গেছে। স্যামসনের জীবন পাওয়াই ভারতের ইনিংসে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
২. স্পিনারদের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। আবরারকে মাঝের ওভারে বেশি আগ্রাসীভাবে ব্যবহার করা যেত।
৩. ব্যাটিং অর্ডারে নমনীয়তার অভাব ছিল স্পষ্ট। ওপেনিং জুটির পর কেউই পরিস্থিতি বুঝে খেলতে পারেনি।
ভারতের শৃঙ্খলা ও মানসিকতা
ভারতের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল ম্যাচ সচেতনতা। তিলকের ধৈর্য, দুবের দ্রুত রান তোলা, আর কুলদীপ যাদবের স্পিন ভেল্কি পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে। পাশাপাশি, ভারতীয় দল চাপ সামলানোর মানসিক শক্তি বারবার প্রমাণ করেছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা বনাম বাস্তবতা
২০২২ সালের পর থেকে টানা আটবার ভারত জয়ী হলো পাকিস্তানের বিপক্ষে। ফাইনালটিও সেই ধারারই প্রতিফলন। মাঠের বাইরে সম্পর্ক যতই টানটান হোক, মাঠে ভারত বারবার প্রমাণ করছে তারা এগিয়ে। পাকিস্তান বারবার কাছে গিয়েও ম্যাচ শেষ করতে পারছে না।
এই ফাইনাল আবারও দেখাল—শুরু ভালো করলেই শেষ ভালো হয় না। পাকিস্তান যেখানে উজ্জ্বল শুরুটা ধরে রাখতে পারেনি, ভারত সেখানে খারাপ শুরু কাটিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। ক্রিকেটে এটাই পার্থক্য গড়ে দেয়—শুরু নয়, শেষটাই আসল। আর সেই শেষটায় ভারতের দক্ষতা এখনো পাকিস্তানের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্ব।