সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৩ মে ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জান্তার নির্মমতা, গর্ভবতী নারী-শিশুসহ ৬ জনকে হত্যা

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

মিয়ানমার জান্তা সরকারের সামরিক বাহিনী দেশটির সংখ্যালঘু কারেনি নৃগোষ্ঠীর ৩ জন নারী ও ৩ জন শিশুকে হত্যা করেছে। নিহতদের মধ্যে এক গর্ভবর্তী নারীও রয়েছে। জান্তাবাহিনীর হাতে নিহত শিশুদের সবার বয়স ১০ বছরের নীচে। গত সপ্তাহের রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) কায়াহ রাজ্যের শাদাও শহরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ইরাবতী অনলাইন বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ করে। একই দিনে শাদাও থেকে ২৪৯ জন সাধারণ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয় বলেও জানায় সংবাদমাধ্যমটি।

মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর তাদের প্রতিবেদনে জানায়, গত সপ্তাহে জান্তাবাহিনী শাদাও শহরে অভিযান চালিয়ে বিনা কারণে ৩ নারীকে হত্যা করে। তাদের মধ্যে একজন গর্ভবতী ছিলেন। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে থাকা ৩ শিশুকেও হত্যা করে জান্তাবাহিনী।
কায়াহের বিদ্রোহী গোষ্ঠী কারেনি আর্মি জানিয়েছে, শাদাও শহরে প্রবেশ করে জান্তাবাহিনী গণহারে ধরপাকড় চালিয়ে ২৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্য থেকে পুরুষেরা পালিয়ে গেলেও ওই গর্ভবতী নারী ও অপর দুই প্রতিবন্ধী নারী ও যথাক্রমে ৩,৫ ও ৭ বছর বয়সী তিন শিশু পালাতে ব্যর্থ হয়। পরে জান্তাবাহিনী নির্যাতন চালিয়ে এই ৬ জনকে হত্যা করে।

পরে কারেনি আর্মি ও কারেনি ন্যাশনালিটিজ ডিফেন্স ফোর্সের সদস্যরা যৌথ অভিযানের সময় শাদাও শহর থেকে এই ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত ৩ নারীর পরিচয়ও প্রকাশ করেছে তারা। নিহত নারীরা হলেন—সোয়ে মেল, লাও মেল এবং মে মোহ। তাদের সবার বয়সই ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

কারেনি আর্মি জানিয়েছে, নিহত শিশুদের একজন সোয়ে মেলের নাতি এবং একজন লাও মেলের কন্যা। অপর শিশুর পরিচয় এখনো জানা যায়নি বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের স্থানীয় মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যাসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জান্তার বিমান হামলায় অন্তত ২০ শিশু নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কারেন্নি রাজ্যের ডেমোসো শহরের একটি স্কুলে জান্তার বিমান হামলায় নিহত চার শিশুও রয়েছে।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর থেকে জান্তা সৈন্যরা দেশটিতে অন্তত ৫৭৮ শিশুকে হত্যা করেছে। একই সময়ে জান্তার হাতে নিহত নারীর সংখ্যা ৭৫৪ জনে পৌঁছেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কান্তারাবতী টাইমস জানিয়েছে, তৃতীয় শিশুটিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। যখন তাকে খুঁজে পাওয়া যায় তখনো তার শ্বাস চলছিল। কিন্তু উদ্ধারকারীরা শিশুটিকে বাঁচাতে পারেনি। শিশুটির পিঠে গুলির একটি বড় ক্ষত ছিল এবং ব্যাপক রক্তক্ষরণের কারণে শিশুটি উদ্ধারের একটু পরই মারা যায়।

স্থানীয় গণমাধ্যম কান্তরাবতি টাইমস বলেছে, তাদের একজন প্রতিবেদক শহরটিতে মৃতদেহের স্তূপের মাঝে এক শিশুকে শ্বাস নিতে দেখেছেন। কিন্তু উদ্ধারকারীরা শিশুটিকে বাঁচাতে পারেননি। শিশুটির পিঠে বুলেটের বড় ক্ষত ছিল। পরে শিশুটি মারা যায়।

কারেন্নি আর্মির অ্যাডজুট্যান্ট-জেনারেল কর্নেল ফোন নাইং বলেন, জান্তাবাহিনী যে ছয়জনকে হত্যা করেছে তাদের শ্যাডাও শহরে জোরপূর্বক পাঠিয়েছিল প্রশাসন। মিয়ানমার জান্তা বাহিনী ও কারেন্নি প্রতিরোধ বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের পর তাদের শহরটিতে পাঠানো হয়।

প্রতিরোধ বাহিনী নিহত বেসামরিক লোকজনকে কবর দিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের হত্যাকারী জান্তা সৈন্যদের খুঁজছে কারেন্নি আর্মি খুঁজছে বলে জানিয়েছেন কর্নেল ফোন নাইং। তিনি বলেছেন, শ্যাডাওয়ে সংঘর্ষের সময় জান্তা সৈন্যদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করেছে কারেন্নি যোদ্ধারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: