সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পানির দরে গাড়ি কিনেই ধরা

gari-bmw-220160511122113নিউজ ডেস্ক:
বিশ্বের বিলাসবহুল গাড়ির তালিকায় প্রথম দিকেই থাকে বিএমডব্লিউ, পোরশে আর মার্সিডিজের নাম। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এসব গাড়ি কমই দেখা যায়। তবে কিছু কিছু ব্যবসায়ী সরকারের নানা সুবিধার সুযোগ নিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিলাসবহুল এসব গাড়ি আমদানি ও বিক্রি করছে। তাদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। এরই ধারাবাহিকতায় গত এক মাসে ৬টি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছেন তারা।

এদের মধ্যে কোনোটি বিদেশি নাগরিক হওয়ার সুবিধা নিয়ে কেনা। কোনোটি আবার সিসি কম দেখিয়ে কেনা হয়েছে। কারণ সিসি কম দেখালে শুল্কের পরিমাণও কমে যায়। কেউ কেউ আবার মন্ত্রী-এমপি কোটার সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে গাড়ি পুনঃবিক্রয় করে ফেলছেন।

সর্বশেষ গত বুধবার (৪ মে) সকালে রাজধানীর বনানী থেকে বিলাসবহুল বিশ্বখ্যাত রেসিং কার ‘ওডি আর ৮’ জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল সাড়ে ৮ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেয়ার। ২০১৩ ‘ওডি টিটি’ ২৫০০ সিসি ঘোষণা দিয়ে গাড়িটি আমদানি করা হয়। গাড়ির ক্রয়মূল্য দেখানো হয় ৩২ হাজার ডলার আর শুল্ক দেয়া হয় ৪৫১%। তবে ওডি আর-৮ গাড়ির সিসি ৫২০০। এর দাম ১ লাখ ৬২ হাজার ডলার আর শুল্ক হয় ৮৪১%।

এর আগের শনিবার (৩০ এপ্রিল) বারিধারার অ্যাপোলো হাসপাতালের পার্কিং থেকে মন্ত্রীর মনোগ্রামসহ একটি রেঞ্জ রোভার গাড়ি জব্দ করা হয়। গাড়িটি কার্নেট সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়েছে। কার্নেট বলতে বিদেশি নাগরিকেরা নিজেদের ব্যবহারের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শুল্কছাড়া গাড়ি আমদানি করতে পারেন। তবে গাড়ির মালিক ৭০ লাখ টাকায় গাড়িটি কিনে বিক্রি করে দেন যার শুল্ক প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা।

মন্ত্রী কোটায় বিগত বিএনপি সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মতিনের আনা বিলাসবহুল পোর্শে জিপটি আমদানি করে মাত্র ৮০ লাখ বিক্রি করে দেন। গাড়িটির মন্ত্রী বিক্রি করে দেয়ায় এর শুল্ক দাঁড়ায় ৫ কোটি টাকা। আর তাই এটি জব্দ করা হয়।

একই কারণে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে সিলেট থেকে ৫ কোটি টাকার মার্সিডিজ গাড়ি, দেড় কোটি টাকার লেক্সাস আর বনানী থেকে বিএমডব্লিউ গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। অনেকেই শুল্ক মুক্ত উপায়ে গাড়ি কিনে এখন এমনই বিপাকে পড়েছেন যে তারা খোদ গোয়েন্দা অফিসে এসে গাড়ি রেখে যাচ্ছেন।

মোটা অংকের শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিলাসবহুল এসব গাড়ি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর।

এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, শুল্ক ফাঁকি দেয়া বিলাসবহুল এসব গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে সাধারণ মানুষ। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অথবা কম সিসি দেখানোসহ নানা কৌশলে যারা এখনো গাড়ি আমদানি করছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে। তালিকা ধরে এসব অবৈধ গাড়ি জব্দ করা হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: