সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শাবিতে ২৫ বছরে ২২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু : ৫ জনের আত্মহত্যা

2.-daily-sylhet-SUST-news6ডেইলি সিলেট ডেস্ক:
১৯৯১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তির ব্যবহার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর মুক্ত সংস্কৃতির বাঁধনে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি।

এই ২৫ বছরে অর্জনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় হারিয়েছে ২২ জন শিক্ষার্থীকে। এর মধ্যে আত্মহত্যা করেছেন ৫ শিক্ষার্থী।

প্রশাসন সূত্র জানা যায়, পুকুরে সাতার শিখতে গিয়ে ১৯৯৪ সালের ১৩ জুন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার আহমদ মারা যান। মূলত তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অকালমৃত্যুর সূচনা হয়।

একই বছরের সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রোকনুজ্জামান, ১৯৯৫ সালের মার্চে রেল দুর্ঘটনায় রাজু আহমেদ, ১৯৯৯ সালে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র এহেতেশাম, একই বছর সড়ক দুর্ঘটনায় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র তাপস ভট্টাচার্য এবং সমাজকর্ম বিভাগের ছাত্র বিদ্যুত রঞ্জন দাস, ২০০২ সালে জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের ছাত্র লাইসুর রহমান শুভ, ২০০৩ সালে সুনামগঞ্জের নারায়ণতলায় নৌভ্রমণে গিয়ে ২ জন, একই বছরের ১৫ আগস্ট জাফলংয়ের পিয়াইন নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে রাজন ও ফয়সাল, ২০০৫ সালের ১৩ জুলাই শাবি ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সহ-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ২০০৮ সালের ১৪ মে পুলিশের গুলিতে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ছাত্র মোশারফ হোসেন শামীম, ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর নৌকা ভ্রমণে গিয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী অনীক ও খায়রুল, ২০১৫ সালের ৮ আগস্ট খাদ্য বিষক্রিয়ায় অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র আবুল কালাম, চলতি বছর ১৬ এপ্রিল সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী অরূপ সুত্রধর তনু বিদ্যুৎস্পৃস্ট হয়ে মারা যান।

এছাড়া আত্মহত্যা করেন ৫ জন। এর মধ্যে ২০০৯ সালের ২ আগস্ট প্রেমজনিত কারণে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ছাত্রী ঝর্ণা, একই কারণে ২০১০ সালে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সায়মা সুলতানা এনি, ২০১১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সৈকত আল ইমরান, ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আর্কিটেকচার বিভাগের ছাত্র শাহারিয়ার মজুমদার এবং সর্বশেষ গত ৭ মে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের ছাত্র বিশ্বজিৎ মল্লিক আত্মহত্যা করেন।

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুদীপ্ত বিশ্বাস বলেন, বিশ্বিজিতের আত্মহত্যা অনেকগুলো প্রশ্ন আমাদের সামনে হাজির করেছে। তার অনাকাঙ্খিত মৃত্যু, ডায়েরিতে লেখা কথাগুলো এই বিষয়টি আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পারস্পারিক সম্প্রীতি আর ভালোবাসার বন্ধন আলগা হয়ে গেছে। ছাত্র শিক্ষক সবারই বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত অনতিবিলম্বে কাউন্সিলিং সেণ্টার চালু করা, সাইকোলজিস্ট নিয়োগ করে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন রকমের হতাশা, একাডেমিক মানসিক-পারিবারিক চাপ ইত্যাদি বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান করা এবং নিয়মিত কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করা।

এ বিষয়ে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার বলেন, শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং করা জরুরী হয়ে পড়েছে। সেক্ষেত্রে নিজ বিভাগের শিক্ষকরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। ইতোমধ্যে সভা করে উপাচার্য বিভাগের শিক্ষকদের কাউন্সিলিংয়ের ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: