সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ২৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কে হবেন হিলারির রানিংমেট

13501_thumbM_101আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
এখনও ডেমোক্রেটিক দলের মনোনয়ন পেতে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে জোর লড়াই চালাচ্ছেন হিলারি ক্লিনটন। এক্ষেত্রে হিলারির মনোনয়ন পাওয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। হিলারির প্রচারণা শিবির ইতিমধ্যেই তার সম্ভাব্য রানিংমেট খোঁজা শুরু করে দিয়েছে। সাধারণত দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হলে রানিংমেটের নাম ঘোষণা করেন প্রার্থীরা। প্রার্থী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে এ রানিংমেটই ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর, যোগ্য প্রার্থীর চেয়েও নির্বাচন জয়ে অবদান রাখতে পারবেন, এমন জনপ্রিয় কাউকেই রানিংমেট বানানোর পরিকল্পনা হিলারির। হিলারি ও তার স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মিত্র, উপদেষ্টা এবং হিলারি সমর্থক প্রভাবশালী ডেমোক্রেট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকাও বানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। এমনকি তাদের শক্তিমত্তা ও দুর্বলতাও বিশ্লেষণ করেছে প্রভাবশালী পত্রিকাটি। এখানে তাদের সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো।

শেরড ব্রাউন: ২০০৭ সাল থেকে ওহাইয়ো অঙ্গরাজ্যের সিনেটর। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওহাইয়োর অন্যরকম আবেদন আছে। বলা হয়, ওহাইয়ো যেদিকে যায়, গোটা আমেরিকা সেদিকেই ছোটে। এ অঙ্গরাজ্যেই রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট দলের প্রথম ককাস অনুষ্ঠিত হয়। মজার ব্যাপার হলো, এখন পর্যন্ত কোনো রিপাবলিকান ওহাইয়ো অঙ্গরাজ্যে না জিতে প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি! আবার ১৯৬৪ সালের পর কোনো ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট ওহাইয়োতে না জিতে প্রেসিডেন্ট হননি! তাই শেরড ব্রাউনকে রানিংমেট নির্বাচিত করলে এ অঙ্গরাজ্যে নিশ্চিত জয় ঘরে তুলতে পারেন হিলারি। জনপ্রিয় এ ডেমোক্রেট নেতা কর্মজীবী মানুষের পক্ষে সরব। অনেক অর্থকড়ি সমপন্ন রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে দেয়ার বিশেষ রেকর্ড আছে তার! প্রগতিশীল এ নেতা ওবামা প্রশাসনের ট্রেড এজেন্ডার কড়া সমালোচক। সেক্ষেত্রে হিলারির সঙ্গে তার দ্বিমত আছে। আবার হিলারিও ওবামার বাণিজ্য নীতির সমর্থক হওয়ায়, যে সমালোচনা কুড়িয়েছেন, তা কিছুটা হলেও কমতে পারে শেরড ব্রাউনকে টিকিট দিলে। আবার তার স্ত্রী একজন পুলিৎজার পুরস্কার জয়ী কলামিস্ট। তাই, বেশ ভালো পছন্দ হতে পারেন শেরড ব্রাউন। কিন্তু তাকে রানিংমেট করলে বিপদও আছে। কারণ, তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হলে একজন রিপাবলিকান গভর্নর আসবেন ওহাইয়োতে।
তাই কংগ্রেসে ডেমোক্রেটদের সমস্যা হতে পারে। আবার ৬৩ বছর বয়সী শেরড ব্রাউন তরুণদের খুব একটা টানতে পারবেন না। দেশব্যাপী পরিচিতিও তার কম।

জুলিয়ান ক্যাস্ত্রো: ওবামা প্রশাসনে তিনি কেন্দ্রীয় গৃহায়ন ও শহর উন্নয়ন মন্ত্রী। স্যান অ্যান্টানিওর সাবেক মেয়র। খুবই শক্তিশালী বক্তা। টেলিভিশনেও সরব বেশ। হিস্প্যানিক সমপ্রদায়ের মধ্যে অন্যতম ক্ষমতাধর ডেমোক্রেট নেতা ভাবা হয় তাকে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিস্প্যানিক ভোটাররা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য, ক্লিনটন নিজেই হিস্প্যানিকদের মধ্যে জনপ্রিয়। জুলিয়ান ক্যাস্ত্রোর নেতিবাচক দিক হলো বয়স ও অভিজ্ঞতা। ৪১ বছর বয়সী এ নেতার অভিজ্ঞতাও সীমিত। রাজনীতি ও সরকারের বাইরে তার সফলতা ও অর্জনও হাতে গোনা। অনেক ডেমোক্রেট সমর্থক মনে করেন, একদিন না একদিন তিনি প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন পাবেনই। কিন্তু আরও সময় নেয়া উচিত তার।

টিম কাইনে: ২০১৩ সাল থেকে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ও সাবেক গভর্নর। ভার্জিনিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। এখানে উভয় দলের জনসমর্থন প্রায় সমান। এ ধরনের রাজ্যকে বলা হয় ‘সুইং স্টেট’। এখানে টিম কাইনের মতো জনপ্রিয় সিনেটর ভালো ভূমিকা রাখতে পারবেন। এছাড়া স্প্যানিশ ভাষায় ভালো দখল থাকায়, হিস্প্যানিক ভোট ঘরে তুলতে সক্ষম তিনি। হারমোনিয়ামও বাজাতে পারেন দারুণ! সমস্যা হলো, কর্মী শিবিরের কাছে তার পরিচিতি- একটু বেশিই মডারেট বা মধ্যপন্থি। আবার তার মতো শ্বেতাঙ্গ নেতা খুব বেশি চমক সৃষ্টি করতে পারবেন না। এছাড়া হিলারির মতো তিনিও ওবামার ট্রেড চুক্তির সমর্থক। এটি ক্ষতি করতে পারে হিলারির।

অ্যামি ক্লোবুচার: ২০০৭ সাল থেকে মিনেসোটার সিনেটর এ নারী। আবার হিলারিও নারী। ফলে, নারী ভোটারদের ব্যাপক আকর্ষণ করতে পারেন এ জুটি। অ্যামির রানিংমেট হওয়াটাই একটি শক্তিশালী বার্তা। আরেকটি সুবিধা হলো, তার ছেড়ে আসা আসনে রিপাবলিকান কারও বসার ঝুঁকি নেই। এছাড়া সেন্স অব হিউমারের জন্য খ্যাতি আছে অ্যামির। আর তার নেতিবাচক দিক হলো, তার অঙ্গরাজ্য মিনেসোটা ডেমোক্রেটদের ঘাঁটি। তাই সেখানে এমনিতেই ডেমোক্রেটরা জিতবে। তাই অ্যামির গুরুত্ব কমে গেল। আবার জাতীয়ভাবেও তার অত পরিচিতি নেই।

ডেভাল প্যাট্রিক: তিনি ২০০৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর ছিলেন। এ আফ্রিকান আমেরিকানের অভিজ্ঞতার পাল্লা বেশ ভারি। হিলারির রানিংমেট ডেভাল প্যাট্রিক হলে তাই বৈচিত্র্যের কমতি থাকবে না। মাইনরিটি ভোটারদের সমর্থনও পাবেন হিলারি। বাণিজ্য দুনিয়ার সঙ্গে সমপর্ক তার ভালো। শিকাগোর দরিদ্র্য পরিবারে জন্ম নেয়া প্যাট্রিকের জীবনও অনুপ্রেরণাদায়ক। সমস্যা হলো, ‘সুইং স্টেট’ জেতাতে পারবেন না তিনি। কারণ, ম্যাসাচুসেটস আগে থেকেই লিবারেলদের আখড়া। তাই রক্ষণশীলরা তাকে কম গুরুত্ব দেবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, ২০১৫ সালে তিনি ‘বেইন ক্যাপিটাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হন। এই প্রাইভেট ইকুইটি ফার্মটিকে নিয়ে অনেক সমালোচনা রয়েছে। আরও বড় কথা, এর প্রতিষ্ঠাতা রিপাবলিকান নেতা ও গতবারের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মিট রমনি।

থমাস ই. পেরেজ: ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ওবামা প্রশাসনের শ্রম মন্ত্রী। ডমিনিক্যান অভিবাসী দমপতির পুত্র থমাস ই. পেরেজ হিস্প্যানিক ও ক্যাথলিক ভোট টানতে পারেন। তাকে বুদ্ধিমান ভাবা হয়। পছন্দও করেন অনেকে। কিন্তু শ্রম মন্ত্রণালয়কে খুবই উঁচু সারির মন্ত্রণালয় ভাবা হয় না। থমাস ই. পেরেজের জাতীয় পরিচিতির অভাব আছে। আছে জাতীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞতার অভাব। হিলারিকে কোন সুইং স্টেটও উপহার দিতে পারবেন না তিনি।

সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার: ২০০৯ সাল থেকে তিনি ভার্জিনিয়ার সিনেটর ও সাবেক গভর্নর। ভার্জিনিয়া গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। এখানে মার্ক ওয়ার্নারের প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই বেশি। রয়েছে আইন উত্থাপন, নির্বাহী ও ব্যবসা খাতের অভিজ্ঞতা। প্রগতিশীল ডেমোক্রেট কর্মীরাও পছন্দ করেন তাকে। এ সিনেটরের আরেক পরিচিতি হলো তিনি বর্তমান সিনেটের সবচেয়ে ধনী সদস্য। এর ফলে অনেকে তাকে পছন্দ না-ও করতে পারেন। আর তাকে রানিংমেট বানালে বৈচিত্র্য পাওয়া যাবে না। তিনিও ওবামার ট্রেড চুক্তির সমর্থক। তাই বার্নি স্যান্ডার্সের অনেক সমর্থক মুগ্ধ হওয়ার উপাদান খুঁজে পাবেন না ওয়ার্নারের মাঝে।

এলিজাবেথ ওয়ারেন: ২০১৩ সাল থেকে ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর তিনি। ডেমোক্রেট দলের প্রগতিশীল শিবিরে এলিজাবেথ ওয়ারেনের অবস্থান কিংবদন্তিসম! তাকে ভাবা হয় এ শিবিরের সুপারস্টার! আর এ শিবিরই আবার হিলারিকে খুব একটা পছন্দ করে না। তাই এলিজাবেথ ওয়ারেনকে রানিংমেট বানালে দল মুহূর্তেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাবে। আগ্রহী হয়ে উঠবেন স্যান্ডার্সের হতাশ সমর্থকরাও। এলিজাবেথ ওয়ারেন একজন যোগ্য ব্যক্তি। ভালো বিতার্কিক। এছাড়া ওয়ালস্ট্রিট নিয়ে নরম থাকার যে দুর্নাম আছে ক্লিনটনের, তাও ঘুচাবেন ওয়ারেন। হিলারি ও ওয়ারেন উভয়েই নারী হওয়ায় এ জুটির আলাদা মাত্রা তো থাকবেই। আবার তাদের আবেদন কমেও যেতে পারে অনেক ভোটারের কাছে। তিনি কড়া বামপন্থি হওয়ায়, মধ্যপন্থি পুরুষ ডেমোক্রেট সমর্থকরা নাখোশ হতে পারেন। আবার রিপাবলিকান দলের শীর্ষ বাছাই ডোনাল্ড জে. ট্রামপ ইতিমধ্যেই ওয়ারেনকে টার্গেট করে কথাবার্তা বলতে শুরু করেছেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: