সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ১ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গান গাইতে রাজি না হওয়ায় তনুকে হত্যা, দুই সেনাসহ জড়িত তিন জন (ভিডিও)

1515555নিউজ ডেস্ক::
সেনানিবাসের একটি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল তনুকে। কিন্তু সেখানে গান না গেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সিলেট ভ্রমণে গিয়েছিলেন তিনি। সেই আক্রোশেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের এ দাবি করেছেন নিহত সোহাগী জাহান তনুর মা আনোয়ারা বেগম। এসময় এই হত্যাকাণ্ডে দুই সেনাসদস্যসহ তিনজন জড়িত বলেও দাবি করেছেন তিনি। তনুর বাবা ইয়ার হোসেনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিআইডি কার্যালয়ে সপ্তমবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ডাকা হলে পথে সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন তনুর মা আনোয়ারা বেগম।

তাদের দাবি অনুযায়ী অভিযুক্তরা হচ্ছেন কুমিল্লা সেনানিবাসের সার্জেন্ট জাহিদ, তার স্ত্রী ও সিপাহী জাহিদ।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুকে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে হত্যা করা হয় গত ২০ মার্চ রাতে। এ ঘটনাকে পরিকল্পিত দাবি করে তনুর মা আনোয়ারা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, পুরোপুরি আক্রোশের কারণেই তার মেয়েকে হত্যা করা হয়। আর এ আক্রোশ ছিল অভিযুক্তদের ডাকে সাড়া না দেওয়ার আক্রোশ।

তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনম্যান্ট বোর্ডের কর্মচারী মো. ইয়ার হোসেন ও মা আনোয়ারা বেগম জোর দিয়ে বলেন, সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহী জাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই তনু হত্যাকাণ্ডের সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।

তারা বলেন, বারবার জিজ্ঞাসাবাদে আমরা এখন ক্লান্ত। যাদের বাসায় পড়াতে গিয়ে তনু খুন হয়েছে তাদের কাউকেই ওইভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না। তাদের বাসার শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেও অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, সেনাবাহিনীর স্টাডি ইউনিটের একটি অনুষ্ঠানে গান গাইতে তনুকে অনুরোধ করা হয়েছিল। ওইখানে সে গান না গেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সিলেটে ভ্রমণে চলে যায়। পরে তারা কুমিল্লা থেকে খোকন ও শান্তা নামে দুই শিল্পীসহ একদল শিল্পীকে টাকার বিনিময়ে এনে অনুষ্ঠানে গান করায়। এ থেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে তনুকে হত্যা করা হয়।
তিনি বলেন, এর বাইরে যদি আর কোনও রহস্য থাকে তাহলে তাও খুঁজে বের করা দরকার। তবে এ খুনের সঙ্গে সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রী এবং সিপাহী জাহিদ জড়িত বলে দাবি করেন তিনি।

তনুর মা বলেন, অনেক আক্রোশের কারণে তনুকে হত্যা করা হয়েছে। তার গোটা শরীরে মারের আঘাতের চিহ্ন ছিল দাবি করে তিনি বলেন, গান না গাওয়ার আক্রোশেই তাকে হত্যা করা হয়। তনুর চুল খুব লম্বা ছিল। ওই চুলও কেটে দেয় খুনিরা। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টের কোনও খবর নেই দেড় মাসেও। এগুলো কিসের আলামত তিনি তা জাতির কাছে প্রশ্ন রাখেন।

তিনি বলেন, সেনানিবাসের নিরাপত্তা বেষ্টনির ভেতর সেনা সদস্য ছাড়া এমন হত্যাকাণ্ড আর কেউ ঘটাতে পারে না।

এদিকে, মঙ্গলবার তনুর পরিবারের চার সদস্যসহ মোট ৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। সিআইডি ঢাকার সিনিয়র বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্হার আকন্দের নেতৃত্বে একটি টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে রয়েছেন স্টাডি ইউনিটের অনুষ্ঠানে তনুর প্রত্যাখানের পর গান গাওয়া কুমিল্লার অপরিচিত শিল্পী শান্তা, তার বন্ধু খোকনসহ অজ্ঞাত একজন। তনুর সহপাঠী সেনানিবাস এলাকার বুধৈর গ্রামের মাহমুদুল বাশার, একই এলাকার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এয়ার হোসেন শামীম, তনুর বাবা মো. ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম, ভাই আনোয়ার হোসেন এবং চাচাতো বোন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী লাইজু।

তনুর বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা তনু হত্যকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও তাদের বিচার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর লাশ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে কুমিল্লার কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ৫১ দিন অতিবাহিত হলেও কোনও ঘাতককে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

বাংলা ট্রিবিউন

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: