সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মোবাইলে বান্ধবীর নগ্ন ভিডিও দেখে ফেলায় খুন

13426_b2নিউজ ডেস্ক::
হৃদয়ের মোবাইলে তার এক বান্ধবীর গোপন কিছু ভিডিও ও ছবি ছিল। যার অধিকাংশই ছিল নগ্ন। আপত্তিকর এসব ভিডিও একদিন দেখে ফেলে তার চাচাতো ভাই ফিরোজ আলম বাঁধন। আর বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে হৃদয়। চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র বাঁধন হত্যাকাণ্ডে এমনই তথ্যের সত্যতা পেয়েছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। হত্যাকারী সম্পর্কে চাচাতো ভাই হৃদয়কে গ্রেপ্তার করার পর গত রোববার রাতে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই সময় থানায় বসে এসব কথা জানায় হৃদয়। অন্যদিকে গতকাল সোমবার হৃদয়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইদিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। চট্টগ্রামের পঞ্চম মহানগর হাকিম নাজমুল হাসান এ আদেশ দিয়েছেন। এর আগে হৃদয়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানানো হয়।

এই বিষয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, হৃদয়কে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব কিছু বেরিয়ে আসবে। তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ৩টি বিষয়কে সামনে রেখে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করবে হৃদয়কে। এর মধ্যে মোবাইলে বান্ধবীর নগ্ন ভিডিও থাকার একটি কারণ হৃদয় নিজের মুখে স্বীকার করেছে। তবে এর সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা জানতে চাইছে দুই লাখ টাকা কেন মুক্তিপণ হিসেবে চেয়েছিল সে। পাশাপাশি পারিবারিক কোনো বিরোধ ছিল কিনা হৃদয় ও বাঁধনের পরিবারের মধ্যে। নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গির আলম বলেন, এসব তথ্য আমাদের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। আশা করছি, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বললে হৃদয়ের হত্যা করার কারণ খুঁজে বের করা কঠিন হবে না। সরজমিনে গতকাল সোমবার সকালে পাহাড়তলি এলাকায় গিয়ে কথা বললে নিহত বাঁধনের বাবা ও মা দুজনেই সন্তান হত্যার বিচার দাবি করেন। এই সময় তারা জানান, পারিবারিক কোনো বিরোধ নেই তাদের সঙ্গে।

ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তাদের সন্তানকে হত্যা করেছে চাচাতো ভাই হৃদয়। বাঁধন স্থানীয় পিএইচ আমিন একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার পিতা রমজান আলী মল্লিক পাহাড়তলি থানার ফইল্যাতলী এলাকার রঙমিস্ত্রি। তিনি বলেন, জলজ্যন্ত একটি বাচ্চাকে কতগুলো ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। নেশাগ্রস্ত না হলে ওই পাষণ্ড এমন কাজ করতো না। বাঁধনের মা বেগম আক্তার বলেন, আমার ছেলে কি এমন ক্ষতি করতে পারতো। অন্তত হৃদয়কেতো হত্যা করতে পারতো না। যা সে করেছে। বেঁচে থাকার তার সব ইচ্ছে কেড়ে নিলো। আমাদের করলো সন্তান হারা। পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ৪ঠা মে স্কুলছাত্র বাঁধন নিখোঁজ হলে গত রোববার পাহাড়তলির সাগরিকায় জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পেছনের জোড়া খাল ফিরোজ আলম বাঁধনের গলিত লাশের সন্ধান পায় পুলিশ। চাচাতো ভাই হৃদয় অত্যন্ত কৌশলে গত ১৫ দিন ধরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এই জন্য সে ২০টি ঘুমের ওষুধ ফার্মেসি থেকে কিনে আনে অজ্ঞান করার জন্য।মানবজমিন

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: