সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

খালেদার সাজা হলে বিএনপির প্রধান হবেন কে?

abd (1)নিউজ ডেস্ক: খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির দুটি মামলার প্রতি সপ্তাহে শুনানি হচ্ছে। দ্রুত গতিতে মামলা এগিয়ে যাচ্ছে। আর দিন যত যাচ্ছে খালেদা জিয়ার সাজার বিষয়টি রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।

 

বিএনপি থেকে একসময় বলা হয়েছিল খালেদা জিয়ার সাজা হলে দলের দায়িত্ব নিবেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান। কিন্ত সে কথা এখন আর বলা হচ্ছে না। এবিষয়ে ৩ মে দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে এক বৈঠকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই, আর খালেদা জিয়ার যখন সাজা হবে তখন বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। দায়িত্ব নেওয়ার বিএনপিতে অনেক যোগ্য লোক আছে।

দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হলে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে যেতে হলে যৌথ নেতৃত্বে দল পরিচালনার কথাই ভাবছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। তবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির আগে দলটির অগোছালো স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে। পাশাপাশি খালেদার অনুগত এবং গতিশীল তরুণ নেতৃত্ব সৃষ্টির বিষয়টিতেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল মামলার দ্রুত গতি দেখে খালেদা জিয়ার সাজার বিষয়টি বিএনপির গ-ি পেরিয়ে বাইরেরও আলোচিত বিষয় এখন। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির সম্ভাব্য করণীয় জানতে গিয়ে দলটির নেতাদের কাছ থেকে যৌথ নেতৃত্বের ধারণাই পাওয়া গেছে। তবে এ প্রশ্নে দলীয় ফোরামে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা করেননি চেয়ারপারসন।

শত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, এসব পরিস্থিতিতে কে নেতৃত্বে থাকবেন বা কী করা উচিত হবে সেটা আগেভাগে নির্ধারণ করা যায় না। পরিস্থিতিই বলে দেবে কী করতে হবে তখন। তাঁর মতে, যৌথ বা কালেক্টিভ সিদ্ধান্তে দল পরিচালিত হতে পারে; আবার চেয়ারপারসন ইচ্ছা করলে বিশেষ কয়েকজনকে দায়িত্বও দিয়ে যেতে পারেন। তবে বিএনপির মতো এত বড় একটি দলের নেতৃত্বে সাময়িক শূন্যতা সৃষ্টি হলেও তাতে দল শেষ হয়ে যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ভিসি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়; কিন্তু তাতে মুক্তিযুদ্ধের গতি স্তব্ধ হয়নি।
স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, কারাগারে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বিএনপি চেয়ারপারসনের আগেও হয়েছে। সুতরাং ওই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিশ্চয়ই তাঁর কোনো পরিকল্পনা আছে। এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই সেনাপ্রধান বলেন, নিয়মের কথা হচ্ছে; চেয়ারপারসন দায়িত্ব পালন না করতে চাইলে, বিকল্প হিসেবে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (তারেক রহমান) রয়েছেন। যদিও তিনি লন্ডনে; কিন্তু দায়িত্ব পালনে তো কোনো বাধা নেই। তারেক রহমানের সাজা হলে ওই পরিস্থিতিতে করণীয় জানতে চাইলে মাহবুবুর রহমান বলেন, এটা এখনই বলা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি বলে দেবে কী করতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার মনে করেন, বিএনপি নেত্রীর সাজা বা তাঁকে কারাগারে নেওয়া হলে জেলখানায় বসেও তিনি নেতৃত্ব দিতে পারেন; আবার যৌথ নেতৃত্বের জন্য কয়েকজনকে দায়িত্বও দিয়ে যেতে পারেন। এটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তবে এতে কিছু যায়-আসে না। কারণ বিএনপির মতো একটি দলকে জোর করে নিঃশেষ করা যাবে না। ইতিহাস তা বলে না। সাবেক এই স্পিকার বলেন, এর আগেও খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়া হয়েছিল; কিন্তু তাতে দলের কোনো অসুবিধা হয়নি।
দলের যুগ্ম মহাসচিব মোহম্মদ শাহজাহান গণমাধ্যমকে বলেন,‘আমরা তো আশা করি আইন তার নিজস্ব গতিতে চললে ‘ম্যাডামের’ সাজা হবে না। আর সাজা হলে কী হবে সে বিষয়ে এই মুহূর্তে ধারণাভিত্তিক কিছু বলা ঠিক হবে না। কারণ বিষয়টি চেয়ারপারসনের নিজস্ব এখতিয়ার’।
এর আগে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের আগে খালেদা জিয়া কাউকে দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব দিয়ে যাননি। তবে এক-এগারো পরবর্তী জরুরি সরকারের সময় দলের মহাসচিব পদ থেকে মান্নান ভূঁইয়াকে সরিয়ে তিনি খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দিয়ে যান। আর তাঁকে সহযোগিতা করেন তৎকালীন উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আ স ম হান্নান শাহ। ওই সময় অবশ্য আদালতে খালেদা জিয়ার সাজা হয়নি। ফলে এবার যদি তাঁর সাজা হয়, সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য পদক্ষেপ কী হতে পারে তা নিয়ে দলটির মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এক-এগারো পরবর্তী জরুরি সরকার খালেদা জিয়াকে জোর করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেও সফল হয়নি। তবে অত্যন্ত টালমাটাল ওই পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের এপ্রিল মাসে হঠাৎ করেই খালেদা তাঁর ভাই মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দরকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনীত করেন। দেশের বাইরে চলে গেলে ওই সময় সাঈদ এস্কান্দরকেই দলের দায়িত্ব দেওয়া হতো বলে বিএনপি নেতারা এখনো মনে করেন।
বিএনপির গঠনতন্ত্রে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলে কোনো পদ নেই। কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাওয়ার কোনো বিধানও নেই। নেতৃত্বের গত ৩২ বছরে কারাগারে বা বিদেশে যাওয়ার সময় কখনোই খালেদা জিয়া চেয়ারপারসনের দায়িত্ব কাউকে দিয়ে যাননি। শুধু একবার এরশাদ সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তৎকালীন স্থায়ী কমিটির এক নম্বর সদস্য মির্জা গোলাম হাফিজকে তিনি ওই দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারপারসন নিজেও স্থায়ী কমিটির সদস্য। ফলে দিতে চাইলে স্থায়ী কমিটির একজনকে ওই দায়িত্ব দেওয়াই সুবিধাজনক। তবে ইচ্ছা করলে একজন ভাইস চেয়ারম্যানকেও তিনি দায়িত্ব দিতে পারেন। এ জন্যই ২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলের পর গঠিত কমিটিতে তারেক রহমানকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান করার পাশাপাশি তাঁকে আবার ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ সদস্যও করা হয়।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এককভাবে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা খালেদা জিয়ার।
চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে কী করা হবে- এ ধরনের কোনো বিধান বিএনপির গঠনতন্ত্রে নেই। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আসলে যৌথ নেতৃত্ব ছাড়া অন্য কোনো পথ চিন্তা করে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর মতে, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াই থাকবেন; কিন্তু দল পরিচালিত হবে যৌথ নেতৃত্বে। তবে এর আগে নিষ্ক্রীয় দলের স্থায়ী কমিটি থেকে বাদ দিয়ে সক্রিয় নেতাদের সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির ১৯ সদস্যের মধ্যে বার্ধ্যক্যজনিত ও অসুস্থতার কারণে অনেক শীর্ষ নেতা একেবারেই নিষ্ক্রীয়। তাঁরা হলেন এম শামসুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, সারোয়ারি রহমান প্রমুখ। সব মিলিয়ে দলের হাইকমান্ড ইচ্ছা করলে অন্তত ছয় সদস্যকে ওই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: