সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৫২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রাজনীতিকের গাড়ি ওভারটেক, বিহারে প্রাণ গেল কিশোরের

41নিউজ ডেস্ক: ভারতের বিহার রাজ্যে ১৯ বছরের এক কিশোর মহাসড়কে রাজনীতিকের গাড়ি ওভারটেক করেছিল। আর এই ‘অপরাধে’ ওই রাজনীতিকের ছেলে ও তার সহযওগীরা তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাটি শনিবার রাতে বিহারের গয়া জেলায় ঘটছে। আর অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন বিহারের শাসক দল জেডিইউ এর প্রভাবশালী এক নেতার ছেলে।

ওই কিশোরের ওপর যে গুলি চালিয়েছিল সেই রকি যাদব ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ। তবে স্থানীয় মানুষের চাপ ও সড়ক অবরোধের জেরে পুলিশ তার বাবাকে গ্রেফতার করেছে।

ভারতের রাস্তাঘাটে মন্ত্রী-সান্ত্রী-এমপিরা ট্র্যাফিক আইনের পরোয়া না করে তাদের ফোর হুইল বা এসইউভি হাঁকিয়ে ঘুরে বেড়ান এটা খুব পরিচিত দৃশ্য।

তবে এটা মোটামুটি টোল বুথে কর্মীদের মারধর করা, লালবাতি না মানা বা রাস্তার উল্টোদিক দিয়ে ভীষণ গতিতে গাড়ি চালানো- এসবেই সীমাবদ্ধ থাকে। ওভারটেক করার জন্য গাড়ি থামিয়ে কাউকে গুলি করা ‘ভারতীয় স্ট্যান্ডার্ডেও’ বেশ বিরল ঘটনা।

১৯ বছরের ছেলে আদিত্য সচদেব সদ্য দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা শেষ করেছে। সে বন্ধুদের নিয়ে তার সুইফট গাড়িতে বেড়াতে বেরিয়েছিল।

রাস্তায় সে ওভারটেক করে একটি রেঞ্জ রোভার গাড়িকে যার ভেতরে ছিলেন বিহারের জেডি-ইউ নেতা বিন্দি যাদব ও মনোরমা দেবীর ছেলে রকি যাদব। রকির সঙ্গে একটি লাইসেন্স করা রিভলভার ছিল। আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেহরক্ষীরাও ওই গাড়িতে ছিল।

আদিত্যর বন্ধুদের বিবরণ অনুযায়ী, ওভারটেক করার পরই ওই রেঞ্জ রোভার থেকে তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হতে থাকে। তারা গাড়ি থামাতে বাধ্য হয়, তখন রকি যাদব ও তার রক্ষীরা তাকে জোর করে গাড়ি থেকে নামায়।

যখন ভয়ে আদিত্য ও তার বন্ধুরা পালানোর চেষ্টা করে, তখনই রকির রিভলভার থেকে গুলি করে আদিত্যকে মেরে ফেলা হয় বলে তার বন্ধুরা জানিয়েছে।

অভিযুক্ত রকি যাদবের মা বিহারের শাসক দল জেডি-ইউয়ের নেত্রী, রাজ্যের বিধান পরিষদের সদস্যও তিনি।

রকির বাবা বিন্ধেশ্বরী প্রসাদ যাদব বা বিন্দি যাদব রাজ্যের একজন ডাকসাইটে মাফিয়া নেতা বলে পরিচিত, এর আগে দেশদ্রোহ আইনে তার জেল হয়েছে। বছর কয়েক আগে প্রচুর অবৈধ অস্ত্রশস্ত্র রাখার জন্য তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল।

বাবা-মা দুজনেই শাসক দলের খুব প্রভাবশালী নেতা। পুলিশ ঘটনার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি বলে অভিযোগ।

পরে যখন নিহত আদিত্যর পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় মানুষ বিক্ষোভ শুরু করেন ও পথ আটকে দেন, তারপরই পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। ততক্ষণে রকি যাদব ও তার সঙ্গীরা অবশ্য পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ।

গয়ার পুলিশ সুপার গরিমা মল্লিক অবশ্য জানিয়েছেন, তাদের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে রকি যাদবই আদিত্যর ওপর গুলি চালিয়েছিল। রকিকে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগে তারা তার বাবা বিন্দি যাদবকে গ্রেফতার করেছেন।

আর গোটা ঘটনায় বিহারের শাসক দল জেডি ইউ স্বাভাবিকভাবেই ঘোর অস্বস্তিতে পড়েছে। তাদের মুখপাত্র কে ডি ত্যাগী শুধু বলেছেন এই ঘটনায় যেই দোষী হোন না কেন, তাকে কোনোভাবেই আড়াল করা হবে না।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: