সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

২ পুলিশ অ্যাসল্ট মামলায় সাড়ে ৭শ আসামী : কুলাউড়া ও রাজনগরে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় ১৫ জন আহত

8এম. মছব্বির আলী : কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলায় শনিবার রাতে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ হামিদুর রহমান সিদ্দিকী পিপিএম ও পুলিশ-জনতাসহ মোট ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায়ে পুলিশ ৪জনকে আটক করেছে। ২টি পুলিশ অ্যাসল্ট মামলায় সাড়ে ৭শ জনকে আসামী করে পৃথক মামলা হয়েছে।

কুলাউড়া থানা পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, কর্মধা ইউনিয়নের রাঙ্গিছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গননা শেষে ফলাফল ঘোষনা করা হয়। এবং ৭ মে শনিবার রাত সাড়ে ৭ টায় প্রিসাইডিং অফিসার নির্বাচনের ব্যালট বাক্সসহ সরঞ্জাম নিয়ে কেন্দ্র থেকে উপজেলা নির্বাচন অফিসের আসার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সহিদ বাবুল ও তার সমর্থকরা রাঙ্গিছড়া বাজার এলাকায় প্রিসাইডিং অফিসারকে ঘেরাও করে ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ-জনতার মধ্যে ধাওয়া পাল্টা হামলায় জুড়ীর ওসিসহ ৩ পুলিশ সদস্য এবং জনতা মিলে উভয় পক্ষে ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ হামিদুর রহমান সিদ্দিকী পিপিএম, কুলাউড়া থানার কনষ্টেবল আব্দুর রহমান ও কনস্টেবল আল আমিন কুলাউড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। বাকিরা প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ফাহাদ (২০) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, হামলাকারীরা রাঙ্গিছড়া বাজারের ইসমাইল মিয়ার দোকান, গোপাল ভেরাইটিজ স্টোর, কনন ডেকোরেটার্স, হাসিম মহাজনের দোকান ও সাইক রেস্টুরেন্ট নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালায়।

এব্যাপারে কুলাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় কুলাউড়া থানার এসআই বাশার বাদী হয়ে কর্মধা ইউনিয়নের বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুস শহীদ বাবুলকে প্রধান আসামী করে ৭শ’ অজ্ঞাত আসামীর বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় মামলা করা হয়েছে।

এদিকে ৮মে রোববার বিকেলে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে রাঙ্গিছড়া বাজারে ঘটনার প্রতিবাদে এক প্রতিতবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এম এ রহমান আতিক।

এদিকে রাজনগর থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শনিবার উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের মনিয়ারপাড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডং কর্মকর্তা মোঃ বদরুল আমিন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের ফলাফল ঘোষণা করেন। ওই কেন্দ্রে মোরগ মার্কার প্রার্থী মোহাম্মদ আলীর পরাজিত হন। এসময় তার এজেন্ট খুরশেদ আলম (২৫) বাইরে গিয়ে তার প্রার্থীর পরাজিত হওয়ার খবর দিলে তারা পুনরায় ভোট গণনার জন্য প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে চাপ দেন। তিনি আবারো ভোট গণনায় রাজি না হলে মোহাম্মদ আলী ও তার লোকজন নির্বাচনী দায়িত্বশীলদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মোঃ ফরিদুল ইসলাম বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে সদর সার্কেলের এএসপি রাশেদুল হক ঘটনাস্থলে যান। এসময় পরাজিত প্রার্থীর লোকজন পুলিশের গাড়িতে ঢিল চুড়ে ভাংচুর করেন। এসময় পুলিশ পরাজিত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী (৪৫), মঞ্জুরুল আলম (২০) ও খুরশেদুল আলমকে (২৫) আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ পুলিশের এসআই পবিত্র কুমার সিংহ বাদি হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ ৫০ জনকে আসামী করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজনগর থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল আজিজ জানান, আটক ৩ জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: