সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায় স্থগিত চেয়ে আপিল

download (3)নিউজ ডেস্ক::সুপ্রিম কোর্টের বিচারক অপসারণের মতা জাতীয় সংসদের হাতে ফিরিয়ে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তা স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপ। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোতাহার হোসেন বলেন, রোববার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন জমা দেওয়া হয়।

আজ সোমবার চেম্বার আদালতে আবেদনটি শুনানির জন্য উঠতে পারে। ৫ মে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও সংবিধানপরিপন্থী বলে ঘোষণা করেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে দেওয়া এই রায়ে আদালত বলেন, সংসদের মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণের পদ্ধতি ইতিহাসের দুর্ঘটনামাত্র,যদিও এটা বিশ্বের কোনো কোনো দেশে বিদ্যমান। এতে আর বলা হয়, সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগকে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক রাখার যে বিধান রয়েছে, ষোড়শ সংশোধনী সেই বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ও মতার পৃথকীকরণ নীতির পরিপন্থী, তাই এটি সংবিধানে ৭ খ অনুচ্ছেদকেও আঘাত করে। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংসদে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিল পাস হয়। এতে বিচারপতিদের অপসারণের মতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে এনে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ৯ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল দিয়ে সরকারের কাছে জানতে চান, ষোড়শ সংশোধনী কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না। পরে গত বছরের ২১ মে রুল শুনানি শুরু হয়, গত ১০ মার্চ শুনানি শেষ হয়। রুল শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে মতামত দেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, এম আমীর-উল ইসলাম, রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও আজমালুল হোসেন কিউসি। রায় ঘোষণার পরই অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। তবে রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার জন্য চেম্বার জজের কাছে আবেদন করা হবে। সেই অনুসারে আজ চেম্বার আদালতে রায় স্থগিতের আবেদন করা হলো।

গতকাল রোববার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন জমা দেওয়া হয় জানিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, “সোমবার চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের ৯ আইনজীবীর করা একটি রিট আবেদনে দেওয়া রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের বিশেষ বেঞ্চ সংসদের মাধ্যমে বিচারক অপসারণ প্রক্রিয়াকে ‘ইতিহাসের একটি দুর্ঘটনা’ বলা হয় ওই রায়ে।রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আমরা এই রায়ে সংুব্ধ। আদালত আমাদের আপিল করার জন্য সার্টিফিকেট দিয়েছে। এখন এটি আপিল হিসেবে গণ্য হবে। এই রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে রোববারই আমরা চেম্বার আদালতে যাব। অন্যদিকে রিট আবেদনকারীপরে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, এই রায়ের ফলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণ পদ্ধতি বহাল হল।ওই রায়ের পর জাতীয় সংসদেও তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক হাই কোর্টের ওই রায়কেই সংবিধান পরিপন্থি বলেন। রায়ে ুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিচারপতিদের বেতন-ভাতার বিল সংসদে উত্থাপনের সময় ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সদস্যরা।উচ্চ আদালতের বিচারক অপসারণের মতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। বিলটি পাসের পর একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। অসদাচরণের জন্য উচ্চ আদালতের কোনো বিচারককে কীভাবে অপসারণ করা যাবে, সে প্রক্রিয়া নির্ধারণে আরেকটি আইনের খসড়ায় সম্প্রতি সম্মতি দেয় মন্ত্রিসভা।ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ৫ নভেম্বর হাই কোর্টে এই রিট আবেদন হয়। প্রাথমিক শুনানির পর হাই কোর্ট ২০১৪ সালের ৯ নভম্বর রুল দেয়। রুলে ওই সংশোধনী কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। ওই রুলের ওপর শুনানি করে আদালত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করে বলে, আমাদের বলতে দ্বিধা নেই, ষোড়শ সংশোধনী একটি কালারেবল লেজিসলেশন (কোনো কাজ সংবিধানের মধ্যে থেকে করার সুযোগ না থাকলে আইনসভা যখন ছদ্ম আবরণে ভিন্ন প্রয়োজনের যুক্তি দেখিয়ে একটি আইন তৈরি করে), যা রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ, আইন সভা থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ নীতির লঙ্ঘন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: